রেললাইনের পাশে পড়ে থেকে নষ্ট হচ্ছে শতাধিক গাছ

কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি, আরটিভি নিউজ

শনিবার, ০৫ জুলাই ২০২৫ , ০১:২৭ পিএম


রেললাইনের পাশে পড়ে থেকে নষ্ট হচ্ছে শতাধিক গাছ
ছবি: আরটিভি

কিশোরগঞ্জে রেললাইনের পাশে পড়ে থেকে নষ্ট হচ্ছে কয়েক লাখ টাকার গাছ। পচে গলে মিশে যাচ্ছে মাটির সঙে। এতে করে সরকার বড় অংকের রাজস্ব হারাচ্ছে। ঝড় বৃষ্টি কিংবা শেকড় নষ্ট হয়ে প্রায় সময় রেল লাইনের ওপর গাছ পড়ে থাকে। বছরের পর বছর গাছ পড়ে থাকলেও নষ্ট হয়ে যাওয়া গাছ গুলোকে কোন কাজে না লাগানোই ক্ষুব্ধ স্থানীয়রাও।

সরেজমিনে দেখা যায়, প্রায় ৩ বছর যাবত সদর উপজেলার মহিনন্দ ইউনিয়নের কাশোরারচর রেলক্রসিংয়ের কাছে রেললাইনের পাশে পড়ে থেকে মাটির সাথে মিশে যাচ্ছে প্রায় ১ লাখ টাকা দামের একটি আকাশি গাছ। কোন এক ঝড় বৃষ্টিতে পড়ে যাওয়ার পর কেটে লাইনের পাশেই ফেলে রেখে যায় রেলের কর্মচারীরা। কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার মহিনন্দ ইউনিয়নের চাঁনমারি রেলক্রসিং মোড় থেকে কলাপড়া রেলক্রসিং মোড় পর্যন্ত রেললাইনের পাশে এভাবেই শতাধিক গাছ বছরের পর বছর পড়ে আছে। যার আনুমানিক বাজার মূল্য ১৫-২০ লাখ টাকা। সেগুলো পচে গলে মিশে যাচ্ছে মাটির সাথে। তবুও যেন নজরে পড়েনা কর্তৃপক্ষের। 

স্থানীয়রা বলছেন প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ বছর আগে রেললাইনের পাশে আকাশি, মেহগনি, কড়ইসহ বিভিন্ন প্রজাতির বনজ গাছ রোপণ করা হলেও দেখাশোনা করার কোন ব্যক্তিকে কখনও আসতে দেখেনি তারা। ঝড় বৃষ্টি কিংবা গাছের শেকড় নষ্ট হয়ে যাওয়ায় প্রায় সময় রেললাইনের উপর গাছ পড়ে থাকে। স্থানীয় ও রেলওয়ে লোকজন গাড়ী চলাচলের সুবিধার্থে গাছ গুলো কেটে লাইনের পাশে সবিয়ে দেন। পড়ে নষ্ট হলেও সরকারি গাছ হওয়ায় স্থানীয়রা ছুঁয়ে দেখতেও ভয় পান।

আরও পড়ুন

স্থানীয় বাসিন্দা দিলীপ দাস বলেন, রেললাইনের দুপাশে প্রচুর গাছ পড়ে আছে। দেখার যেন কেউ নেই। আধা কিলোমিটারেরর ভেতর ৫০টি গাছ পড়ে আছে। গাছ পড়ে থেকে পচে যাচ্ছে। গাছ গুলো যখন লাগানো হয় তখন আমি দেখেছি ৩০ থেকে ৩৫ বছর আগে লাগানো। ঝড় বৃষ্টি আসলে ভেঙ্গে পড়ে যায় এরপর আর কেউ খোঁজ খবর রাখে না। সরকারি গাছ হওয়ায় কেউ ধরে না। সাধারণ মানুষ গাড়ি চলাচলের সুবিধার্থে রেললাইনের ওপর থেকে গাছ সরিয়ে দেই।

image

সাইফুল ইসলাম জানান, আমার বাসা রেললাইনের পাশে। মাটির নিচে শত শত গাছ পড়ে আছে। পচে মাটির সঙ্গে মিশে গেছে। গাছের খবর কেউ নেয় না। এইগুলো আমাদের দেশের সম্পত্তি সরকার যদি এই গাছগুলো বিক্রি করে দিতো তাহলেও সরকারি (ফান্ডে) কোষাগারে জমা হতো। সরকার উন্নয়ন কাজে ব্যবহার করতো। এই গুলো মাটি খাচ্ছে, তাতে কি লাভ হচ্ছে? এই গুলো আমাদের দেশের ক্ষতি হচ্ছে। সাধারণ মানুষ নিয়ে কাজে লাগালে মামলা হয়। তাই কেউ ধরে না। গাছ কেটে ফেলে রেখে যায় আর কেউ খোঁজ খবর নেয় না। এখানে সকল ধরনের বনজ গাছ আছে। আকাশি, মেহগনি, শিশু, কড়ই, কাঁঠাল বিভিন্ন ধরনের গাছ।

কিশোরগঞ্জ রেলওয়ে ঊর্ধ্বতন উপসহকারী প্রকৌশলী (পথ) আনিছুজ্জামান বলেন, রেলের গাছ আমরা সহজে কাটতে পারি না। যেগুলো ঝুঁকিপূর্ণ সেগুলো কেটে লাইনের পাশে সরিয়ে রাখতে হয়। পড়ে যাওয়া গাছগুলো ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে জানিয়েছি। কোনো কিছু করার ক্ষমতা আমাদের নেই। স্যারদের জানানোর কথা আমরা জানিয়েছি।

আরটিভি/এএএ

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps

Loading...

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission