এক সময় রমজানের শেষরাতে পুরান ঢাকার অলিগলি মুখর থাকতো কাসিদার সুরে। সময়ের পরিবর্তনে বিলুপ্ত প্রায় শত শত বছরের এই সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে ঢাকা-৭ উন্নয়ন ও বাস্তবায়ন ফোরাম আয়োজন করলো কাসিদা প্রতিযোগিতা, যাতে অংশ নেয় রাজধানীর বেশ কয়েকটি কাসিদা শিল্পী সংগঠন। যারা ধর্মীয় আবহে পরিবেশন করে ঐতিহ্যবাহী কাসিদা।
রমজানের রাত আর পুরান ঢাকার সংস্কৃতি, এই দুইয়ের মিলনে একসময় প্রাণ ফিরে পেতো কাসিদার আসরে। সেই হারিয়ে যেতে বসা ঐতিহ্যকে আবারও ফিরিয়ে আনতেই এই প্রতিযোগিতা।
রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা প্রতিযোগীরা অংশ নেন এই আয়োজনে। সুমধুর কণ্ঠে ধর্মীয় সুরে গাওয়া কাসিদা শুনতে ভিড় করেন পুরান ঢাকার বাসিন্দারা।
এসময় হারিয়ে যেতে বসা পুরান ঢাকার ঐতিহ্য পুনরুদ্ধারে কাজ করার অঙ্গীকার করেন আয়োজক কমিটির সভাপতি রোটারিয়ান নিজাম উদ্দিন বলেন, হারিয়ে যেতে চলা এই সংস্কৃতি আগামী প্রজন্মের কাছে নতুন করে জানান দিতে এবারের আয়োজন। পর্যায়ক্রমে এটির পরিধি আরো বড় করার পরিকল্পনা রয়েছে।
অন্যতম আয়োজক কুশল ইয়াসির জানান, পৃথিবীতে একমাত্র মানুষই হলো সংস্কৃতিবান প্রাণী। ঐতিহ্য ধরে রাখতে ঢাকার সংস্কৃতি ধারণ ও লালনের ওপর সর্বাধিক গুরুত্বারোপ করা উচিৎ।
প্রতিটি সমাজের নিজস্ব কৃষ্টি ও সংস্কৃতি রয়েছে। সেই ঐতিহ্যকে ধরে রাখা সবার দায়িত্ব বলে মন্তব্য করেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ও প্রতিযোগিতার প্রধান অতিথি আব্দুস সালাম। তিনি বলেন, পুরান ঢাকার কাসিদা প্রতিযোগিতা, ঘুড়ি উৎসব, নৌকা বাইচের মতো আয়োজনগুলো হারাতে বসেছে। সেগুলো নিয়মিত আয়োজনের করা আমাদের লক্ষ্য।
এদিকে পুরান ঢাকার সন্তান হিসেবে ছোট থেকে কাসিদা প্রতিযোগিতা দেখে বড় হয়েছেন ঢাকা ৭ আসনের সংসদ সদস্য হামিদুর রহমান হামিদ। নিয়মিত এমন আয়োজন করার ইচ্ছা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সুস্থ বিনোদনের অনেক মাধ্যম রয়েছে। পুরান ঢাকার বাসিন্দারা আমাকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত করেছেন। তাদের জন্যই আমরা বিশেষ আয়োজনগুলোকে প্রাধান্য দিতে চাই। ঈদ আনন্দ মিছিল তার মধ্যে অন্যতম।
নিয়মিত এমন আয়োজনের মাধ্যমে পুরান ঢাকার ঐতিহ্য লালন করার পরিকল্পনা সংশ্লিষ্টদের।
আরটিভি/এআর





