মেয়ের জামাইয়ের হাতে শাশুড়ি খুন, গ্রেপ্তার ২

টাঙ্গাইল প্রতিনিধি, আরটিভি নিউজ

সোমবার, ৩০ জুন ২০২৫ , ০৭:৩৮ পিএম


মেয়ের জামাইয়ের হাতে শাশুড়ি খুন, গ্রেপ্তার ২
ছবি: আরটিভি

টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার মানাজী (সিকদার বাড়ি) এলাকায় গত ২০ জুন হনুফা বেগম (৭০) নামের এক বৃদ্ধার খুনের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ২১ জুন ছেলে হুমায়ুন সিকদার বাদী হয়ে ঘাটাইল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

বিজ্ঞাপন

মামলা সূত্রে জানা গেছে, বাদী হুমায়ুন শিকদার দীর্ঘদিন ধরে ঘাটাইল এলাকায় পোল্ট্রি ব্যবসা করে আসছেন। ব্যবসার সুবাদে উপজেলা শহরে বাসা নিয়েই থাকেন তিনি। তার মা নিহত হনুফা বেগম (৭০) তার স্বামীর বসতভিটা মানাজীতে (সিকদার বাড়ি) একাই বসবাস করতেন। গত ২০ জুন আনুমানিক রাত ১০ ঘটিকায় এশার নামাজ আদায় ও রাতের খাবার শেষে প্রতিদিনের মতো ঘুমিয়ে পড়েন। 

২১ জুন সকাল আনুমানিক ৯ ঘটিকায় প্রতিবেশী ডাকাডাকি করেও কোনো সাড়া না পেয়ে এক পর্যায়ে ঘরে প্রবেশ করে হনুফা বেগমকে বিছানায় নিথর অবস্থায় দেখতে পান এবং তার গলায় কালচে দাগ, বাম চোখের নিচে ও কপালে আঘাতের চিহ্ন দেখে তাকে হত্যা করা হয়েছে এমনটা সন্দেহ করা হয়। জানাজানি হলে আশপাশের লোকজন ছুটে আসে এবং মৃতদেহ দেখতে পায় এবং নিহত হনুফার পরিহিত স্বর্ণালংকার সমূহ কানের দুল (৪ আনা), দুইটি বালা (১.৫ ভরি) ও একটি চেইন (৮ আনা), মোট ওজন ২ ভরি ৪ আনা এবং নগদ ৩ লাখ ৬০ হাজার টাকা গায়েব হয়। পরে ঘাটাইল থানা পুলিশকে জানানো হলে সুরতহাল প্রতিবেদনের পর ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে লাশ হস্তান্তর করা হয়। 

বিজ্ঞাপন

এরপর ঘাটাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার নির্দেশে, তথ্য প্রযুক্তির মাধ্যমে ঘাটাইল থানা পুলিশের চৌকস মেধাবী টিমের সহায়তায় ঘাটাইল উপজেলার ছামনা গ্রামের কাদেরের ছেলে আমিনুরকে অত্র মামলায় সন্দিগ্ধ করে। তারপর শুরু হয় রুদ্ধশ্বাস অনুসন্ধান ও অভিযান। তথ্য প্রযুক্তি অনুযায়ী তথ্যের ভিত্তিতে টাঙ্গাইল, ঢাকা, নারায়নগঞ্জ, নেত্রকোনা অভিযান পরিচালনা করে অবশেষে সুনামগঞ্জ জেলার মধ্যনগর থানাধীন মাটিয়ারবন্দ এলাকা  হতে আসামি আমিনুর ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারের পর আমিনুর ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানায়, ঘাটাইল উপজেলার পুরলীহাসন গ্রামের মৃত মকবুলের ছেলে শাহজাহান নিহত হনুফা বেগমের মেয়ের জামাই ও আমিনুর একত্রে হনুফা বেগমকে গলায় ওড়না পেচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেছে। গ্রেপ্তার আমিনুরের নিকট হতে নিহত হনুফা বেগমের ব্যবহৃত স্বর্ণের চেইন ও কানের দুল উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ঘাটাইল থানা পুলিশ। অপর আসামি শাহজাহানকে ঘাটাইলের আমিন বাজার এলাকা হতে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। 

বিজ্ঞাপন

স্থানীয় সূত্র জানায়, নিহত হনুফা বেগম সৌখিন মানুষ ছিলেন। তিনি সব সময় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকতেন। তিনি সবসময় প্রায় ৩ ভরি স্বর্ণালঙ্কার পরিহিত অবস্থায় থাকতেন।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সাব-ইন্সপেক্টর মো. রাজু আহমেদ জানান, তাদের টাকার প্রয়োজন হওয়ায় ঘাতক শাহজাহান এর সাথে আমিনুর ঘটনার ৩ দিন আগে থেকে পরিকল্পনা করে। যেহেতু শাহজাহান মিয়ার শাশুড়ি বাড়িতে একা থাকেন, তাই তার নিকট থেকে স্বর্ণালঙ্কার কেড়ে নেয়া সহজ হবে এবং সেটা বিক্রি করে টাকার চাহিদা মেটাতে পারবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী ১৯জুন রাতে হনুফা বেগম এর ঘরে গিয়ে তার নিকট থেকে স্বর্ণালঙ্কার কেড়ে নেয়ার পরিকল্পনা করলেও সেদিন বৃষ্টি থাকায় তারা দু'জন যেতে পারেনি। 

বিজ্ঞাপন

তিনি আরও জানান, পরিকল্পনানুযায়ী ২০জুন দিবাগত রাত অনুমান ২ ঘটিকায় নিহত হনুফা বেগমের বাড়ির সামনে গিয়ে আমিনুর ও শাহজাহান নিহত হনুফাকে ফোন দিয়ে দরজা খুলে দিতে বলে। শাহজাহান নিহতের মেয়ের জামাই হওয়ায় হনুফা বেগম দরজা খুলে দেয়। এক পর্যায়ে শাহজাহান ও  আমিনুর নিহতের পরিহিত গলার ওড়না গলায় পেঁচিয়ে ঘরের মেজেতে ফেলে শ্বাস রোধ করে হত্যা করে। মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর তাদের চাহিদা অনুযায়ী নিহত হনুফা বেগমের পরিহিত স্বর্ণালংকার খুলে নিয়ে আমিনুর ও শাহজাহান হনুফাকে মাটি থেকে ওপরে তুলে খাটে শুয়িয়ে রেখে পালিয়ে যায়।

রাজু আহমেদ জানান, রুদ্ধশ্বাস অভিযানে ইন্সপেক্টর (তদন্ত) সজল খান, এসআই মো. রাজু আহমেদ, এসআই সানাউল ইসলাম, কনস্টেবল মো. মালেক ও মো. জাহিদের সমন্বয়ে টিম গঠন করে তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে আসামিদের গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছেন।

আরটিভি/এফএ -টি

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps
বিজ্ঞাপন

Loading...

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission