পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় ধানিশাফা ইউনিয়নে ছাত্রদলের ইফতার মাহফিলের ব্যানারে নিজের নাম এবং ছবি না দেখে ক্ষুব্ধ হন পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমিন দুলাল। একপর্যায়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের ছবিসহ টানানো ব্যানার ছিঁড়ে ফেলেন তিনি। এতে করে ইফতার অনুষ্ঠানে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
গতকাল বুধবার (২৭ এপ্রিল) বিকেলে মঠবাড়িয়া উপজেলার ধানিশাফা ইউনিয়নে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সুস্থতায় দোয়া ও ইফতার অনুষ্ঠানে এই ঘটনা ঘটে। ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে পিরোজপুর-৩ (মঠবাড়িয়া) আসনে বিএনপির হয়ে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করেন রুহুল আমিন দুলাল।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ধানিশাফা ইউনিয়নের ইফতার মাহফিলে যোগ দেন রুহুল আমি দুলাল। মঞ্চে বসে পেছনে তাকিয়ে দেখেন ব্যানারে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের ছবি আছে। কিন্তু তার নেই। পরে তিনি উত্তেজিত হয়ে জানতে চান, ব্যানার কে তৈরি করেছে। এ সময় অকথ্য ভাষায় গালাগাল করেন। একটা পর্যায়ে ব্যানার ছিঁড়ে ফেলেন। পরে অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করেন। একজন উপজেলা সিনিয়র নেতার এমন আচরণে বিব্রত হয়েছেন উপস্থিত মেহমানরা।
এ ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে যায়। বিএনপি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা জানান, একজন উপজেলা পর্যায়ের সিনিয়র নেতার থেকে এমন ঘটনা অপ্রত্যাশিত। যেই ব্যানারে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার নাম এবং ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের ছবি রয়েছে সেটা তিনি ছিঁড়তে পারেন না।
একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, মঠবাড়িয়া উপজেলায় ছাত্রদলের কমিটি তার মনমতো না হওয়ায় সিনিয়র নেতাদের নিয়ে অশ্লীল বাক্য উচ্চারণ করে গালিও দিয়েছেন। যারা কমিটিতে পদ পেয়েছেন তাদের মঠবাড়িয়ার রাজনীতি বাদ দিয়ে ঢাকায় রাজনীতি করতে বলেছেন। হুমকি দিয়েছেন, তাদের মঠবাড়িয়া রাজনীতি করতে কোনো ধরনের সহযোগিতা করবেন না।
যুবদলের কমিটি নিয়েও তার বিরুদ্ধে বিস্তর অভিযোগ রয়েছে। কেন্দ্রীয় যুবদলের দপ্তর সূত্র জানা গেছে, মঠবাড়িয়ায় যুবদলের কমিটি গঠনের প্রক্রিয়ায় যারা দল করেন না এবং দীর্ঘদিন প্রবাসে রয়েছেন এমন ব্যক্তিদের নাম দিয়েছেন।
স্থানীয়রা জানায়, প্রবাসীদের থেকে তিনি নির্বাচনসহ বিভিন্ন সময়ে চাঁদা নেন। মঠবাড়িয়ায় বিএনপির হয়ে নির্বাচন করার মানসিকতা নিয়ে এসেছিলেন জিয়াউল ফারুক তালুকদার। তার পরিবারের সূত্রে জানা যায়, ছলছাতুরি করে তার থেকে মোটা অংকের অর্থ নিয়েছেন রুহুল আমিন দুলাল।
২০০৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে বিএনপির হয়ে নির্বাচন করা কর্নেল শাহজাহান মিলনকে হারাতে গোপন আঁতাত করার অভিযোগও রয়েছে দুলালের বিরুদ্ধে।




