পাঠক ও দর্শক শূন্য পাইকগাছার পাবলিক লাইব্রেরি ও জাদুঘর 

পাইকগাছা প্রতিনিধি, আরটিভি নিউজ

মঙ্গলবার, ১১ নভেম্বর ২০২৫ , ০৬:০২ পিএম


পাঠক ও দর্শক শূন্য পাইকগাছার পাবলিক লাইব্রেরি ও জাদুঘর 
ছবি: আরটিভি

খুলনার পাইকগাছা উপজেলার পাবলিক লাইব্রেরি ও জাদু ঘর যেন অভিভাবকহীন। সরকার নিয়ন্ত্রিত এ প্রতিষ্ঠানটি ১০ বছর ধরে পাঠক ও দর্শনার্থী শূন্য হয়ে পড়েছে। দীর্ঘ বছর চলে গেলেও উদ্যোগহীন পাইকগাছার একমাত্র সরকারি গ্রন্থাগার ও যাদুঘর।

বিজ্ঞাপন

খুলনার পাইকগাছা উপজেলার একমাত্র সরকারি পাঠাগারটি দীর্ঘদিন ধরে জরা-জীর্ণ অবস্থায় পড়ে আছে। পূর্বে সংস্কার ও আধুনিকায়নের আশ্বাস মিললেও দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। একসময় ছাত্র-ছাত্রী, চাকরিপ্রার্থী ও সাধারণ পাঠকদের পদচারণায় মুখরিত থাকতো এই জ্ঞান-কেন্দ্রটি। এখন পরিণত হয়েছে অব্যবহৃত ও ধুলো-বালিতে ঢেকে থাকা এক নিস্তব্ধ ভবনে। উপজেলার একমাত্র সরকারি পাঠাগারটির বোবা কান্না দেখা বা শোনার যেন কেউ নেই। 

আরও পড়ুন

পাইকগাছা পৌরসভার প্রাণকেন্দ্রে ১৯৮৫ সালে পাবলিক লাইব্রেরি ও যাদুঘরটি প্রতিষ্ঠিত হয়। তৎকালীন উপজেলা চেয়ারম্যান এ্যাড. স ম বাবর আলী এটির প্রতিষ্ঠা করেন। যার আজীবন সদস্য ১৪৬ জন ও সাধারণ সদস্য ৯৩৮ জন। দু'শ বই নিয়ে শুরু হয় এর যাত্রা। পরবর্তীতে যার সংখ্যা ছিল ৫ হাজার। পাঠক ও দর্শনার্থী ছিল চোখে পড়ার মতো। স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসার শিক্ষক শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি আইনজীবী, সাংবাদিক এমন কি অফিস আদালতের অনেক কর্মকর্তা -কর্মচারীরা ছিলেন এর মুল পাঠক। লাইবেরিয়ার বিভিন্ন সংবাদ পত্র থেকে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি গুলো সংগ্রহ করে রাখায় চাকরি প্রত্যাশিরা এখান থেকে বিজ্ঞপ্তি সংগ্রহ করতেন। 

বিজ্ঞাপন

কয়েক বছর ধরে প্রতিষ্ঠানটি নামে থাকলেও বাস্তবে এর অবকাঠামো থেকে সব কিছু বিনষ্ট হয়ে গেছে। এক যুগেরও বেশি সময় ধরে লাইব্রেরিতে নতুন কোন বই পুস্তক দেয়া হয়নি। পুরাতন যেসব বই ছিল তার মধ্যে অনেকগুলো নষ্ট ও হারিয়ে গেছে। লাইব্রেরির ভবন পরিণত হয়েছে ভগ্নদশায়। এক সময় পাঠকের ব্যাপক উপস্থিতি থাকলেও বর্তমান তা একেবারেই  শূন্যের কোঠায়। 

সরকার নিয়ন্ত্রিত প্রতিষ্ঠানটি পাইকগাছা পৌরসভা ১৯৯৯ সালে অলিখিতভাবে উপজেলা প্রশাসন থেকে থেকে নিজেরা নিয়ন্ত্রণ নেয়। কিন্তু পৌর কর্তৃপক্ষের দায়িত্বহীনতার কারণে লাইব্রেরি ও জাদুঘরটি ধ্বংস হয়ে গেছে। জাতীয় ও আঞ্চলিক ৯টা সংবাদপত্র লাইব্রেরিতে নেয়া হতো। কিন্তু ৬ বছর ধরে তাও বন্ধ রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

এদিকে জাদুঘরের জানালা দরজা ভাঙ্গা, ভেতরে যেসব দর্লভ জিনিষপত্র ছিল তার কিছুই  নেই। আছে ভাঙ্গা আলমারী ও ময়লা আবর্জনা। যেখানে ইদুর ও পোকা মাকড়ে বাসা বেঁধেছে। 

মাষ্টার রোলে দায়িত্বে থাকা লাইব্রেরিয়ান শেখ রাকিব সিফাত বলেন, আমি আছি না থাকার মতো। লাইব্রেরি ও যাদুঘরের করুণ অবস্থা এখানে চাকরি করার কোনো পরিবেশ নেই। এখানেও কেউ আসে না। 

উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও পৌর প্রশাসক মাহেরা নাজনীন বলেন, লাইব্রেরি ও যাদুঘরটি যাতে পুনর্জীবিত করা যায় সে ব্যাপারে পদক্ষেপ নেয়া হবে।

আরটিভি/এফএ

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps
বিজ্ঞাপন

Loading...

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission