অস্ত্র ঠেকিয়ে কক্সবাজারের টেকনাফে পাহাড়-সংলগ্ন এলাকায় গ্রামের একটি চায়ের দোকান থেকে গত ৩০ নভেম্বর পাঁচ কিশোরকে অপহরণ করেছে সশস্ত্র ডাকাতরা। এদেরমধ্যে মোহাম্মদ শাহীন নামে একজন পালিয়ে আসতে সক্ষম হয়েছেন। তবে, বাকি চারজনের এখনও কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি।
জানা গেছে, গত রোববার সন্ধ্যায় স্থানীয় একটি মুদি দোকানে বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিচ্ছিলেন পাঁচ কিশোর। এমন সময় আকস্মিকভাবে দোকানটি ঘিরে ফেলে অস্ত্রধারী একদল ডাকাত। দোকানটা থেকে কাছেই পাহাড়ি জঙ্গল। মাগরিবের আজানের পরপরই ওই জঙ্গল থেকে আট থেকে দশজন লোক বের হয়ে এসে দোকান ঘিরে ফেলে। তাদের সবার হাতে অস্ত্র, মুখ ছিল কাপড় দিয়ে বাঁধা। দোকানে ঢুকেই টাকা-পয়সা ও মালামাল লুট করে অস্ত্রধারীরা। এরপর যাওয়ার সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত পাঁচ কিশোরের সবাইকে অস্ত্রের মুখে অপহরণ করে জঙ্গলে নিয়ে যায় ডাকাত দলটি।
যেভাবে পালিয়ে আসেন শাহীন
অপহরণের শিকার হওয়া পাঁচ কিশোরের মধ্যে শাহীন ডাকাত দলের চোখ ফাঁকি দিয়ে পালিয়ে আসতে সক্ষম হয়েছেন। অপহরণের ঘটনার ঘণ্টা দুয়েক পর ১৩ বছর বয়সী ওই কিশোর ‘হাঁপাতে হাঁপাতে’ বাড়ি ফিরে আসে বলে জানান তার মা।
শাহীনের মা ফাতেমা বেগম বলেন, সন্ধ্যায় ঘটনা জানার পর থেকেই বাড়িতে সবাই কান্না করতেছিল। এরমধ্যে রাত আটটার দিকে দেখি আমার ছেলে ফিরে আসছে, হাঁপাতে হাঁপাতে।
পালিয়ে আসার বিষয়ে শাহীন তার মাকে জানিয়েছে, অন্ধকারে জঙ্গলের মধ্যে হাঁটার সময় ওদের মধ্য থেকে দুজন দৌড় দিয়ে পালানোর চেষ্টা করে। তাদের ধরার জন্য ডাকাতরাও পিছে পিছে দৌড় দেয়। ওই সুযোগে শাহীন পালায়। পালানোর চেষ্টাকারী অন্য কিশোরদের ধরে ফেললেও ডাকাত দলটি শাহীনের ধরতে পারেনি।
এদিকে, অপহরণ হওয়া বাকি কিশোরদের উদ্ধার ও অপরাধীদের গ্রেপ্তার করতে ইতোমধ্যে টাস্কফোর্স কাজ শুরু করেছে বলে জানান কক্সবাজারের টেকনাফ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জায়েদ নূর।
তিনি আরও বলেন, ডাকাতি ও অপহরণের মামলায় অতীতে যেসব তদন্ত হয়েছে, সেখানে স্থানীয় বাসিন্দা ও রোহিঙ্গা শরণার্থী জড়িত থাকার প্রমাণ আমরা পেয়েছি। ডাকাত দলগুলোর বিরুদ্ধে সেনা-পুলিশ-বিজিবির যৌথ অভিযান চলমান রয়েছে।
আরটিভি/আরএ




