যেভাবে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয় মা-মেয়েকে

আরটিভি নিউজ

মঙ্গলবার, ০৯ ডিসেম্বর ২০২৫ , ১১:২৮ এএম


যেভাবে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয় মা-মেয়েকে
সংগৃহীত ছবি

আজিজুর রহমান, ঢাকার উত্তরার সানবিমস স্কুলের পদার্থবিজ্ঞানের শিক্ষক। তার গ্রামের বাড়ি নাটোর সদর উপজেলায়। ২০১২ সাল থেকে তিনি পরিবার নিয়ে ঢাকার মোহাম্মদপুরে বহুতল ভবনের অষ্টম তলায় নিজের ফ্ল্যাটে থাকেন। দীর্ঘদিন পরিবার নিয়ে সুখে-শান্তিতে বসবাস করলে সোমবার তার জীবনের সবকিছু উলটপালট হয়ে যায়। নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যা করা হয় তার স্ত্রী লায়লা আফরোজ ও তার মেয়ে নাফিসা লাওয়াল বিনতে আজিজকে।

বিজ্ঞাপন

পুলিশের ধারণা, চারদিন আগে আজিজুলের বাসায় অস্থায়ী গৃহকর্মী হিসেবে কাজে যোগ দেওয়া আয়েশা এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত। সিসিটিভি ফুটেজেও গৃহকর্মী আয়েশাকে খুনের দিন (সোমবার) সকাল ৭টা ৫২ মিনিটে কালো বোরকা পরে ওই বাসায় প্রবেশ করতে দেখা দেখে। এরপর ৯টা ৩৬ মিনিটে স্কুলড্রেস পরে কাঁধে ব্যাগ ঝুলিয়ে তাকে বেরিয়ে যেতে দেখা যায়। ঘটনার পর থেকে ওই গৃহকর্মী পলাতক।

গৃহকর্তা আজিজুলের দেওয়া তথ্যমতে, প্রতিদিনের মতো সোমবার সকাল ৭টার দিকে স্কুলের উদ্দেশে বাসা থেকে বেরিয়ে যান তিনি। স্কুলে পরীক্ষা চলমান থাকায় বাসায় ফেরেন তাড়াতাড়ি। ১১টার পরে বাসায় এসে প্রথমে মেয়ের রক্তাক্ত মরদেহ দেখতে পান। পরে রান্নাঘরে গিয়ে দেখেন রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে আছেন তার স্ত্রী।

বিজ্ঞাপন

download

পুলিশের একটি সূত্রে জানায়, হত্যাকান্ডের ঘটনার পর বাসা তল্লাশি করে বাথরুমে একটি চাইনিজ সুইচ গিয়ার ও একটি ধারালো চাকু পাওয়া যায়। ধারণা করা হচ্ছে, ওই ছুরি দুটি দিয়ে মা-মেয়েকে হত্যা করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

দুজনের সুরতহালে দেখা যায়, নিহত আফরোজার শরীরজুড়ে ৩০টি জখমের চিহ্ন। আর তার মেয়ে নাফিসা বিনতে আজিজ (১৫) গলায় চারটি গভীর আঘাতের ক্ষত।

এরমধ্যে আফরোজার বাম গালে ৩টি, থুতনিতে ৪টি, গলার নিচে বাম পাশে ৫টি, বাম হাতে ৩টা, বাম হাতের কব্জিতে ১টি, ডান হাতের কব্জিতে ২টি, বুকের বাম পাশে ৯টি, পেটের বাম পাশে ২টা ও তলপেটের নিচে একটি জখমের চিহ্ন পাওয়া গেছে।

বিজ্ঞাপন

অপর দিকে নাফিসার বুকের দুই পাশে ৪টি গভীর ক্ষতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। ধারালো ছুরিকাঘাতে ফলে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হওয়ায় দুজনের মৃত্যু হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, এমন সুরতহাল সাম্প্রতিক সময়ে তারা দেখেননি। হত্যার ধরন ও নৃশংসতা দেখে ঘাতককে প্রশিক্ষিত বলে ধারণা করছেন তারা।

পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের উপ কমিশনার ইবনে মিজান বলেছেন,  আমরা প্রাথমিকভাবে কিছু তথ্য পেয়েছি, সেসব যাচাই বাছাই চলছে। সিসি ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ করছি, হত্যার আগে পরে তার উপিস্থিতি ও অ্যাকটিভিটিজ বিশ্লেষণ করে পরবর্তি তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যাব।

আরটিভি/আরএ

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps
বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission