প্রধান শিক্ষককে লাঞ্ছিত করে চেয়ার দখল, জামায়াতপন্থী সহকারী শিক্ষক কারাগারে

আরটিভি নিউজ

বৃহস্পতিবার, ০৫ মার্চ ২০২৬ , ০৮:৪৪ পিএম


প্রধান শিক্ষককে লাঞ্ছিত করে চেয়ার দখল, জামায়াতপন্থী সহকারী শিক্ষক কারাগারে
ছবি: সংগৃহীত

সাতক্ষীরার সদর উপজেলার বল্লী মো. মুজিবুর রহমান মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষককে শারীরিক ও মানসিকভাবে হেনস্তা, মারধর এবং জোরপূর্বক তার চেয়ার দখলের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় সহকারী শিক্ষক একেএম আজহারুজ্জামান মুকুলকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।

বিজ্ঞাপন

বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) দুপুরে সাতক্ষীরা জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. নজরুল ইসলাম এই আদেশ দেন। অভিযুক্ত মুকুল বল্লী ইউনিয়ন জামায়াতের সেক্রেটারি এবং দীর্ঘদিন ধরে ওই বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, ২০২৪ সালের ৬ আগস্ট রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর বেলা ১১টার দিকে একদল বহিরাগত লোক নিয়ে বিদ্যালয়ে প্রবেশ করেন আজহারুজ্জামান মুকুল। তারা ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. জামিলুজ্জামানকে তার কক্ষ থেকে শারীরিক ও মানসিকভাবে লাঞ্ছিত করে বের করে দেন। মুকুল নিজে সেই চেয়ারে বসে নিজেকে প্রধান শিক্ষক হিসেবে জাহির করার চেষ্টা করেন।

বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন

এই ন্যক্কারজনক ঘটনার প্রতিবাদে এবং নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ২০২৪ সালের ১৯ নভেম্বর ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক জামিলুজ্জামান সাতক্ষীরা আমলি আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন। আদালত মামলাটির অধিকতর তদন্তের দায়িত্ব দেয় সিআইডিকে। সিআইডি কর্মকর্তা মাছুদ পারভেজ ঘটনার দীর্ঘ তদন্ত শেষে ২০২৫ সালের ১০ নভেম্বর মুকুলসহ ১০ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন। তদন্তে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে অবৈধভাবে পদ ও কক্ষ দখলের সত্যতা প্রমাণিত হয়েছে বলে সিআইডি জানায়।

কারাগারে যাওয়ার আগে অভিযুক্ত মুকুল উচ্চ আদালতে জামিনের জন্য আবেদন করেছিলেন। তবে উচ্চ আদালত তাকে জামিন না দিয়ে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেন। সেই নির্দেশনা অনুযায়ী আজ বৃহস্পতিবার সাতক্ষীরা জেলা জজ আদালতে হাজির হয়ে মুকুল জামিন প্রার্থনা করলে আদালত তা নামঞ্জুর করে তাকে জেলহাজতে প্রেরণের নির্দেশ দেন।

বিজ্ঞাপন

বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আব্দুল মুজিদ বলেন, সিআইডির তদন্তে মুকুলের বিরুদ্ধে বেআইনিভাবে পেশিশক্তি ব্যবহারের প্রমাণ মিলেছে, যার পরিপ্রেক্ষিতে আদালত এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

বিদ্যালয় সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আজহারুজ্জামান মুকুল সহকারী শিক্ষক পদে থাকলেও গত ১২ বছর ধরে তিনি বিদ্যালয়ে অত্যন্ত অনিয়মিত ছিলেন। শিক্ষকতা পেশার চেয়ে তিনি রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডেই বেশি ব্যস্ত থাকতেন। তবে বিস্ময়কর তথ্য হলো, দিনের পর দিন বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থাকা সত্ত্বেও রাজনৈতিক প্রভাবে তিনি নিয়মিত বেতন-ভাতা উত্তোলন করে আসছিলেন। 

অন্যদিকে, ভুক্তভোগী শিক্ষক জামিলুজ্জামান ২০০২ সাল থেকে অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে ওই বিদ্যালয়ে কর্মরত। বিধি মোতাবেক সহকারী প্রধান শিক্ষক থেকে তিনি ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পান।

আরটিভি/এআর

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps
বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission