আধুনিক সেচ প্রযুক্তি সেন্টার পিভট ইরিগেশন সিস্টেম ব্যবহারের মাধ্যমে দেশের কৃষিখাতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হচ্ছে। অস্ট্রিয়ার এই প্রযুক্তিতে কম খরচ ও স্বল্প সময়ে একসঙ্গে সর্বোচ্চ ১২৫ একর জমিতে সেচ দেওয়া সম্ভব। বাংলাদেশে পরীক্ষামূলকভাবে এই সেচব্যবস্থা প্রথম চালু হয়েছে নাটোরের বড়াইগ্রামে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, পানি সাশ্রয়ী এই প্রযুক্তি কৃষিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে। নাটোরের বড়াই গ্রামে প্রথমবারের মতো আধুনিক এই সেচব্যবস্থার সফল যাত্রা শুরু হয়েছে। পদ্ধতিটিতে পাইপলাইনের সঙ্গে যুক্ত স্প্রিংকলারের মাধ্যমে উপর থেকে বৃষ্টির মতো সেচ দেওয়া হয়। এতে ফসল সমানভাবে পানি পায় এবং পানির অপচয় কম হয়। এই প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যয় হয়েছে ১ কোটি ৯৮ লাখ ৫ হাজার টাকা।
সংশ্লিষ্টদের মতে, এটি বর্তমানে দেশের সবচেয়ে আধুনিক ও পানি সাশ্রয়ী সেচ প্রযুক্তি। একটি প্রকল্পের মাধ্যমে একসঙ্গে ১২৫ একর জমিতে সেচ দেওয়া সম্ভব হওয়ায় কৃষকের খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে।
নাটোরের এক কৃষক বলেন, এ রকম সেচ ব্যবস্থা আগে কখনো দেখিনি। জিনিসটা ভালোই লাগছে। এতে চাষাবাদে উন্নতি হবে।
আরেক কৃষক বলেন, এই প্রযুক্তিতে ফসলের উৎপাদন বাড়বে। আমরা খুবই খুশি।
সহকারী ব্যবস্থাপক ও নির্বাহী প্রকৌশলী মাহাবুব-উল ইসলাম বলেন, আগে ১২৫ একর জমিতে সেচ দিতে প্রায় ২৫০ জন শ্রমিকের ৬০ দিন সময় লাগত। সেন্টার পিভট ইরিগেশন সিস্টেম ব্যবহার করে মাত্র পাঁচ দিনেই একই জমিতে সেচ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে।
নাটোর অঞ্চলের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাজ্জাদ হোসেন বলেন, ভবিষ্যতে এই ধরনের প্রকল্প কৃষকের মাঠে ছড়িয়ে দেওয়া হবে। এতে কৃষি খাতে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে এবং দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
কম সময়ে, কম পানি ব্যবহার করে বড় আকারের কৃষিজমিতে সেচ দেওয়ার এই আধুনিক ব্যবস্থা দেশের কৃষিতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
আরটিভি/এএএ





