পরকীয়ার জেরে প্রবাসী খুন, আবর্জনার স্তূপ থেকে খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার

আরটিভি নিউজ

বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬ , ১০:৩৮ পিএম


পরকীয়ার জেরে প্রবাসী খুন, আবর্জনার স্তূপ থেকে খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার
আটক প্রেমিকা তাসলিমা বেগম ওরফে হাসনা।। ছবি : সংগৃহীত

রাজধানীর মুগদা এলাকায় সৌদিপ্রবাসী মোকাররম মিয়াকে (৪০) হত্যার পর লাশ আট টুকরা করার মামলায় তার প্রেমিকা তাসলিমা বেগম ওরফে হাসনা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। একই মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া সন্দেহভাজন অন্য আসামি আব্দুল মতিন দেওয়ান ওরফে এ আর দেওয়ানকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।

বৃহস্পতিবার (২১ মে) মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মুগদা থানার উপপরিদর্শক এনামুল হক মিঠু আসামিদের ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতে হাজির করেন। তাসলিমা স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তি দিতে রাজি হওয়ায় তার জবানবন্দি রেকর্ড করার এবং আব্দুল মতিনকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা।

আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট দিলরুবা আফরোজ তিথি আসামি তাসলিমার জবানবন্দি রেকর্ড করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। অন্যদিকে, মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট রাজু আহমেদ অন্য আসামি আব্দুল মতিনকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

প্রসিকিউশন বিভাগের এএসআই মনিরুজ্জামান এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।

আদালত পুলিশ জানায়, বুধবার (২০ মে) তাসলিমাকে নরসিংদী এবং আব্দুল মতিনকে যাত্রাবাড়ীর শনিরআখড়া এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এর আগে মঙ্গলবার (১৯ মে) তাসলিমার বান্ধবী হেলেনা বেগম আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। হেলেনার মেয়ে অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় তাকে গাজীপুরের কোনাবাড়ী কিশোরী উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে।

র‌্যাব ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত মোকাররম মিয়ার বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়ায়। সেখানে তাসলিমা বেগমের সঙ্গে তার পরকীয়া সম্পর্ক গড়ে ওঠে। গত ১৩ মে মোকাররম সৌদি আরব থেকে দেশে ফিরে সরাসরি মুগদার মান্ডা এলাকায় তাসলিমার বান্ধবী হেলেনা বেগমের ভাড়া বাসায় ওঠেন। মোকাররমের আসার খবর পেয়ে তাসলিমাও ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে ওই বাসায় আসেন। সেখানে তাদের বিয়ে ও আর্থিক লেনদেন নিয়ে বাগ্‌বিতণ্ডা হয়।

এর আগে গত সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাব-৩-এর স্কোয়াড্রন লিডার মো. সাইদুর রহমান জানান, পরকীয়ার সম্পর্কের জেরে মোকাররম ও তাসলিমার মধ্যে আর্থিক লেনদেন হয়েছিল। মোকাররমের কাছে কিছু ‘আপত্তিকর’ ছবি ও ভিডিও ছিল। মান্ডার বাসায় তাসলিমা বিয়ে করতে রাজি না হওয়ায় মোকাররম তার দেওয়া ৫ লাখ টাকা ফেরত চান এবং ছবি-ভিডিও প্রকাশ করার হুমকি দেন। এ ছাড়া হেলেনা অভিযোগ করেছেন তার ১৩ বছরের মেয়েকে মোকাররম ধর্ষণের চেষ্টা করেছিলেন।

আরও পড়ুন

র‌্যাব জানায়, এসবের জেরে তাসলিমা ও হেলেনা মিলে মোকাররমকে হত্যার পরিকল্পনা করেন। গত ১৪ মে সকালে খাবারের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে প্রথমে তাকে বালিশচাপা দিয়ে হত্যার চেষ্টা করা হয়। পরে ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে হাতুড়ি ও বটি দিয়ে আঘাত করে তার মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়। এরপর লাশ বাথরুমে নিয়ে আট টুকরা করে পলিথিন ও বস্তায় ভরে রাতে বাসার কাছের একটি আবর্জনার স্তূপে ফেলে দেওয়া হয়। আর মাথাটি ফেলে আসা হয় কিছুটা দূরে।

হত্যাকাণ্ডের পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক দেখাতে আসামিরা পরদিন বাসার ছাদে আড্ডা ও খাবারের আয়োজনও করেছিলেন বলে জানায় র‌্যাব।

গত শনিবার মরদেহ থেকে দুর্গন্ধ ছড়ালে স্থানীয় লোকজন জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ কল দেন। পরে পুলিশ এসে লাশ উদ্ধার করে এবং আঙুলের ছাপ পরীক্ষার মাধ্যমে মোকাররমের পরিচয় নিশ্চিত করে। গত রোববার রাতে হেলেনা ও তার মেয়েকে গ্রেপ্তারের পর নিহতের মাথার অংশ উদ্ধার করা হয়।

এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মোকাররমের চাচা রফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে সোমবার মুগদা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

আরটিভি/এসকেডি

 

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps

Loading...

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission