শরিফের বাঁচার আকুতি, প্রয়োজন ২২ লাখ টাকা

চরফ্যাশন (ভোলা) প্রতিনিধি, আরটিভি নিউজ

শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ , ০৯:১০ পিএম


শরিফের বাঁচার আকুতি, জীবনের জন্য প্রয়োজন ২২ লাখ টাকা
ছবি: প্রতিনিধি

মো. শরিফ। ১৫ বছরের কিশোর। বর্তমানে জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে লড়াই করে যাচ্ছে। ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার এক অসহায় পরিবারের সন্তান এই কিশোরের চিকিৎসার জন্য প্রয়োজন প্রায় ২২ লাখ টাকা, যা তার ভ্যানচালক বাবার পক্ষে কোনোভাবেই জোগাড় করা সম্ভব নয়। অর্থের অভাবে চিকিৎসা কার্যক্রম বন্ধ হওয়ায় প্রতিটি দিন যেন পরিবারটির জন্য দুঃস্বপ্ন হয়ে উঠছে।

বিজ্ঞাপন

শরিফ চরফ্যাশন পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা আবুল কালামের ছোট ছেলে। পরিবার সূত্রে জানা যায়, প্রায় ছয় বছর আগে হঠাৎ করেই শরিফ গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ে। প্রথমে তাকে স্থানীয় চরফ্যাশন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়া হয়।

বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসকরা জানান, শরিফ ডুচেন মাসকুলার ডিস্ট্রফি (ডিএমডি) একটি গুরুতর  বংশগত বিরল রোগে আক্রান্ত। এটির চিকিৎসা বেশ ব্যয়বহুল এবং যা ধীরে ধীরে পেশিশক্তি নষ্ট করে দেয়। চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী, উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে বিদেশে (ভারত) নিয়ে যেতে হবে। সম্পূর্ণ চিকিৎসার জন্য প্রয়োজন প্রায় ২২ লাখ টাকা।

বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন

শরিফের বাবা আবুল কালাম পেশায় একজন দিনমজুর ও ভ্যানচালক। প্রতিদিন ভ্যান চালিয়ে যা আয় করেন, তা দিয়ে কোনো রকমে সংসার চালান। ছেলের চিকিৎসার খরচ জোগাতে তিনি ইতোমধ্যে তার ভ্যানগাড়ি ও এক শতাংশ জমি বিক্রি করেছেন। পাশাপাশি এনজিও থেকে এক লাখ টাকা ঋণ এবং আত্মীয়-স্বজনের কাছ থেকে ধারদেনা করেছেন। কিন্তু প্রয়োজনীয় অর্থের তুলনায় তা অপ্রতুল।

আবুল কালাম বলেন, ছেলেকে পাঁচ বছর বয়সে মাদরাসায় ভর্তি করাই। নয় বছর বয়সে দেখি ওর হাঁটতে সমস্যা হচ্ছে। স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা করিয়েও কোনো উন্নতি হয়নি। পরে ঢাকায় নিয়ে গেলে ডাক্তার বলেন, উন্নত চিকিৎসা ছাড়া ওকে সুস্থ করা সম্ভব নয়। এখন ভারতে নিতে হলে ২২ লাখ টাকা লাগবে। আমি সরকারের কাছে সহযোগিতা চাই। 

বিজ্ঞাপন

শরিফের মা ফাতেমা জানান, নয় বছর বয়স পর্যন্ত আমার ছেলে একদম স্বাভাবিক ছিল। হঠাৎ করেই অসুস্থ হয়ে পড়ে। এখন সে হাঁটতে পারে না। ডাক্তার বলেছেন রোগটি খুব জটিল। আমাদের পক্ষে চিকিৎসার খরচ চালানো সম্ভব নয়। 

স্থানীয় বাসিন্দা মফিজ উদ্দিন বলেন, পরিবারটি অনেকদিন ধরে চেষ্টা করছে। আমরা প্রতিবেশীরাও শুরুতে সহযোগিতা করেছি। কিন্তু এত বড় অঙ্কের টাকা তাদের পক্ষে জোগাড় করা সম্ভব নয়। সরকারি সহায়তা পেলে হয়তো শরিফের চিকিৎসা চালানো সম্ভব হবে। 

এ বিষয়ে উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. মামুন হোসেন বলেন, শরিফের বর্তমান শারীরিক পরিস্থিতির বিষয়ে খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার ব্যবস্থা করা হবে। 

আরটিভি/এমআই

 

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps
বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission