ঢাকা রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫ আশ্বিন ১৪৩৩

গোপালগঞ্জে জামানত হারিয়েছেন ১৯ প্রার্থী

গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১০:৩৩ পিএম
ছবি: সংগৃহীত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গোপালগঞ্জের তিনটি আসন থেকে বিএনপির দুই বিদ্রোহী প্রার্থীসহ জামানত হারিয়েছেন ১৯ প্রার্থী।

এবারের নির্বাচনে গোপালগঞ্জের তিনটি সংসদীয় আসন থেকে মোট ৩০ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এর মধ্যে নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী ১৯ জন প্রার্থী নির্বাচনি বিধি অনুযায়ী জামানত হারিয়েছেন।

নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুসারে, জামানত রক্ষা করার জন্য প্রার্থীকে মোট ভোটের সাড়ে ১২ শতাংশ ভোট পেতে হয়, কিন্তু ১৯ জন প্রার্থী তা অর্জন করতে পারেননি। ফলে তারা তাদের জামানত হারিয়েছেন।

জামানত হারানো বিএনপির দুই বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থীরা হলেন- গোপালগঞ্জ-২ আসন থেকে এম সিরাজুল ইসলাম ও গোপালগঞ্জ-৩ আসন থেকে মো. হাবিবুর রহমান।

গোপালগঞ্জ-১ (মুকসুদপুর-কাশিয়ানী একাংশ) আসনে মোট ভোট পড়েছিল ১ লাখ ৯৮ হাজার ৪৪৭টি। যার মধ্যে বৈধ ভোট ছিল ১ লাখ ৯১ হাজার ৯৭৯টি এবং বাতিল ভোটের পরিমাণ ছিল ৬ হাজার ৪৬৮টি। যা মোট ভোটের ৪৯ দশমিক ৬৭ শতাংশ।

এখানে সবচেয়ে কম ভোট পেয়েছেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) প্রার্থী নিরদ বরণ মজুমদার, যিনি পেয়েছেন মাত্র ৩৪৯ ভোট। জাতীয় পার্টির সুলতান জামান খান পেয়েছেন ৬২১ ভোট, স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. কাইউম আলী খান পেয়েছেন ২,১৮০ ভোট, এম আনিসুল ইসলাম
পেয়েছেন ৩ হাজার ২৫৭ এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মোহাম্মদ মিজানুর রহমান ৫
হাজার ৮৭০ ভোট পেয়েছেন।

গোপালগঞ্জ-২ (গোপালগঞ্জ সদর-কাশিয়ানী একাংশ) আসনে মোট ভোট পড়েছিল ১ লাখ ৫৩ হাজার ৮৫টি। যার মধ্যে বৈধ ভোট ছিল ১ লাখ ৪৮ হাজার ৬২১টি এবং বাতিল ভোটের পরিমাণ ছিল ৪ হাজার ৪৬৪টি। যা মোট ভোটের ৩৯ দশমিক ৮৩ শতাংশ।

এ আসনে সর্বনিম্ন ভোট পেয়েছেন গণফোরামের শাহ মফিজ, তিনি পেয়েছেন মাত্র ২১৫ ভোট। তার পরেই আছেন গণঅধিকার পরিষদের দীন মোহাম্মদ, তিনি ৩০৫ ভোট পেয়েছেন।

এছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থী রনি মোল্লা পেয়েছেন ৪০৩ ভোট, জাতীয় পার্টির রিয়াজ সারোয়ার মোল্লা ৪১৯ ভোট, জাকের পার্টির মাহমুদ হাসান ১ হাজার ৩৭১ ভোট, স্বতন্ত্র প্রার্থী সিপন ভূইয়া ১ হাজার ৯৩১ ভোট, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের তসলিম সিকদার ২ হাজার ৯১১ ভোট এবং বিএনপির
বিদ্রোহী (স্বতন্ত্র) এম. সিরাজুল ইসলাম সিরাজ ২ হাজার ৮১৯ ভোট পেয়েছেন।

গোপালগঞ্জ-৩ (টুঙ্গিপাড়া-কোটালীপাড়া) আসনে মোট ভোট পড়েছিল ১ লাখ ৩৬ হাজার ৪৮৫টি। যার মধ্যে বৈধ ভোট ছিল ১ লাখ ৩২ হাজার ৪৬৫টি এবং বাতিল ভোটের পরিমাণ ছিল ৪ হাজার ২০টি। যা মোট ভোটের ৪৪ দশমিক ২০ শতাংশ।

আরও পড়ুন

এখানে গণফোরামের দুলাল চন্দ্র বিশ্বাস ২৬৯ ভোট পেয়ে সর্বনিম্ন ভোট পেয়েছেন। এরপর এনপিপির শেখ সালাহউদ্দিন ৫৯১ ভোট পেয়েছেন। গণঅধিকার পরিষদের আবুল বসার পেয়েছেন ২ হাজার ৬০০ ভোট, বিএনপির বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. হাবিবুর রহমান পেয়েছেন ৩ হাজার
৮০৫ ভোট এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. মারুফ শেখ ৪ হাজার ৭১৭ ভোট পেয়ে জামানত হারিয়েছেন।

এদিকে ৩টি আসন থেকেই বিএনপির তিন প্রার্থী জয়ী হয়েছেন। এছাড়া, ১১ দলীয় নির্বাচনি জোটের তিন প্রার্থী, গণঅধিকার পরিষদের একজন প্রার্থী, বিএনপির এক বিদ্রোহী প্রার্থী, আওয়ামী লীগের বহিষ্কৃত এক প্রার্থী ও দুই স্বতন্ত্র প্রার্থী জামানত রক্ষা করতে পেরেছেন।

আরটিভি/এমএইচজে/

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
সীমান্তে পড়ে থাকা বাংলাদেশি কিশোরের মরদেহ নিয়ে গেল বিএসএফ
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া সীমান্তের ভারতীয় অংশে পড়ে থাকা বাংলাদেশি শিশু মো. শাকিলের (১৪) মরদেহ নিয়ে গেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)।  শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় সীমান্তের কাঁটাতারের বেড়ার পাশে ভারতীয় অংশের লংকা মোড়া এলাকায় মরদেহটি পড়ে থাকতে দেখা যায়। শাকিল উপজেলার দক্ষিণ ইউনিয়নের আব্দুল্লাহপুর গ্রামের আবুল বাসার ওরফে মালু মিয়ার ছেলে।  পরিবারের সদস্যরা জানান, মানসিকভাবে অসুস্থ শাকিল শুক্রবার থেকে নিখোঁজ ছিল। নিখোঁজের একদিন পর শনিবার সন্ধ্যায় সীমান্তের ভারতীয় অংশে তার মরদেহ দেখতে পাওয়া যায়। পরে পরিবারের সদস্যরা মরদেহটি শাকিলের বলে শনাক্ত করেন। ঘটনাটি জানাজানি হলে বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে আলোচনা হয়। মরদেহটি ভারতীয় ভূখণ্ডে থাকায় দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী ও পুলিশের সমন্বয়ে বিএসএফ মরদেহটি নিয়ে যায়। আখাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাবেদ উল ইসলাম জানান, শাকিলের মরদেহ ভারতীয় অংশে থাকায় বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে আলোচনা হয়েছে। আইনগত প্রক্রিয়া শেষে আজ বিকালের দিকে মরদেহ দেশে এনে পরিবারের কাছে হস্তান্তরের ব্যবস্থা করা হবে। শিশুটি কীভাবে সীমান্তের ওই এলাকায় গেল এবং তার মৃত্যু কীভাবে হয়েছে, তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সরাইল ব্যাটালিয়ন (২৫ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লে. কর্নেল জাব্বার আহমেদ জানান, মরদেহটি ভারতীয় অংশে থাকায় বিজিবি-বিএসএফ এবং দুই দেশের পুলিশের আলোচনার মাধ্যমে সেটি ভারতে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। ময়নাতদন্তসহ প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে নিয়ম অনুযায়ী মরদেহটি দেশে আনা হবে। আরটিভি/এসএস
সীমান্তে পড়ে থাকা বাংলাদেশি কিশোরের মরদেহ নিয়ে গেল বিএসএফ
আগুনে পুড়ে ছাই ৪২ ঘর
গাজীপুরে গ্যাস সিলিন্ডারের লিকেজ থেকে লাগা আগুনে প্রায় ৪২টি ঘর পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এ সময় ঘরে থাকা সব আসবাবপত্র ও মালামাল পুড়ে যায়। অগ্নিকাণ্ডে প্রায় কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন বাড়ির মালিক। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে গাজীপুর সদর উপজেলার বানিয়াচালা (মধ্যপাড়া) এলাকার সিরাজ উদ্দিনের ছেলে দলিল লেখক জাহাঙ্গীর হোসেনের সেমিপাকা বাড়িতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। ওইসব ঘরে স্থানীয় বিভিন্ন পোশাক কারখানার শ্রমিকেরা বসবাস করতেন। স্থানীয়রা জানান, রাতের ওই সময়ে ভাড়াটিয়ারা রান্নার করছিলেন। হঠাৎ একটি ঘরে গ্যাস সিলিন্ডার লিকেজ হয়ে আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তেই আগুন আশপাশের ঘরগুলোতে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। এতে প্রায় ৪২টি ঘর এবং ঘরে থাকা সব আসবাবপত্র ও মালামাল পুড়ে যায়। স্থানীয়রা প্রথমে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেন। খবর পেয়ে রাজেন্দ্রপুর চৌরাস্তা মডার্ন ফায়ার স্টেশনের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। প্রায় দুই ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। বাড়ির মালিক জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, কারখানা ছুটি শেষে ভাড়াটিয়ারা রান্না করার সময় গ্যাস সিলিন্ডারের লিকেজ থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। পরে দ্রুত আশপাশের ঘরগুলোতে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। এতে সব মিলিয়ে প্রায় কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। রাজেন্দ্রপুর-চৌরাস্তা মডার্ন ফায়ার স্টেশনের সিনিয়র অফিসার মুহাম্মদ আবু সায়েম মাসুম বলেন, রাত সাড়ে ৮টার দিকে অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিটের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে রাত ৯টা ৪০ মিনিটের দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।  প্রাথমিকভাবে গ্যাস সিলিন্ডারের লিকেজ থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আরটিভি/এসএস
আগুনে পুড়ে ছাই ৪২ ঘর
ভাত খাওয়া থেকে ঘটনার শুরু, বিশ্ববিদ্যালয়ছাত্রকে হত্যায় মিলল যেসব তথ্য
খুলনায় নর্থ ওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী আজমল হোসেনকে হত্যার ঘটনায় খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের চার শিক্ষার্থীর নামে মামলা হয়েছে। এ ছাড়া মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও ২০ থেকে ২৫ জনকে আসামি করা হয়েছে। নিহতের বাবা কুতুবউদ্দিন বাদী হয়ে শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতে হরিণটানা থানায় মামলাটি দায়ের করেন। মামলাটি দণ্ডবিধির ৩০২ ও ৩৪ ধারায় করা হয়েছে। নিহত আজমল হোসেন নর্থ ওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটির ইংরেজি বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী। তিনি চুয়াডাঙ্গার দর্শনা এলাকার কুতুবউদ্দিনের ছেলে। মেসের ছাত্রদের বরাত দিয়ে স্থানীয়রা জানান, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের খানজাহান আলী হল (খাজা হল) সংলগ্ন ওই ভাড়া বাড়িতে গোপালগঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়, নর্থ ওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটি, নর্দান বিশ্ববিদ্যালয় ও খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ও বর্তমান অনেক শিক্ষার্থী থাকেন। আজমল হোসেনেও সেখানে একটি রুমে থাকতেন।  শুক্রবার রাতে মিল না দিয়ে অন্য একজনের ভাত খেয়ে ফেলেন আজমল। এরপর ভাত চুরি করে খাওয়ার অপবাদ দিয়ে মেসের কয়েকজন ছাত্র ও বহিরাগত আজমলকে ছাদে নিয়ে মারধর করেন।  পরে রাত ১টা ৩৫ মিনিটের দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী পরিচয় দেওয়া কয়েকজন যুবক গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। পরে তাকে হাসপাতালে নিয়ে আসা ব্যক্তিরা দ্রুত সেখান থেকে চলে যান। হাসপাতাল সূত্র জানায়, আজমলের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন ছিল। মাথার চুলও এক পাশ দিয়ে কাটা ছিল। তবে এসব আঘাত কীভাবে হয়েছে, সে বিষয়ে হাসপাতাল সূত্র নিশ্চিত করতে পারেনি। নিহতের বাবা কুতুবউদ্দিন অভিযোগ করেন, তার ছেলেকে চুরির অপবাদ দিয়ে মারধর করা হয়েছে। ছেলের রুমমেটরা ফোন করে এক লাখ টাকা নিয়ে যেতে বলেছিল। টাকা দিলে ঝামেলা মিটে যাবে বলেও জানানো হয়। পরে ছেলের ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। স্থানীয় এক বাড়ির মালিক জানান, রাতে পাশের ভবনের ছাদে একজনকে (আজমল) মারধর করতে দেখি। পরে তাকে নিচে পড়ে থাকতে দেখা যায়। হরিণটানা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইকবাল হোসেন বলেন, আজমলের পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা করা হয়েছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা যায়নি। আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। পরে নিহতের মরদেহ তার গ্রামের বাড়ি চুয়াডাঙ্গায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। খুবির ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক অধ্যাপক ড. মো. সালাউদ্দীন বলেন, ঘটনাটি বিশ্ববিদ্যালয়ের এলাকার বাইরে একটি ভাড়া বাড়িতে ঘটেছে। সেখানে গোপালগঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়, নর্দান বিশ্ববিদ্যালয় ও খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক কিছু শিক্ষার্থী থাকেন। আরটিভি/এসএস
ভাত খাওয়া থেকে ঘটনার শুরু, বিশ্ববিদ্যালয়ছাত্রকে হত্যায় মিলল যেসব তথ্য
সড়কে দড়ি ফেলে অপেক্ষা, ‘মুরগির’ বদলে এলো ডিবির দল
নওগাঁর পোরশায় সড়কে দড়ি ফেলে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে দেশীয় অস্ত্র ও মোটরসাইকেলসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।  ​শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) রাতে পোরশা থানাধীন শিশা বাজারের পূর্ব পাশে মাটিয়ান্দর সেতু এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতরা এলাকায় কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত বলে জানিয়েছে পুলিশ। ​গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন— নওগাঁর পত্নীতলা উপজেলার হলাকান্দর গ্রামের দেলোয়ার হোসেন (২৮), পোরশা উপজেলার ছোট কাটনা গ্রামের নাইম মাহমুদ (১৯) এবং সমনগর গ্রামের মোস্তাকিম (১৯)। ​ডিবি পুলিশ সূত্রে জানা যায়, জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলামের নির্দেশনায় ডিবি পুলিশের একটি টিম পোরশা থানা এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, ডাকাতি ও দস্যুতা প্রতিরোধে নিয়মিত টহল ডিউটি পরিচালনা করছিল। রাতে গোপন সংবাদের মাধ্যমে পুলিশ জানতে পারে, মাটিয়ান্দর সেতুর কাছাকাছি এলাকায় কতিপয় ব্যক্তি রাস্তায় দড়ি টাঙিয়ে পথচারীদের কাছ থেকে ডাকাতি করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। ​সংবাদের ভিত্তিতে ডিবি পুলিশের টিমটি মাটিয়ান্দর সেতুর কাছে পৌঁছালে, পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে আসামিরা তাদের ব্যবহৃত একটি মোটরসাইকেল ফেলে রেখে পাশের জঙ্গলে পালানোর চেষ্টা করে। পরে ডিবি সদস্যরা পিছু ধাওয়া করে তাদের গ্রেপ্তার করে। ​পরবর্তীতে উপস্থিত জনতার সামনে গ্রেপ্তারকৃতদের দেহ তল্লাশি করে ১ নম্বর আসামি দেলোয়ারের নিকট থেকে দেশীয় তৈরি তীক্ষ্ণ খাঁজকাটা একটি লম্বা হ্যান্ডেল চেইন, ২ নম্বর আসামি নাইমের নিকট থেকে একটি দেশীয় তৈরি হ্যান্ডেল চেইন এবং আসামি মোস্তাকিমের হাতের শপিং ব্যাগ থেকে ২৫ ফুট দৈর্ঘ্যের একটি দড়ি ও একটি ছোট টর্চ লাইট উদ্ধার করা হয়। একই সঙ্গে তাদের ব্যবহৃত একটি রেজিস্ট্রেশনবিহীন মোটরসাইকেল আলামত হিসেবে জব্দ করা হয়। ​বিষয়টি নিশ্চিত করে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম জানান, জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং যে-কোনো ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে পুলিশের এমন অভিযান অব্যাহত থাকবে। ​ এ ঘটনায় গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে পোরশা থানায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করে মামলা দায়ের করা হয়েছে। আরটিভি/এসএস
সড়কে দড়ি ফেলে অপেক্ষা, ‘মুরগির’ বদলে এলো ডিবির দল
সৌরশক্তিতে বদলে যাচ্ছে কৃষি, কমছে সেচ খরচ
জ্বালানি তেল ও বিদ্যুতের বাড়তি খরচের কারণে কৃষিকাজে সেচ ব্যয় যখন কৃষকদের জন্য বড় চাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে, তখন সৌরশক্তিনির্ভর সেচ ব্যবস্থায় নতুন সম্ভাবনা দেখছেন ঝিনাইদহের প্রান্তিক কৃষকেরা।  জেলার বিভিন্ন উপজেলায় সোলার পাম্প স্থাপনের মাধ্যমে সেচ খরচ কমানোর পাশাপাশি বাড়তি আয়ের সুযোগ তৈরি হয়েছে কৃষকদের। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ঝিনাইদহ সদর, কোটচাঁদপুর ও মহেশপুর উপজেলায় ইতোমধ্যে ৩৬টি সোলার পাম্প স্থাপন করা হয়েছে। এর মধ্যে সদর উপজেলায় ৩টি, কোটচাঁদপুরে ১টি এবং মহেশপুরে ৩২টি পাম্প রয়েছে। পর্যায়ক্রমে জেলার অন্যান্য এলাকাতেও সোলার পাম্প স্থাপনের কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। বিশ্বব্যাংকের অর্থায়ন এবং পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশনের (পিকেএসএফ) কারিগরি সহায়তায় রুরাল রিকনস্ট্রাকশন ফাউন্ডেশনের (আরআরএফ) বাস্তবায়নাধীন ‘স্মার্ট’ প্রকল্পের আওতায় স্থাপন করা হচ্ছে এসব সৌরবিদ্যুৎচালিত সেচ পাম্প। সোলার পাম্প ব্যবহারকারী কৃষকেরা জানান, প্রচলিত ডিজেলচালিত সেচ ব্যবস্থার তুলনায় সৌরবিদ্যুৎ চালিত পাম্পে পরিচালন ব্যয় কম। এতে নিজেদের জমিতে সেচ দেওয়ার পাশাপাশি অন্য কৃষকদের জমিতে সেচ দিয়ে বাড়তি উপার্জনের সুযোগ তৈরি হচ্ছে। বিশেষ করে মহেশপুরের সীমান্তবর্তী এলাকায় ফুলচাষীদের জন্য এ উদ্যোগ নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে। ঝিনাইদহ সদর উপজেলার কৃষক হাবিবুর রহমান বলেন, সোলার পাম্প স্থাপনে তার ১ লাখ ৭০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। এর মধ্যে আরআরএফের ‘স্মার্ট’ প্রকল্প থেকে ৪৫ হাজার টাকা অনুদান পেয়েছেন তিনি। মহেশপুরের কৃষক সাদিকুল রহমান বলেন, সীমান্তবর্তী এলাকায় আরআরএফ প্রথমবারের মতো ফুলচাষিদের নিয়ে কাজ করছে। প্রকল্পের ঋণ ও অনুদানের মাধ্যমে সোলার পাম্প স্থাপন করেছেন তিনি। নিজের জমিতে সেচ দেওয়ার পাশাপাশি অন্য ১৫ বিঘা জমিতেও সেচ দিচ্ছেন। ফুলচাষি গফুর মিয়া বলেন, সোলার পাম্প স্থাপনের পর তার তেল ও বিদ্যুৎ খরচ হচ্ছে না। নিজের জমির চাহিদা পূরণের পাশাপাশি বাড়তি উপার্জন করতে পারছেন তিনি। আরআরএফের সিনিয়র সহকারী পরিচালক কৃষিবিদ ড. অসিত বরণ মণ্ডল বলেন, পিকেএসএফের সহায়তায় ‘স্মার্ট’ প্রকল্পের মাধ্যমে ইতোমধ্যে ৩৬টি সোলার পাম্প স্থাপন করা হয়েছে। সামনে আরও ১০০টির বেশি পাম্প স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। আগে এক বিঘা জমিতে সেচ দিতে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা খরচ হলেও সোলার পাম্পে খরচ হচ্ছে প্রায় ২০০ টাকা। এতে কৃষকদের সেচ খরচ কমার পাশাপাশি পরিবেশের ওপর নেতিবাচক প্রভাবও কমবে। আরটিভি/এসএস
সৌরশক্তিতে বদলে যাচ্ছে কৃষি, কমছে সেচ খরচ
আরও পড়ুন
জামিনে বেরিয়ে ‘ধর্ষণ মামলা’ তুলে নিতে বাদীকে হুমকির অভিযোগ
গোবিপ্রবির ভিসিকে অবরুদ্ধ করে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন
ভালোবেসে বিয়ে, সেই স্বামীর হাতেই প্রাণ গেল মিমের
গোপালগঞ্জে নারীদের ব্যতিক্রমী নৌকা বাইচ