১৫ লাখ টাকা দিয়ে শ্বশুরকে হত্যা করালেন জামাই

আরটিভি নিউজ

সোমবার, ০২ মার্চ ২০২৬ , ১২:২৩ পিএম


১৫ লাখ টাকা দিয়ে শ্বশুরকে হত্যা করালেন জামাই
ছবি: সংগৃহীত

যশোর শহরের শংকরপুরে বিএনপি নেতা আলমগীর হোসেন হত্যা মামলায় চাঞ্চল্যকর তথ্য উদঘাটন করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে ১৭ মামলার আসামি মনিরুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। রোববার (১ মার্চ) তিনি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

বিজ্ঞাপন

ডিবি সূত্র জানায়, শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) রাতের দিকে শহরতলীর ঝুমঝুমপুরের মাস্টারপাড়া এলাকা থেকে মনিরুলকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি শহরের ষষ্ঠীতলাপাড়ার আব্দুল খালেকের ছেলে।

যশোর সদর আমলি আদালতের বিচারক জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সাকিব আহম্মেদ ইমন মনিরুলের জবানবন্দি গ্রহণ করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। ডিবির উপপরিদর্শক (এসআই) অলক কুমার দে জানান, মনিরুলের বিরুদ্ধে হত্যা ও অস্ত্রসহ মোট ১৭টি মামলা রয়েছে। আদালতে তিনি আলমগীর হোসেন হত্যায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন।

বিজ্ঞাপন

স্বীকারোক্তিতে উল্লেখ হয়েছে, হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী ছিলেন নিহতের জামাই পরশ। তিনি শ্বশুরকে হত্যার জন্য ১৫ লাখ টাকার চুক্তি করেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী, হত্যার মিশনে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের ৫ লাখ টাকা দেওয়ার কথা ছিল। ঘটনার দিন বিকেলে শুটার ত্রিদিব ওরফে মিশুককে ১ লাখ টাকা ও একটি পিস্তল হস্তান্তর করেন পরশ।

বাকি ৪ লাখ টাকা পরে শংকরপুরের প্রিন্সের কাছ থেকে ধার নিয়ে দেওয়ার এবং অবশিষ্ট ১০ লাখ টাকা পরে পরিশোধের প্রতিশ্রুতি দেন পরশ। হত্যাকাণ্ডে মোট ১০ থেকে ১২ জন অংশ নেন।

বিজ্ঞাপন

হত্যাকাণ্ডের দিন, তিনটি মোটরসাইকেলে ভাগ হয়ে হামলাকারীরা অভিযানে নামে। প্রথম মোটরসাইকেলে ছিলেন অমিত ও শুটার মিশুক। দ্বিতীয় ও তৃতীয় মোটরসাইকেলে ছিলেন বাকিরা।

গত ৩ জানুয়ারি সন্ধ্যা ছয়টার দিকে আলমগীর হোসেন শংকরপুর বটতলা থেকে ইসহাক সড়কে প্রবেশ করলে তিনটি মোটরসাইকেল তাকে অনুসরণ করে। ইসহাক সড়কে একটি দোকানে কিছুক্ষণ থামলে হামলাকারীরাও অবস্থান নেন। সাবেক কাউন্সিলর নয়নের অফিসের কাছে পৌঁছালে চলন্ত মোটরসাইকেল থেকে গুলি চালান মিশুক। এরপর দুই মোটরসাইকেলে চারজন দ্রুত গোলপাতা মসজিদের দিকে পালিয়ে যান, আর অপরটি বটতলার দিকে ফিরে যায়।

বিজ্ঞাপন

হত্যার পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে নিহতের জামাই পরশ ও তার সহযোগী সাগরকে আটক করে। তাদের তথ্যের ভিত্তিতে বেজপাড়ার ত্রিদিব ওরফে মিশুক এবং পরে রায়পাড়া তুলোতলা এলাকার শাহীন কাজীকে গ্রেপ্তার করা হয়। শাহীন কাজীর জবানবন্দিতে মনিরুলের নাম উঠে আসে এবং তারও গ্রেপ্তার ঘটানো হয়।

অপরদিকে, নিহত আলমগীর হোসেনের স্ত্রী শামীমা কোতোয়ালি থানায় জামাই পরশ, সাগরসহ অজ্ঞাত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন।তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, হত্যায় ব্যবহৃত মোটরসাইকেলও উদ্ধার করা হয়েছে। এতে লেখা ছিল: হাদি ইজ নট নেম, হাদি মিনস বাংলাদেশ।

ডিবি পুলিশ বলেছে, হত্যাকাণ্ডে জড়িত অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান এখনও অব্যাহত রয়েছে।

আরটিভি/এসকে

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps
বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission