কেউ বসে কাঁচা হলুদ বাছছেন। কেউ ঝুড়িতে ভরে নিচ্ছেন সিদ্ধ করার জন্য। পাশেই মেশিনে ঘুরছে হলুদ—ঝরে পড়ছে মাটি আর খোসা। কিছুক্ষণ পর সেগুলো ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে রোদে শুকানোর জন্য। সকাল থেকেই এই কাজে ব্যস্ত কিসমত ইলিশপুর গ্রামের মানুষজন। এখানে হলুদ সংগ্রহের পর প্রথমে তা পরিষ্কার করা হয়। এরপর সিদ্ধ করে রোদে শুকানো হয়। শুকনো হলুদ আবার হাতে বাছাই করে ছোট–বড় আলাদা করা হয়। তারপর বস্তাবন্দী করে পাঠানো হয় বাজারে।
একজন শ্রমিক বলেন, কাঁচা হলুদ কিনে আনি। ধুয়ে সিদ্ধ করি। শুকিয়ে দুইবার মেশিনে ঘুরানো হয়, যাতে মাটি বা খোসা না থাকে। এরপর আবার বাছাই করে বিক্রি করি। এই হলুদ এখন শুধু রান্নার উপকরণ নয়, অনেক মানুষের জীবিকার বড় ভরসা। ঔষধিগুণের কারণে এর চাহিদা বাড়ছে, বাড়ছে বাণিজ্যিক গুরুত্বও।
এই চিত্র দেখা যাচ্ছে সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার কিসমত ইলিশপুর গ্রামে। এখানে গড়ে উঠেছে একাধিক হলুদ প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্র। স্থানীয় প্রায় ২৫ জন ব্যবসায়ী মিলেই এই উদ্যোগ পরিচালনা করছেন। এতে এলাকার বহু নারী–পুরুষের কর্মসংস্থান হয়েছে।
একজন শ্রমজীবী নারী বলেন, হলুদ সিদ্ধ করতে ঝুড়ি প্রতি ২০ টাকা পাই। দিনে চার-পাঁচ ঝুড়ি কাজ করি। এই আয় দিয়েই সংসার চলে।
তবে উদ্যোক্তারা বলছেন, দীর্ঘ পরিশ্রমের তুলনায় লাভ খুব কম। আড়তদারদের কাছে হলুদ বিক্রি করতে গিয়ে অতিরিক্ত খরচ দিতে হয়। ফলে প্রকৃত আয় সীমিত হয়ে পড়ে।
একজন উদ্যোক্তা জানান, খরচ বাড়ছে—শ্রমিকের মজুরি, জ্বালানি, যন্ত্রপাতি সবকিছুর দাম বাড়ছে। কিন্তু শুকনো হলুদের দাম বাড়ছে না। তাই শ্রমিকদেরও ভালো পারিশ্রমিক দেওয়া যাচ্ছে না।
কলারোয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এস এম এনামুল ইসলাম বলেন, হলুদ চাষিদের সহায়তায় কৃষি বিভাগ কাজ করছে। তিনি বলেন, প্রান্তিক চাষিদের আমরা প্রণোদনা দিচ্ছি। ছত্রাকজনিত পচা রোগসহ বিভিন্ন রোগের বিষয়ে নিয়মিত কারিগরি পরামর্শ ও সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।
স্থানীয় উদ্যোক্তাদের আশা, পরিকল্পিত সরকারি সহায়তা পেলে হলুদ প্রক্রিয়াজাতকরণ এই অঞ্চলে একটি শক্তিশালী শিল্পখাতে পরিণত হতে পারে।
আরটিভি/এএএ





