ঢাকা বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩

মরণাপন্ন শিশুকে নামিয়ে অ্যাম্বুলেন্স নিয়ে বেড়াতে গেলেন স্বাস্থ্য কর্মকর্তা

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৫:২২ পিএম
ডা. আশরাফুজ্জামান লিটন। ছবি: সংগৃহীত

মাগুরার শ্রীপুরে কীটনাশক পান করা সাত বছর বয়সী এক অসুস্থ শিশুকে সরকারি অ্যাম্বুলেন্স থেকে নামিয়ে দেওয়া এবং ব্যক্তিগত কাজে অ্যাম্বুলেন্স নিয়ে বেড়াতে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আশরাফুজ্জামান লিটনের বিরুদ্ধে।

সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে শ্রীপুর উপজেলার দারিয়াপুরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এ ঘটনা ঘটে। অসুস্থ শিশুটির নাম আফিয়া খাতুন (৭)। সে মাগুরা সদর উপজেলার শেখ পাড়া গ্রামের বাসিন্দা ইলিয়াস আলীর মেয়ে।

জানা গেছে, ১৬ ফেব্রুয়ারি সকালে মাগুরা সদরের শেখপাড়া এলাকা থেকে শিশু আফিয়া একটি অনুষ্ঠান উপলক্ষে তার মামা বাড়ি শ্রীপুর উপজেলার দারিয়াপুর ইউনিয়নের চরচৌগাছি গ্রামে যায়। মামা বাড়ির ঘরের কোণে কৃষিজমিতে ব্যবহৃত কীটনাশক রাখা ছিল। খেলার ছলে শিশুটি অসাবধানতাবশত ওই কীটনাশক হাত-পায়ে মাখে এবং খেয়ে ফেলে।

এরপর শিশুটি অসুস্থ হয়ে পড়লে স্বজনরা দ্রুত তাকে দারিয়াপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জরুরি বিভাগে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক শিশুটির শারীরিক অবস্থা বিবেচনায় তাকে দ্রুত মাগুরা ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট সদর হাসপাতালে রেফার্ড করেন।

এরপর শিশুটির স্বজনরা সরকারি অ্যাম্বুলেন্সের চালক আকিদুল ইসলামের সঙ্গে কথা বলে অ্যাম্বুলেন্সে ওঠেন। তবে প্রায় ২০ মিনিট অপেক্ষার পর চালক রোগীর স্বজনদের অসুস্থ শিশুকেসহ নেমে যেতে বলেন।

রোগীর স্বজনদের ভাষ্য— কারণ জানতে চাইলে চালক জানান, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (টিএইচও) জরুরি কাজে অ্যাম্বুলেন্সটি ব্যবহার করবেন এবং রোগীকে অন্য যানবাহনে করে যেতে বলেছেন। সরকারি অ্যাম্বুলেন্স রোগী পরিবহনের জন্য। অথচ টিএইচওর নির্দেশে অসুস্থ শিশুটিসহ আমাদের নামিয়ে দেওয়া হয়। বাধ্য হয়ে আমরা ইজিবাইকে করে শিশুটিকে মাগুরা হাসপাতালে নিয়ে যাই। আমরা এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার চাই।

আরও পড়ুন

এ বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আশরাফুজ্জামান লিটন বলেন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে মাগুরা সদর হাসপাতাল খুব বেশি দূরে নয়। সে কারণে বিকল্পভাবে যাওয়ার কথা বলা হয়েছে। আমার সরকারি গাড়ির দুই বছর ধরে জ্বালানি বরাদ্দ বন্ধ রয়েছে। কিছু জরুরি প্রশাসনিক কাজে হাসপাতালের অ্যাম্বুলেন্স ব্যবহার করতে হয়।

এ বিষয়ে শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ সালেক মূহিদ বলেন, দারিয়াপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এম্বুলেন্স সংক্রান্ত ঘটনাটি সম্পর্কে আমরা অবগত হয়েছি। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট জেলা কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হবে। ভবিষ্যতে যেন অ্যাম্বুলেন্স সাধারণ রোগীদের সেবায় সর্বদা ব্যবহৃত হয়, সে বিষয়ে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মাগুরার সিভিল সার্জন ডা. মো. শামীম কবির সাংবাদিকদের বলেন, অসুস্থ শিশুটিকে অ্যাম্বুলেন্স থেকে কোনোভাবেই নামানো উচিত হয়নি। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এদিকে ঘটনাটি এলাকায় জানাজানি হলে ডা. আশরাফুজ্জামান লিটনের বিরুদ্ধে সমালোচনার ঝড় ওঠে। যদিও ডা. আশরাফুজ্জামান লিটন বলেছেন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে মাগুরা সদর হাসপাতাল খুব বেশি দূরে নয়। কিন্তু জানা যায় প্রায় ২৫ কিলোমিটার দূরে সেই হাসপাতাল। ইজিবাইকে যেতে লাগে প্রায় এক ঘণ্টা।

আরটিভি/এমএ

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
কামালের নামে ধর্ষণের মিথ্যা মামলা করে ফেঁসে গেলেন নারী 
নেত্রকোনায় মিথ্যা ধর্ষণ মামলা করে এক ব্যক্তিকে কারাভোগে বাধ্য করার দায়ে লিপি আক্তার (৩৯) নামের এক নারীকে এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও তিন মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) বিকেলে নেত্রকোনার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক এ কে এম এমদাদুল হক এ রায় ঘোষণা করেন। ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট নুরুল কবির রুবেল রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, রায় ঘোষণার সময় দণ্ডপ্রাপ্ত লিপি আক্তার আদালতের কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন। তিনি জেলার বারহাট্টা উপজেলার বিক্রমশ্রী গ্রামের বাসিন্দা। আদালত ও মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০০৮ সালে একই গ্রামের কামাল উদ্দিনের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা করেন লিপি আক্তার। মামলায় নিজেকে আট মাসের অন্তঃসত্ত্বা দাবি করলে পুলিশ কামাল উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করে। পরে প্রায় দুই মাস কারাগারে থাকতে হয় তাকে। লিপি আক্তারের সন্তান জন্মের পর শিশুটির পিতৃত্ব নির্ধারণে ডিএনএ পরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষার প্রতিবেদনে কামাল উদ্দিনকে শিশুটির জৈবিক পিতা হিসেবে শনাক্ত করা হয়নি। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে ২০১৯ সালে আদালত ধর্ষণের অভিযোগ থেকে কামাল উদ্দিনকে খালাস দেন। এরপর মিথ্যা অভিযোগে মামলা করে তাকে কারাভোগে বাধ্য করার প্রতিকার চেয়ে ২০২০ সালে লিপি আক্তারের বিরুদ্ধে পাল্টা মামলা করেন কামাল উদ্দিন। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ায় সাক্ষ্যপ্রমাণ পর্যালোচনা শেষে আদালত লিপি আক্তারকে দোষী সাব্যস্ত করে এ দণ্ডাদেশ দেন। আরটিভি/এসকে
কামালের নামে ধর্ষণের মিথ্যা মামলা করে ফেঁসে গেলেন নারী 
চার মাস ধরে ছাত্রকে বলাৎকার, প্রধান শিক্ষককে বেধড়ক পিটুনি
সিলেটের গোলাপগঞ্জে এক ছাত্রকে বলাৎকারের অভিযোগে একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
চার মাস ধরে ছাত্রকে বলাৎকার, প্রধান শিক্ষককে বেধড়ক পিটুনি
চুল কাটতে বলায় পরীক্ষার হলে কলম দিয়ে শিক্ষককে রক্তাক্ত করল ছাত্র
চট্টগ্রামের রাউজানে পরীক্ষার হলে চুল লম্বা রাখার কারণ জানতে চেয়ে শাসন করায় এক শিক্ষককে কলম দিয়ে একাধিক আঘাত করে রক্তাক্ত করেছে নবম শ্রেণির এক ছাত্র। আহত শিক্ষককে হাসপাতালে নেওয়া হলে তাঁর মাথায় সেলাই দিতে হয়।
চুল কাটতে বলায় পরীক্ষার হলে কলম দিয়ে শিক্ষককে রক্তাক্ত করল ছাত্র
বাছুরের খড় খাওয়া নিয়ে বিরোধ, প্রাণ গেল একজনের
নওগাঁর মান্দায় বাছুরের খড় খাওয়া নিয়ে বিরোধের জেরে শহিদুল ইসলাম (৪২) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় তার ছোট ভাই সাইফুল ইসলাম ও স্ত্রী সাথী আক্তার আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে সাইফুল ইসলামের মাথায় গুরুতর আঘাত লেগেছে বলে জানা গেছে।
বাছুরের খড় খাওয়া নিয়ে বিরোধ, প্রাণ গেল একজনের
সামাজিক মাধ্যমে তোলপাড়, কে এই ‘বাংলার কৃষ’
দিনে জীবিকার তাগিদে কাজ করেন এসএস পাইপ মিস্ত্রি হিসেবে। আর অবসর পেলেই মেতে ওঠেন সুপারহিরো হওয়ার স্বপ্ন পূরণের সাধনায়। বোনের পুরোনো বোরকাকে কৃষের পোশাকে রূপ দিয়ে নানা কসরত ও স্টান্ট দেখানোর চেষ্টা করেন তিনি।
সামাজিক মাধ্যমে তোলপাড়, কে এই ‘বাংলার কৃষ’
আরও পড়ুন
চবি শিক্ষার্থীদের জন্য ৫০ লাখ টাকার অ্যাম্বুলেন্স দিল চাকসু
সরকারি অ্যাম্বুলেন্সে ছাগল বহন, ভিডিও ভাইরালের পর চাকরি হারালেন চালক
পৌরসভার অ্যাম্বুলেন্সে ছাগল পরিবহন, ভিডিও ভাইরাল
রাবি শিক্ষার্থীদের চিকিৎসাসেবায় অ্যাম্বুলেন্স উপহার দিল শাখা ছাত্রশিবির