ভারতে পাচার থেকে রক্ষা পেলেও বিদ্যুৎস্পৃষ্টে হনুমানের মৃত্যু

আরটিভি নিউজ

বৃহস্পতিবার, ২০ নভেম্বর ২০২৫ , ০৬:৫৭ পিএম


ভারতে পাচার থেকে রক্ষা পেলেও বিদ্যুৎস্পৃষ্টে হনুমানের মৃত্যু

যশোরের কেশবপুরে বিরল প্রজাতির কালোমুখো দুটি হনুমান ভারতে পাচারের সময় বিজিবির হাতে ধরা পড়ে। হনুমান দুটিকে কেশবপুর বন বিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এর মধ্যে একটি হনুমান বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা গেছে।

বিজ্ঞাপন

বৃহস্পতিবার (২০ নভেম্বর) সকালে শহরের হাসপাতাল মোড়ে হনুমানটির মৃত্যু হয়।

কেশবপুর বন বিভাগের ফরেস্টার সমিরণ বিশ্বাস ও হনুমানের খাদ্য বিতরণকারী আতিয়ার রহমান এ ঘটনা নিশ্চিত করেছেন।

বিজ্ঞাপন

হনুমানের বিভিন্ন কেন্দ্রে খাদ্য দেওয়ার সময় আতিয়ার জানতে পারেন হাসপাতাল মোড়ে সকাল ১০টার দিকে একটি হনুমান বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা গেছে। তিনি মৃত হনুমানটিকে উদ্ধার করে প্রাণিসম্পদ অফিসে নিয়ে আসেন। প্রাণিসম্পদ অফিসার হনুমানটি মৃত ঘোষণা করেন। পরে হনুমানটি মধ্যকুল পৌরসভার ময়লাখানায় মাটিচাপা দেওয়া হয়।

আরও পড়ুন

কেশবপুর বন বিভাগের ফরেস্টার সমিরণ বিশ্বাস আরও জানান, দুটি হনুমান গত এক মাস আগে পাচারের সময় বিজিবি উদ্ধার করে কেশবপুর বন বিভাগ অফিসে পাঠায়। তারা কিছুদিন হনুমান দুটিকে চিকিৎসা দিয়ে দলের মধ্যে ছেড়ে দেন। তার একটি হনুমান আজ  বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা যায়।

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, এ বছর চারটি হনুমান কেশবপুর পৌর এলাকায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা গেছে।

এদিকে হনুমানটির মৃত্যুর খবরে দুঃখ প্রকাশ করে বাংলাদেশ বন অধিদপ্তরের বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ কর্মকর্তা এবং তরুণ বন্যপ্রাণী গবেষক জোহরা মিলা বলেন, দেশের তিন প্রজাতির হনুমানের দেখা মেলে যার মধ্যে একটি হল কালোমুখ হনুমানের (Hanuman Langur)। এই প্রজাতির হনুমান প্রায় ২০০ বছর ধরে যশোরের কেশবপুর ও মনিরামপুর অঞ্চলে বসবাস করে আসছে। বুনো পরিবেশে এদের গড় আয়ু ১৮-৩০ বছর। সাধারণত জুলাই- অক্টোবর বা কোনো কোনো ক্ষেত্রে ফেব্রুয়ারি থেকে এপ্রিল এদের প্রজননকাল। স্ত্রী হনুমান ২০০ থেকে ২১২ দিন গর্ভধারণের পর সাধারণত ১/২টি বাচ্চা প্রসব করে। হনুমানের এই প্রজাতিটি গাছের কচিপাতা, শাকসবজি ও ফলমূল, ফুল খায়। তবে বসতবাড়ির কাছাকাছি বসবাস করায় মানুষের খাবারেও এরা অভ্যস্ত হয়ে পড়ছে।

তিনি বলেন, বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা আইন)-২০১২ অনুযায়ী হনুমানের এই প্রজাতিটি সংরক্ষিত। তাই এটি হত্যা বা এর কোনো ক্ষতিকরা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ।

আরটিভি/এস

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps
বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission