ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলায় পাওনা টাকা আদায় ও জিম্মাদার হওয়া নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে এক ভয়াবহ ও রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।
বুধবার (৪ মার্চ) সকালে উপজেলার বুড়িশ্বর ইউনিয়নের শ্রীঘর গ্রামে দীর্ঘক্ষণ ধরে চলা এই সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত অর্ধশত লোক আহত হয়েছেন। সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আরুশ মিয়া নামের এক ব্যক্তি গুনিয়াউক ইউনিয়নের চিতনা গ্রামের জনৈক ব্যক্তির কাছে এক লাখ টাকা পাওনা ছিলেন। ওই টাকার জিম্মাদার ছিলেন শ্রীঘর গ্রামের নুরধন মিয়ার ছেলে শাহজাহান। কিন্তু নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও টাকা পরিশোধ না হওয়ায় মঙ্গলবার রাতে আরুশ মিয়া ও নূরধন মিয়ার মধ্যে প্রচণ্ড কথা-কাটাকাটি ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। রাতেই উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে পুলিশ ও স্থানীয় মাতব্বরদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি সাময়িকভাবে শান্ত হয়।
মঙ্গলবার রাতের ঘটনার রেশ ধরে বুধবার সকালে আবারও উভয় পক্ষের লোকজন ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। একপর্যায়ে খবরটি গ্রামে ছড়িয়ে পড়লে দুই পক্ষের সমর্থকরা রামদা, বল্লম ও লাঠিসোঁটাসহ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে একে অপরের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। থেমে থেমে চলা এই সংঘর্ষে পুরো শ্রীঘর গ্রাম রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। সংঘর্ষ চলাকালে ব্যাপক ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করা হয় এবং প্রতিপক্ষের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে ঘটনাস্থলের পাশের মো. মজনু মিয়ার একটি টিনশেড ঘর ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানা গেছে।
স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে নাসিরনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং পার্শ্ববর্তী হবিগঞ্জ জেলার লাখাই ও মাধবপুর উপজেলার বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করেছেন। এদের মধ্যে সুজন মিয়া (১৯) নামের এক যুবকের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। অন্যান্য আহতদের শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্রের আঘাত ও জখমের চিহ্ন রয়েছে।
নাসিরনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীনুল ইসলাম জানান, পাওনা টাকা পরিশোধ নিয়ে দ্বন্দ্বে মঙ্গলবার রাতেই নূরধন মিয়াকে মারধর করা হয়েছিল। পুলিশ রাতে পরিস্থিতি শান্ত করলেও সকালে দুই পক্ষ আবারও সংঘর্ষে লিপ্ত হয়।
তিনি আরও বলেন, বর্তমানে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে আছে। কোনো পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ পাওয়া যায়নি, তবে অভিযোগ পেলে দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আরটিভি/এআর




