ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩

উপকারী দাঁড়াশ সাপ হত্যা করে ফেসবুকে পোস্ট, সমালোচনার ঝড়

মাধবপুর (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ০৮ মার্চ ২০২৬, ০৩:২৬ পিএম
দাঁড়াশ সাপের পুরনো ছবি

হবিগঞ্জের মাধবপুরে উপকারী ও নির্বিষ একটি দাঁড়াশ সাপ হত্যা করে তার ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট করার ঘটনায় তীব্র সমালোচনার ঝড় উঠেছে। এ নিয়ে বন্যপ্রাণীপ্রেমী ও সচেতন মহলের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে।

রোববার (৮ মার্চ) উপজেলার ধর্মঘর ইউনিয়নের মেহেরগাঁও গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গ্রামের কয়েকজন যুবক প্রায় ৭ থেকে ৯ ফুট লম্বা একটি দাঁড়াশ সাপ পিটিয়ে হত্যা করে। পরে শাহ আলম হৃদয় নামে এক যুবক সাপের ছবিসহ ঘটনাটি ফেসবুকে পোস্ট করেন। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিভিন্ন মহলে সমালোচনা শুরু হয়।

হবিগঞ্জের বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ কর্মকর্তা সাবরিনা শিমু বলেন, এভাবে নির্বিষ সাপ হত্যা করা দণ্ডনীয় অপরাধ। বিষয়টি তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ ধরনের ছবি প্রকাশ করাও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইনের পরিপন্থী।

তবে ফেসবুকে ছবি পোস্ট করা শাহ আলম হৃদয় জানান, সাপটি তিনি হত্যা করেননি। তিনি শুধু ঘটনাটি ফেসবুকে প্রকাশ করেছেন। তার দাবি, প্রথমে তিনি এটিকে বিষধর সাপ মনে করেছিলেন, পরে জানতে পারেন এটি দাঁড়াশ সাপ।

Capture

স্বেচ্ছাসেবী বন্যপ্রাণী সংগঠন পাখি প্রেমিক সোসাইটির যুগ্ম আহ্বায়ক বিশ্বজিৎ পাল বলেন, দাঁড়াশ সাপ কৃষকের বন্ধু হিসেবে পরিচিত। এরা ইঁদুর খেয়ে কৃষকের ফসল রক্ষা করে এবং পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই এ ধরনের উপকারী সাপ হত্যা করা পরিবেশ ও কৃষির জন্য ক্ষতিকর এবং বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইনে দণ্ডনীয় অপরাধ।

এদিকে দাঁড়াশ সাপ সম্পর্কে জানতে চাইলে বাংলাদেশ বন বিভাগের বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ কর্মকর্তা ও তরুণ বন্যপ্রাণী গবেষক জোহরা মিলা জানান, দাঁড়াশ নির্বিষ সাপ। এটি সমান দক্ষতায় গাছে উঠতে, সাঁতার কাটতে বা দ্রুত ছুটতে সক্ষম। এ প্রজাতির সাপের মধ্যে লড়াই বাঁধলে এরা পরস্পরের দেহকে পেঁচিয়ে ঊর্ধ্বমুখী উঠতে থাকে। এ সময় দারুণ দৃশ্যের অবতারণা হয়। বিষয়টি সাপের যুদ্ধ নাচ (combat dance) নামে পরিচিত। সাপটির পোষ মানার রেকর্ডও রয়েছে।

আরও পড়ুন

তিনি বলেন, দাঁড়াশ সাপের লেজের কাঁটায় বিষ আছে এবং লেজের আঘাতে মানুষ মারা যায় এমন কথা শোনা যায়। এটি সম্পূর্ণ গুজব। এ ছাড়া সাপটি রাতে গাভীর বাট চুষে দুধ খায় বলেও একটি ভুল ধারণা প্রচলিত আছে। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে এই সাপ ইঁদুর, ছুঁচো ও ব্যাঙ খেয়ে কৃষকের উপকার করে। তাই সাপটিকে কৃষকের বন্ধু বলা হয়। আসলে দাঁড়াশ খুবই নিরীহ প্রকৃতির সাপ। সাধারণত কাউকে কামড়ায় না। তাছাড়া বিষ না থাকায় কামড় দিলেও কোনো ক্ষতি হয় না।

মৃত সাপের ছবি দেখে দুঃখ প্রকাশ করে জোহরা মিলা বলেন, ইঁদুর প্রতিবছর হাজার কোটি টাকার ফসল নষ্ট করে। শুধু এই সাপটি বাঁচিয়েই ইঁদুরের বিশাল ক্ষতি থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব। কিন্তু মানুষের ভুল ধারণার কারণেই উপকারী এই সাপটি হারিয়ে যেতে বসেছে। কৃষকের একান্ত উপকারী বন্ধু হিসেবে সাপটি রক্ষায় আমাদের এগিয়ে আসা উচিত। বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরপত্তা) আইন-২০১২ এর তফসিল-১ অনুযায়ী সাপটি সংরক্ষিত। তাই এটি হত্যা বা এর কোনো ক্ষতি করা দণ্ডনীয় অপরাধ।

আরটিভি/আইএম

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
বগুড়ায় মাইক্রোবাস-ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে দুইজনের মৃত্যু, আহত ৭
বগুড়ার শাজাহানপুরে মাইক্রোবাস ও ভুট্টাবাহী ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে দুজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও সাতজন।
বগুড়ায় মাইক্রোবাস-ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে দুইজনের মৃত্যু, আহত ৭
মিষ্টি খেয়ে যে কারণে হাজতে যেতে হলো কিশোরকে
পকেটে টাকা নেই, অথচ পেটে প্রচণ্ড ক্ষুধা। যশোর রেলস্টেশনে এক পথচারীর খাবারের প্যাকেট দেখে ক্ষুধার তাড়নায় সেটি কেড়ে নেয় কিশোর নূর মোহাম্মদ। প্যাকেট খুলে ভাতের বদলে মিষ্টি পেয়ে কয়েকটি খেয়েও ফেলে সে। এরপর সেই কয়েকটি মিষ্টিই তাকে নিয়ে যায় মারধর, পুলিশ, আদালত হয়ে এক রাতের হাজতবাসের পথে।
মিষ্টি খেয়ে যে কারণে হাজতে যেতে হলো কিশোরকে
রিকশাচালক থেকে যেভাবে ‘হ্যাকিং গুরু’ হয়ে ওঠেন ওহিদুল 
রাজমিস্ত্রির সহকারী থেকে রিকশাচালক। এরপর হঠাৎ রিকশা ছেড়ে হ্যাকিংয়ে জড়িয়ে পড়া। মাত্র পাঁচ বছরে বদলে যায় নাটোরের লালপুরের ওহিদুল মোল্লার জীবনযাত্রা।
রিকশাচালক থেকে যেভাবে ‘হ্যাকিং গুরু’ হয়ে ওঠেন ওহিদুল 
অবৈধভাবে যৌন উত্তেজক ওষুধ বানাতেন এই এনসিপি নেতা
ফরিদপুরে অবৈধভাবে যৌন উত্তেজক ওষুধ, শিশুদের বেবি জেলসহ বিভিন্ন ধরনের সামগ্রী তৈরির অভিযোগে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) এক নেতাকে ছয় মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। একই সঙ্গে তাকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। দণ্ডপ্রাপ্ত মো. বায়েজিদ হোসেন শাহেদ (৪০) এনসিপির ফরিদপুর জেলা কমিটির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক। তিনি জেলার আলফাডাঙ্গা উপজেলার বাসিন্দা হলেও বর্তমানে ফরিদপুর শহরের গোয়ালচামট এলাকায় বসবাস করেন। ওই এলাকায় তার মালিকানাধীন মেসার্স জনতা ল্যাবরেটরিজ কারখানা রয়েছে। ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক ও জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ইনসানা তানজীন ইকো জানান, মঙ্গলবার রাতে কারখানাটিতে অভিযান চালানো হয়। অভিযানে অবৈধভাবে বিভিন্ন ধরনের ওষুধ ও সামগ্রী উৎপাদনের প্রমাণ পাওয়ায় বায়েজিদ হোসেন শাহেদকে ছয় মাসের কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। পরে তাকে ফরিদপুর জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে। ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০২২ সালের সেপ্টেম্বর থেকে কারখানাটি অবৈধভাবে পরিচালিত হয়ে আসছিল। সেখানে শিশুদের বেবি জেল, বিভিন্ন ধরনের যৌন উত্তেজক ওষুধসহ বিপুল পরিমাণ আয়ুর্বেদিক ওষুধ তৈরি করা হতো। অভিযানের সময় কারখানা থেকে বিপুল পরিমাণ অবৈধ ওষুধ উদ্ধার ও জব্দ করা হয়। অত্যাবশ্যকীয় পণ্য নিয়ন্ত্রণ আইনের সংশ্লিষ্ট ধারা লঙ্ঘনের অভিযোগে এ অভিযান পরিচালনা করা হয় বলে জানিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ বিষয়ে এনসিপির ফরিদপুর জেলা কমিটির সদস্যসচিব সাইফ হাসান খাঁন বলেন, অন্যায়ের সঙ্গে আমাদের আপস নেই। দলের কোনো সদস্য অন্যায় করলে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে কেন্দ্রকে জানানো হবে। আরটিভি/এসকে
অবৈধভাবে যৌন উত্তেজক ওষুধ বানাতেন এই এনসিপি নেতা
বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ৫১০ পরিবার পাবে দেড় কোটি টাকা
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টায় বাঁশখালী উপজেলার বাহারছড়া ইউনিয়ন পরিষদ প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এ সহায়তার অর্থ বিতরণ করা হবে। 
বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ৫১০ পরিবার পাবে দেড় কোটি টাকা
আরও পড়ুন
বাহুবল মডেল মসজিদের নির্মাণকাজ বন্ধ!
৩ বছর ধরে অচল ৫ কোটি টাকার পানি প্রকল্প
‘রাস্তাত গেলে শইল ব্যথা থাকে তিন বেলা, ভোট গেলেগা কেউ উক্কি মারে না’
‘জলে কুমির, ডাঙায় বাঘ’ এই পল্লী বিদ্যুৎ কর্মকর্তা