সাতসকালে বিশ্বের ১২৭টি নগরীর মধ্যে ঢাকার বায়ুদূষণের অবস্থান নবম। সবশেষ বায়ুর মান সূচক অনুযায়ী, শহরটির বাতাস সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর পর্যায়ে রয়েছে।
আইকিউএয়ারের এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স (এএকিউআই) অনুযায়ী, মঙ্গলবার (৩০ জুন) সাতসকালে ঢাকার স্কোর ১১৫। এই স্কোর অনুযায়ী, বায়ুর মান সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এ সময় বিশ্বের দূষিত শহরগুলোর তালিকায় ঢাকার অবস্থান নবম।
বিশেষজ্ঞদের মতে, যানবাহনের ধোঁয়া, নির্মাণকাজের ধুলাবালি, ইটভাটা এবং শিল্পকারখানার নির্গমন ঢাকার বায়ুদূষণের প্রধান উৎস। তাদের ভাষ্য, এসব উৎস থেকে দূষণ কমাতে কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে বায়ুর মানে টেকসই উন্নতি সম্ভব নয়। তাই সাময়িক উন্নতির চেয়ে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণই দূষণ নিয়ন্ত্রণে সবচেয়ে জরুরি।
এদিকে, একই সময়ে দূষিত শহরের তালিকায় ১৭১ স্কোর নিয়ে শীর্ষে রয়েছে পাকিস্তানের লাহোর শহর। এ ছাড়া, ১৬৭ স্কোর নিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোর রাজধানী কিনশাসা, সমান স্কোর নিয়ে পরের অবস্থানে রয়েছে ইন্দোনেশিয়ার রাজধানী জাকার্তা, ১৫৭ স্কোর নিয়ে চতুর্থ অবস্থানে রয়েছে উগান্ডার রাজধানী কাম্পালা এবং পঞ্চম অবস্থানে থাকা সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই শহরের স্কোর ১৫৬।
আইকিউএয়ারের স্কোর শূন্য থেকে ৫০ ভালো হিসেবে বিবেচিত। ৫১ থেকে ১০০ মাঝারি হিসেবে গণ্য করা হয়, আর সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর বিবেচিত হয় ১০১ থেকে ১৫০ স্কোর। স্কোর ১৫১ থেকে ২০০ হলে তাকে ‘অস্বাস্থ্যকর’ বায়ু বলে মনে করা হয়।
এ ছাড়া, ২০১ থেকে ৩০০-এর মধ্যে থাকা স্কোরকে ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’ বলা হয়। এ অবস্থায় শিশু, প্রবীণ এবং অসুস্থ রোগীদের বাড়ির ভেতরে এবং অন্যদের বাড়ির বাইরের কার্যক্রম সীমাবদ্ধ রাখার পরামর্শ দেয়া হয়ে থাকে। ৩০১ থেকে ৪০০-এর মধ্যে থাকা স্কোর ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ বলে বিবেচিত, যা নগরের বাসিন্দাদের জন্য গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করে।
নগরবাসীর জন্য পরামর্শ
আজ ঢাকার যে বায়ুমান, তার পরিপ্রেক্ষিতে নগরবাসীর জন্য কিছু পরামর্শ দিয়েছে আইকিউএয়ার। এর মধ্যে আছে ঘরের বাইরে গেলে অবশ্যই মাস্ক পরে যেতে হবে, জানালা বন্ধ রাখতে হবে, ঘরের বাইরে ব্যায়াম যতটুকু সম্ভব এড়িয়ে যেতে হবে। আর যেসব এলাকায় বায়ুর মান অস্বাস্থ্যকর, সেসব এলাকায় অবশ্যই বাড়ির বাইরে গেলে মাস্ক পরতে হবে।
আরটিভি/এমএ




