রামিসার জন্য কাঁদল সহপাঠীরাও, বাবার আর্তনাদে অশ্রুসিক্ত সবাই

আরটিভি নিউজ

বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬ , ১০:৩৪ পিএম


রামিসার জন্য কাঁদল সহপাঠীরাও, বাবার আর্তনাদে অশ্রুসিক্ত সবাই
মেয়ের শ্রেণিকক্ষে সহপাঠীদের জড়িয়ে কাঁদছেন অসহায় বাবা আবদুল হান্নান মোল্লা : ছবি সংগৃহীত

ছোট্ট শিশু রামিসা এরই মধ্যে মাটির নিচে চিরনিদ্রায় শায়িত হয়েছে। তবু মেয়ের না ফেরার সত্য বাবার মন এখনো মানতে পারছে না। মেয়েকে দাফন করে ঢাকায় ফিরে বৃহস্পতিবার (২১ মে) মিরপুরের পপুলার মডেল স্কুলে যান আবদুল হান্নান মোল্লা। সেখানে দ্বিতীয় শ্রেণির সেই শ্রেণিকক্ষে গিয়ে সহপাঠীদের মাঝে যেন নিজের মেয়েকেই খুঁজছিলেন তিনি।

ছোট ছোট শিক্ষার্থীদের দেখে হাউমাউ করে কেঁদে ওঠেন বাবা। তার কান্নায় অশ্রুসিক্ত হয়ে পড়ে রামিসার সহপাঠীরাও।

রাজধানীর পল্লবীতে ৮ বছরের শিশু রামিসা আক্তারকে মঙ্গলবার (১৯ মে) হত্যা করা হয়। গ্রেপ্তার আসামি সোহেল রানার জবানবন্দি অনুযায়ী, হত্যার আগে রামিসাকে ধর্ষণ করা হয়।

বুধবার (২০ মে) রাত ৯টার দিকে মুন্সীগঞ্জের সিরাজদীখান উপজেলার ইছাপুরা ইউনিয়নের মধ্যম শিয়ালদী গ্রামে এশার নামাজ শেষে রামিসার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে পারিবারিক কবরস্থানে দাদা-দাদির কবরের পাশে তাকে দাফন করা হয়।

আরও পড়ুন

মেয়েকে দাফন শেষে ঢাকায় ফিরে বৃহস্পতিবার মেয়ের স্কুলে যান আবদুল হান্নান মোল্লা। সেখানে রামিসার সহপাঠীদের সঙ্গে কিছুক্ষণ সময় কাটান তিনি। শ্রেণিকক্ষে মেয়ের অনুপস্থিতি আর ছোট্ট বন্ধুদের মুখ দেখে নিজেকে সামলাতে পারেননি তিনি। বাবার কান্নায় ভেঙে পড়ে রামিসার সহপাঠীরাও। তারা বাবাকে ঘিরে ধরে কাঁদতে থাকে।

এর আগে বুধবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এক ভিডিওতে বিচারব্যবস্থার ওপর তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করতে দেখা যায় আবদুল হান্নান মোল্লাকে। নিজের মেয়ে হত্যার বিচার চান না জানান। 

তিনি বলেন, আমি বিচার চাই না, কারণ আপনারা বিচার করতে পারবেন না। আপনাদের বিচার করার কোনো রেকর্ড নেই।

তিনি আরও বলেন, আপনারা বিচার করতে পারবেন না। আমার মেয়েও আর ফিরে আসবে না। আপনাদের বিচারের কোনো উদাহরণ নেই। এটা বড়জোর ১৫ দিন চলবে, আবার কোনো ঘটনা ঘটবে। এরপর এটা ধামাচাপা পড়ে যাবে।

রামিসা হত্যাকাণ্ডে মামলা করেছেন তার বাবা। ঘটনার দিন সন্ধ্যায় সোহেল রানাকে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরদিন ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাঈদের আদালতে তিনি ধর্ষণ ও হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দেন। পরে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।

এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে সোহেলের স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে ঢাকার আরেক মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. আশরাফুল হকের আদালত কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

সোহেল রানাকে জিজ্ঞাসাবাদের সঙ্গে জড়িত পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, রামিসাকে ধর্ষণ ও হত্যার সময় ঘরের একটি কক্ষে স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে আটকে রেখেছিলেন সোহেল। পরে মরদেহ টুকরা করে গুমের প্রস্তুতির সময় রামিসার স্বজন ও প্রতিবেশীরা দরজা ভেঙে ঘরের ভেতরে ঢুকে পড়েন। এ সময় জানালার গ্রিল ভেঙে পালিয়ে যান সোহেল ও তার আরেক সহযোগী। পরে স্থানীয়রা স্বপ্নাকে আটক করে পুলিশের হাতে তুল দেন।

আরটিভি/এমএম

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps

Loading...

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission