ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির ভূমিধস বিজয়ের পর ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মানুষের মাঝে শুরু হয়েছে নানা জল্পনা-কল্পনা। দলীয় নেতা-কর্মীসহ সাধারণ মানুষের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়ে গেছে ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে কারা থাকছেন এবারের মন্ত্রিসভায়। এদিকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রাপ্ত ফলাফলের ভিত্তিতে জানা যায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার ছয়টি সংসদীয় আসনের মধ্যে পাঁচটিতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এবং একটি আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিপুল ভোটে জয়লাভের পর ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪ (কসবা-আখাউড়া) আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য মুশফিকুর রহমানকে ঘিরে নতুন আশায় বুক বেঁধেছেন দুই উপজেলার মানুষ। বিএনপির বর্ষীয়ান এ রাজনীতিককে আসন্ন মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানিয়েছেন দলীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ জনগণ।
১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকে মুশফিকুর রহমান পেয়েছেন ১ লাখ ৩৯ হাজার ৮৪২ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আতাউর রহমান সরকার ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীকে পেয়েছেন ৯১ হাজার ৭৯৬ ভোট। এ আসনে মোট সাতজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।
অন্যদিকে, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ (সদর-বিজয়নগর) আসনে বিএনপি প্রার্থী খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামল দেড় লাখ ভোটের ব্যবধানে জয়ী হন। তিনি ধানের শীষ প্রতীকে পান ২ লাখ ৯ হাজার ৬৩৬ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী এনসিপির প্রার্থী মো. আতাউল্লাহ পেয়েছেন ৬২ হাজার ৫৪৭ ভোট।
আবার, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ (নবীনগর) আসনে বিএনপি প্রার্থী এম এ মান্নান জয়ী হন। তিনি পান ৮৫ হাজার ৭৬৯ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী কাজী নাজমুল হোসেন তাপস ফুটবল প্রতীক নিয়ে পান ৮৪ হাজার ৭০৮ ভোট। তার কর্মী সমর্থকরা এ নিয়ে বেশ আশাবাদী।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ আসনে বিএনপি জোট মনোনীত প্রার্থী জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি মাথাল প্রতীকে ৯৫ হাজার ৩৪২ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী মো. মহসীন পেয়েছেন ৩৯ হাজার ৯৭৬ ভোট। তবে এক জেলা থেকে এত বেশি মন্ত্রী না দেওয়ার ‘খড়গে’ কাটা পড়তে পারেন তিনি।
এক্ষেত্রে মন্ত্রি হওয়ার দৌড়ে এগিয়ে আছেন অভিজ্ঞ সাবেক সংসদ সদস্য মুশফিকুর রহমান। তিনি ছিলেন সাবেক সচিব ও বিশ্ব ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক। চাকরি জীবনে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ে দায়িত্ব এবং বিশ্বব্যাংকের বিকল্প নির্বাহী পরিচালক হিসেবেও কাজ করেছেন। একজন বিচক্ষণ অর্থনীতিবিদ হিসেবে তার সুনাম রয়েছে দেশ-বিদেশে।
আরটিভি/এমআই



