চট্টগ্রামের হালিশহরে একটি ছয়তলা ভবনের ফ্ল্যাটে গ্যাস বিস্ফোরণের পর আগুন লাগার ঘটনায় ৯ জন দগ্ধ হওয়ার পর পৃথক দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (কেজিডিসিএল) ও ফায়ার সার্ভিস নিজ নিজ পক্ষ থেকে মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) এই কমিটি করেছে।
কেজিডিসিএলের মহাব্যবস্থাপক কবির উদ্দিন আহম্মদ জানান, তিন সদস্যের একটি কমিটিকে তিন কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। তারা দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখবে। আগ্রাবাদ ফায়ার সার্ভিসের উপ-সহকারী পরিচালক আলমগীর হোসেন বলেন, ফায়ার সার্ভিসও আলাদা তদন্ত করছে।
সোমবার ভোর সাড়ে ৪টার দিকে হালিশহর এইচ ব্লকের ‘হালিমা মঞ্জিল’ ভবনের তৃতীয় তলার একটি ফ্ল্যাটে বিকট শব্দে বিস্ফোরণের পর আগুন ধরে যায়। প্রতিবেশীরা জানান, শরীরে আগুন নিয়ে বাসিন্দারা ঘর থেকে বেরিয়ে আসেন। দগ্ধ ৯ জনের মধ্যে তিনজন মারা গেছেন।
ঢাকায় নেওয়ার পথে ৪০ বছর বয়সী নুরজাহান আক্তার রানী মারা যান। পরে তার ১৬ বছর বয়সী ছেলে শাওন ও শাওনের চাচা সামিরও মারা যান। রানীর শরীর শতভাগ, শাওনের ৫০ শতাংশ এবং সামিরের ৪৫ শতাংশ পুড়ে গিয়েছিল।
দগ্ধদের মধ্যে বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন রানীর স্বামী সাখাওয়াত হোসেন, মেয়ে উম্মে আইমান স্নিগ্ধা, সামিরের স্ত্রী আশুরা আক্তার পাখি, তাদের সন্তান আয়েশা ও ফারহান আহমেদ আনাছ এবং সাখাওয়াতের আরেক ভাই শিপন হোসাইন। পাখি ও সাখাওয়াতের শরীর শতভাগ পুড়েছে, শিপনের ৮০, আইমানের ৩৮, আয়েশার ৪৫ এবং আনাছের ৩০ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে।
গ্যারেজ মালিক সাখাওয়াত দেড় বছর আগে ফ্ল্যাটটি ভাড়া নেন। তিনি স্ত্রী, সন্তান ও এক কর্মচারীসহ সেখানে থাকতেন। কয়েক দিন আগে চিকিৎসার জন্য তার ছোট ভাই পরিবার নিয়ে সেখানে উঠেছিলেন।
দুর্ঘটনার পর ফায়ার সার্ভিস প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে, ঘরে জমে থাকা গ্যাস থেকেই বিস্ফোরণ ঘটতে পারে। তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত কারণ জানা যাবে।
আরটিভি/এমআই





