রাজধানীর হাজারীবাগে স্কুলছাত্রী শাহরিয়ার শারমিন বিন্তিকে (১৪) ছুরিকাঘাতে হত্যার ঘটনায় সিয়াম নামে অভিযুক্ত যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময় হত্যায় ব্যবহৃত ছুরি ও রক্তমাখা জামাও উদ্ধার করা হয়।
বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) ভোরে রাজধানীর কাঁঠালবাগান এলাকা থেকে ওই যুবককে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
এর আগে গত বুধবার রাত ৯টার দিকে হাজারীবাগ রায়েরবাজারে বাসার সামনে ঘটনাটি ঘটে। মুমূর্ষু অবস্থায় স্বজনরা তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক রাত সোয়া ১০টার দিকে মৃত ঘোষণা করেন।
হাসপাতালে নিহত বিন্তির বাবা বেল্লাল হোসেন জানান, তাদের বাসা রাযেরবাজার হায়দার হোটেলের গলিতে। বিন্তি রায়েরবাজার উচ্চবিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। দুই সন্তানের মধ্যে বিন্তি ছিল বড়।
তিনি বলেন, রাতে বিন্তি তার ছোট ভাই নাবিলের সঙ্গে বাইরে যায়। এর কিছুক্ষণ পর বাসার নিচে হইচই শুনে নিচে নেমে দেখি কে বা করা আমার মেয়ে বিন্তিকে কুপিয়ে ফেলে রেখে গেছে। দ্রুত তাকে সেখান থেকে শিকদার মেডিকেলে নিয়ে যাই। সেখান থেকে ঢাকা মেডিকেলে নেওয়ার পর মারা যায় সে।
হাসপাতালে বিন্তির মা নাদিয়া বেগম বলেন, রাত ৮টার দিকে বিন্তি আর তার ভাই নাবিলের সঙ্গে নিচে নামে। কাঁচা তরকারি কিনে তার বোন বাসার নিচে দিয়ে মসজিদে চলে যায়। হইচই শুনে নিচে নেমে দেখি আমার মেয়েকে ঘিরে অনেকেই দাঁড়িয়ে আছে। সেখানে স্থানীয় অনেকেই বলে বিন্তি বলছিল, সিয়াম নামে এক যুবক তাকে কুপিয়েছে।
তার মা আরও বলেন, তিন-চার বছর আগে থেকে সিয়াম মোবাইলে ডিস্টার্ব করত বিন্তিকে। একদিন আমি সিয়ামকে মোবাইলে বকাবকি করি। আজকে আমার মেয়েকে কুপিয়ে মেরে ফেলেছে। আমি আমার মেয়ে হত্যার বিচার চাই। খুনি সিয়ামের ফাঁসি চাই।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ (পরিদর্শক) মো. ফারুক গণমাধ্যমকে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, নিহতের কাঁধে ও পিঠে একাধিক জখম রয়েছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে রাখা হয়েছে। ঘটনাটি হাজারীবাগ থানা পুলিশ তদন্ত করছে।
আরটিভি/এমএইচজে




