রাজশাহীর তানোরে প্রায় ৩৫ ফুট মাটির গভীরে পড়ে যাওয়া শিশু সাজিদের মা জানিয়েছেন, আমি সামনে হাঁটছি, সাজিদ পেছনে। একটু পর পেছনে ঘুরে দেখি, সাজিদ নাই। শুধু মা মা ডাক শুনছি। গর্তের মুখে খড় ছিল। তাই গর্ত বোঝা যায়নি।
বুধবার (১০ ডিসেম্বর) দিবাগত রাত ১টার দিকেও সাজিদকে উদ্ধার তৎপরতা দেখতে কয়েক হাজার মানুষ ভিড় করছেন। এক পাশে পুরুষ, অন্য পাশে নারীরা অবস্থান করছেন। নারীদের মাঝে চুপচাপ বসে আছেন সাজিদের মা রুনা খাতুন।
সাজিদের মা জানান, তার তিন ছেলে। দুই বছরের সাজিদ মেজ। তাদের একটি ট্রলি দেবে গেলে ছোট ছেলে সাদমানকে কোলে নিয়ে আর সাজিদের হাত ধরে তিনি আসেন। ফেরার সময় সাজিদ ওই গর্তে পড়ে যায়।
এর আগে, দুপুরে তানোরের কোয়েলহাট পূর্বপাড়া গ্রামে এ দুর্ঘটনা ঘটে। সাজিদের বাবার নাম রাকিবুল ইসলাম। তিনি ঢাকায় থাকেন। গুদামের ম্যানেজার হিসেবে কাজ করেন। রাত ১টা পর্যন্ত ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট সাজিদকে উদ্ধারের চেষ্টা করছে। গর্তের পাশে এক্সকাভেটর দিয়ে খনন করা হচ্ছে।
তবে দীর্ঘ ১৩ ঘণ্টায়ও উদ্ধার হয়নি ৩৫ ফুট গর্তে পড়া রাজশাহীর তানোর উপজেলার ২ বছরের শিশু সাজিদ। তাকে উদ্ধারে ৩০ ফুট গভীর গর্তে কয়েক দফা ক্যামেরা পাঠিয়েও দেখা যায়নি। বিকেলে প্রথম দফা নলকূপের ৩০ ফুট গর্তে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ক্যামেরা নামায়। কিন্তু ওপর থেকে পড়া মাটি ও খরের কারণে শিশুটি দেখতে পায়নি তারা। এরপর রাত ১০টার দিকে আরেক দফা ক্যামেরা পাঠান তারা। কিন্তু এবারও দেখা মেলেনি শিশুটির।
উদ্ধার অভিযান নিয়ে রাত ১১টার দিকে গণমাধ্যম কর্মীদের ফায়ার সার্ভিসের রাজশাহী স্টেশনের সহকারী পরিচালক দিদারুল ইসলাম বলেন, উদ্ধার অভিযান চলছে। আমরা শিশুটিকে দেখতে পাইনি। গভীরে ক্যামেরা পাঠিয়েও তাকে দেখা যায়নি। আমরা তাকে অক্ষতভাবে উদ্ধার করতে চাই। সে বেঁচে আছে কিনা সেটাও সন্দেহ। আমরা চাই তাকে অক্ষতভাবে উদ্ধার করি। আসা করছি-দুই থেকে তিন ঘণ্টার মধ্যে উদ্ধার করতে পারব তাকে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে তানোর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাঈমা খান বলেন, ফায়ার সার্ভিস উদ্ধার কাজ করছে। সেখানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা আছে। উদ্ধার কাজ চলমান আছে। আল্লাহ যেন শিশুটিকে মায়ের কোলে ফিরিয়ে দেয় সেই দোয়া করছি।
আরটিভি/কেএইচ




