টাকার সঙ্গে ঘুষ নিলেন রাজহাঁসও

হিলি প্রতিনিধি, আরটিভি নিউজ 

মঙ্গলবার, ২৫ নভেম্বর ২০২৫ , ০৮:৫৫ পিএম


টাকার সঙ্গে ঘুষ নিলেন রাজহাঁসও
ফাইল ছবি

দিনাজপুরের হাকিমপুর উপজেলায় ভিডব্লিউবিসহ (ভালনারেবল উইমেন বেনিফিট) বিভিন্ন সরকারি সুবিধা কার্ড করে দেওয়ার বিনিময়ে টাকা এবং একটি রাজহাঁস ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে উপজেলার ১নং খট্রামাধবপাড়া ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) সদস্যের বিরুদ্ধে। 

হাকিমপুর উপজেলার খট্টামাধবপাড়া ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের সদস্য আবুল কাসেম।

ইউপি সদস্য আবুল কাসেমের বিরুদ্ধে শুধু ভিডব্লিউবি কার্ড নয়, মাতৃত্বকালীন, প্রতিবন্ধী, বয়স্ক, বিধবা ভাতার কার্ড এবং স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের পল্লী কর্মসংস্থান ও সড়ক রক্ষণাবেক্ষণ কর্মসূচির (আরইআরএমপি) সদস্য করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েও টাকা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। 

ভুক্তভোগীদের দাবি, তিনি বিভিন্ন সময়ে ওই ওয়ার্ডের ২০ থেকে ৩০ জন নারী-পুরুষের কাছ থেকে ২ হাজার থেকে শুরু করে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত আদায় করেছেন।

খট্রামাধবপাড়া ইউনিয়নের বিলেপাড়া গ্রামের বাসিন্দা জাহিদ হাসান বলেন, আমার মায়ের নামে ভিডব্লিউবি (ভিজিডি) ভাতার কার্ড দিবে বলে আমার মায়ের কাছ থেকে ৪ হাজার টাকা চায় ইউপি সদস্য। পরে আমার মা ২ হাজার টাকা নগদে তাকে দেন এবং ৩ হাজার টাকার মূল্যের একটি রাজহাঁস নিয়ে যায়। পরে আমি বিষয়টি জানতে পেরে ১৯ নভেম্বর ইউপি চেয়ারম্যান বরাবর লিখিত আবেদন করি।

এর আগে, চলতি বছরের ১০ নভেম্বর একই ওয়ার্ডের নওদাপাড়া গ্রামের বুলি বিবি নামে এক নারীও ইউপি চেয়ারম্যানের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন। তার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, চার মাস আগে ইউপি সদস্য আবুল কাসেম তার ছেলের স্ত্রীর মাতৃত্বকালীন ভাতা কার্ড করে দেওয়ার কথা বলে দুই হাজার টাকা নেন। কিন্তু চার মাস পেরিয়ে গেলেও কার্ডটি তিনি করে দেননি এবং বিভিন্ন অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করছেন।

আরেকজন অভিযোগ কারী কাজল তার অভিযোগে উল্লেখ করেছেন, তার স্ত্রীর নামে ভিডব্লিউবি (ভিজিডি) ভাতার কার্ড দেওয়ার কথা বলে তার স্ত্রীর কাছ থেকে ৩ হাজার ৫০০ টাকা চান। পরে তার স্ত্রী ইউপি সদস্য আবুল কাসেমকে ৩ হাজার ৫০০ টাকা দিয়েছেন। কিন্তু পরে সে তার স্ত্রীকে কোন প্রকার কার্ড দেননি।

454545

এদিকে খট্রামাধবপাড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান কাওছার রহমান অভিযোগের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, আবুল কাসেমের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সরকারি সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে টাকা নেওয়ার ৪টি লিখিত অভিযোগ এবং ২০ থেকে ৩০ জনের কাছ থেকে মৌখিক অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এছাড়াও ২০২২ সালে নয়ানগর গ্রামের মোছা. বেনু বেগমের নিকট থেকে ১৯ হাজার টাকা আত্মসাৎ করেন। উক্ত অভিযোগটি ইউপি কার্যালয়ে নিষ্পত্তি হয় এবং সেখানে অভিযুক্ত ব্যক্তির টাকা ফেরত প্রদান করে মুচলেকা প্রদান করেন। সেইসঙ্গে আবুল কাসেমের নামে ভিজিএফ চাল চুরি ও আত্মসাতের অভিযোগ উপজেলাতে তদন্তাধীন রয়েছে। বর্তমানে ৪টি অভিযোগের তদন্তে অভিযোগগুলোর প্রাথমিক সত্যতা মিলেছে। বিষয়টি চূড়ান্ত তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য গত ১৯ নভেম্বর হাকিমপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে একটি চিঠি পাঠানো হয়েছে।

অভিযোগ প্রসঙ্গে ইউপি সদস্য আবুল কাসেম বলেন, আমার নামে যেসব অভিযোগ উঠেছে তা সব মিথ্যা। আমার মানসন্মান ক্ষুন্ন করার জন্য এসব করছে চেয়ারম্যান। 

আরও পড়ুন

এমনকি তার দোকানের কর্মচারীর দ্বারা অভিযোগ করিয়েছেন বলেও জানান ওই ইউপি সদস্য।

হাকিমপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম বলেন, ইউপি সদস্য আবুল কাসেমের বিরুদ্ধে চেয়ারম্যান কাওছার রহমান একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। বিষয়টি উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তাকে তদন্তের জন্য দায়িত্ব দিয়েছি। অভিযোগ প্রমানিত হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

আরটিভি/এমএ

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps

Loading...

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission