ঢাকা বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩

খাগড়াছড়িতে বনমোরগ জব্দ করে ‘দেশি মোরগ’ অবমুক্ত, অতঃপর...

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ০৭ মার্চ ২০২৬, ০১:১০ পিএম
উদ্ধার হওয়া বনমোরগ (ডানে) ও বনে অবমুক্ত করা মোরগ (বামে)। ছবি: সংগৃহীত

খাগড়াছড়িতে বন বিভাগের অভিযানে জব্দ হওয়া বনমোরগ অবমুক্ত না করে দেশি মোরগ অবমুক্ত করার অভিযোগ তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে।

শুক্রবার (৬ মার্চ) রাতে খাগড়াছড়ির বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. ফরিদ মিঞা তদন্ত কমিটিটি গঠন করেন। এ আগে বৃহস্পতিবার গুইমারা উপজেলার জালিয়াপাড়া রেঞ্জ কার্যালয়ের সামনে এক ব্যক্তির কাছ থেকে বনমোরগটি উদ্ধার করে বন বিভাগ। এ সময় মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয় ওই ব্যক্তিকে। নিয়ম অনুযায়ী, ওই মোরগ নিকটস্থ বনে অবমুক্ত করার কথা বন বিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তার। তবে উদ্ধার করা ওই বনমোরগ অবমুক্ত না করার অভিযোগ ওঠে জালিয়াপাড়া রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. সিরাজুল ইসলামের বিরুদ্ধে।

অভিযানের পর উদ্ধার করা বনমোরগটি অবমুক্ত করা হয়েছে দাবি করে তিনি একটি ছবি স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীদের পাঠান।

তবে ছবিতে থাকা মোরগটি জব্দ হওয়া বনমোরগ নয় বলে জানান স্থানীয় বাসিন্দারা।

তাদের দাবি, বনমোরগ জব্দ করে দেশি মোরগ অবমুক্ত করা হয়েছে। জানতে চাইলে রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, গণমাধ্যমকর্মীদের পাঠানো ছবিটি আগের বছরের। এটি কেন পাঠানো হলো, তা জানতে চাইলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

আরও পড়ুন

এ বিষয়ে বন কর্মকর্তা ফরিদ মিঞা গণমাধ্যমকে বলেন, বন বিভাগের মাটিরাঙ্গা রেঞ্জের কর্মকর্তা মো. জাভেদুর রহমান সরকারকে প্রধান করে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন- পানছড়ি রেঞ্জ কর্মকর্তা ইলিয়াস চৌধুরী ও খাগড়াছড়ি রেঞ্জ কর্মকর্তা এস এম মোশারফ হোসেন। তাদের জরুরি ভিত্তিতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এদিকে মোরগ অবমুক্ত করার যে ছবি গণমাধ্যমকর্মীদের কাছে পাঠানো হয়, এটি যে বনমোরগ নয়, সেটি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক মনজুরুল কিবরিয়া।

আরটিভি/এমএইচজে

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
পুলিশের নাম ভাঙিয়ে চাঁদা দাবির অভিযোগে গ্রেপ্তার ২
খুলনার পাইকগাছায় পুলিশের তালিকায় নাম রয়েছে—এমন ভয় দেখিয়ে এক স্কুলশিক্ষকসহ একাধিক ব্যক্তির কাছে চাঁদা দাবির অভিযোগে দুই যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন উপজেলার গড়ইখালী ইউনিয়নের হোগলারচক গ্রামের জামাত আলী সরদারের ছেলে আবদুল কাদের সরদার (৩৮) ও খোকন গাইনের ছেলে রনি গাইন (২৬)। পুলিশ ও ভুক্তভোগী পরিবারের সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার বাইনবাড়িয়া এলাকার স্কুলশিক্ষক ঠাকুরদাসসহ স্থানীয় একাধিক ব্যক্তির নাম পুলিশের তালিকায় রয়েছে বলে দাবি করেন ওই দুই যুবক। তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার কথা বলে তারা টাকা দাবি করেন। বিষয়টি কাউকে না জানানোর জন্যও বলা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। একপর্যায়ে বিষয়টি পুলিশকে জানানো হলে মুঠোফোনের সূত্র ধরে তাদের অবস্থান শনাক্ত করা হয়। মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১১টার দিকে বাইনবাড়িয়া সেতুর কাছ থেকে স্থানীয় ক্যাম্পের ইনচার্জ এসআই খায়রুলসহ থানার পুলিশের সদস্যরা কাদের ও রনিকে আটক করেন। বুধবার সকালে স্কুলশিক্ষক ঠাকুরদাস মুঠোফোনে জানান, ওই দুই যুবক তার নামসহ স্থানীয় আরও কয়েকজনের নাম উল্লেখ করে পুলিশের তালিকায় থাকার ভয় দেখিয়ে টাকা দাবি করেন। তবে দুপুরের পর থেকে তার মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়। নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় কয়েকজনের দাবি, ভয়ে ওই শিক্ষক মামলা করতে রাজি হননি। তবে এ বিষয়ে পরে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার দুই যুবককে চলতি বছরের ১৯ সেপ্টেম্বর পাইকগাছা থানায় দায়ের করা ১৭ নম্বর চাঁদাবাজির মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে। পাইকগাছা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) এস এম মিজানুর রহমান বলেন, ওই মামলায় দুজনকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে। আরটিভি/টিআর
পুলিশের নাম ভাঙিয়ে চাঁদা দাবির অভিযোগে গ্রেপ্তার ২
দুর্গাপূজা উপলক্ষে শ্রীশ্রী জগন্নাথ দেব মন্দিরে সেনাবাহিনীর আর্থিক সহায়তা
পার্বত্য চট্টগ্রামের খাগড়াছড়ি রিজিয়নের অন্তর্গত লংগদু জোনের পক্ষ থেকে রাঙামাটির লংগদু উপজেলার দুরছড়ি বাজারে অবস্থিত শ্রীশ্রী জগন্নাথ দেব মন্দির পরিদর্শন এবং আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। বুধবার (১৪ অক্টোবর) আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে সেনাসদস্যরা মন্দিরটি পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনকালে মন্দিরে পূজার সার্বিক প্রস্তুতি, আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তাসংক্রান্ত বিষয়ে খোঁজখবর নেওয়া হয়। এ সময় সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে শান্তিপূর্ণ, সুশৃঙ্খল ও উৎসবমুখর পরিবেশে পূজা উদ্‌যাপনে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেওয়া হয়। পরবর্তী সময়ে পূজার আয়োজন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে লংগদু জোনের পক্ষ থেকে মন্দির পরিচালনা কমিটির হাতে আর্থিক সহায়তা তুলে দেওয়া হয়। এ সহযোগিতার জন্য মন্দির পরিচালনা কমিটির সদস্যরা বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। পরিদর্শনকালে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও মন্দির পরিচালনা কমিটির নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী পার্বত্য অঞ্চলে বসবাসরত সব সম্প্রদায়ের মধ্যে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, ভ্রাতৃত্ববোধ ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান বজায় রাখতে সামাজিক ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে বলে অনুষ্ঠানে প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়। আরটিভি/টিআর
দুর্গাপূজা উপলক্ষে শ্রীশ্রী জগন্নাথ দেব মন্দিরে সেনাবাহিনীর আর্থিক সহায়তা
নদীর ব্লক নির্মাণে লবণপানির বালু ব্যবহারের অভিযোগ
আমতলীর পায়রা নদীর এক হাজার ২০০ মিটার ব্লক নির্মাণে লবণপানির বালু ব্যবহার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ওই বালুতে প্রয়োজনীয় এফএম মান নেই। বুধবার (১৪ অক্টোবর) এ বালু দিয়ে ব্লক নির্মাণকাজ শুরু করেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। ফলে অল্প দিনের মধ্যেই ব্লক নষ্ট হয়ে ক্ষয়ে যাবে। এতে সরকারের শত কোটি টাকার উন্নয়ন ভেস্তে যাবে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। দ্রুত তদন্ত করে ওই বালু দিয়ে ব্লক নির্মাণ বন্ধের দাবি জানিয়েছেন তারা। জানা গেছে, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে বরগুনা পানি উন্নয়ন বোর্ড পায়রা নদীর ভয়াবহ ভাঙন রোধে ব্লক নির্মাণের উদ্যোগ নেয়। চাওড়া ইউনিয়নের বৈঠাকাটা ৪৩/১ এবং আড়পাঙ্গাশিয়া ইউনিয়নের পশুরবুনিয়া ৪৪/বি পোল্ডারে ৪ হাজার ৫০০ মিটার ব্লক নির্মাণে ১৩টি প্যাকেজে কাজ পায় বিভিন্ন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। গত দুই বছরে বেশ কয়েকটি প্যাকেজের কাজ শেষ হয়েছে। বর্তমানে ৪৩/১ নম্বর পোল্ডারে ৩ ও ৪ নম্বর প্যাকেজে ৬০০ মিটার এবং ৪৪/বি পোল্ডারে ১৪ ও ১৫ নম্বর প্যাকেজে ৬০০ মিটার ব্লক নির্মাণকাজ চলছে। ন্যাশন টেক নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ওই চার প্যাকেজের এক হাজার ২০০ মিটার ব্লক নির্মাণের কাজ পায়। দরপত্রে উল্লেখ আছে, ব্লক নির্মাণে সিলেকশন বালু ব্যবহার করতে হবে এবং বালুর এফএম মান ২.০০-এর বেশি হতে হবে। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, ওই চার প্যাকেজের ব্লক নির্মাণ করতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ন্যাশন টেক চট্টগ্রাম থেকে লবণপানির বালু এনে স্তূপ করে রেখেছে। বুধবার ন্যাশন টেকের লোকজন ওই বালু দিয়ে ব্লক নির্মাণকাজ শুরু করেছেন। বিষয়টি বরগুনা পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষকে জানালেও তারা অজ্ঞাত কারণে কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছেন না। দ্রুত তদন্ত করে ওই বালু পরিবর্তন করে সিলেকশন বালু দিয়ে ব্লক নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। স্থানীয় রহমান মিয়া, হাতেম ও খায়রুল ইসলাম বলেন, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চট্টগ্রামের লবণপানির বালু এনে স্তূপ করে রেখেছে। ওই বালু দিয়ে বুধবার (১৪ অক্টোবর) কাজ শুরু করেছে। তারা আরও বলেন, স্তূপ করা বালুর নিচে জমে থাকা পানি মুখে দিলেই বোঝা যাবে বালু কোথাকার। এ বালু দিয়ে ব্লক নির্মাণ করলে তা টেকসই হবে না। অল্প দিনের মধ্যেই ব্লক ক্ষয়ে নষ্ট হয়ে যাবে। এতে সরকারের মূল উদ্দেশ্য ব্যাহত হবে। তারা আরও বলেন, লবণপানির বালুর বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডকে অবহিত করেছেন, কিন্তু কর্তৃপক্ষ কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না। দ্রুত তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পানি উন্নয়ন বোর্ডের এক ওয়ার্ক অ্যাসিস্ট্যান্ট বলেন, পায়রা নদীর ব্লক নির্মাণে ন্যাশন টেক নামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান যে বালু স্তূপ করে রেখেছে, ওই বালুতে প্রয়োজনীয় এফএম মান নেই। ওই বালু দিয়ে ব্লক নির্মাণ করলে বেশিদিন টিকবে না। ন্যাশন টেকের সিভিল ইঞ্জিনিয়ার আবুল খায়ের বলেন, বালুর এফএম মান পরীক্ষা করে তা ফিল্ডে নামিয়ে স্তূপ করে রাখা হয়েছে। এ বালু দিয়ে ব্লক নির্মাণ করে বুয়েটে পরীক্ষা করা হবে। পরীক্ষায় উত্তীর্ণ না হলে ব্লক বাতিল করে দেওয়া হবে। বরগুনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপসহকারী প্রকৌশলী মো. আজিজুল হক সুজন বলেন, কিছু স্তূপ করা বালুতে এফএম মান কম থাকলেও সব মিলিয়ে ঠিক আছে। ন্যাশন টেক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজার মো. গোলাম ফারুক বলেন, স্তূপ করা বালু দিয়েই ব্লক নির্মাণকাজ শুরু করা হয়েছে। এ বালুতে কোনো সমস্যা নেই। সমস্যা থাকলে ব্লক নির্মাণ শেষে ল্যাব পরীক্ষায় তা ধরা পড়বে। সমস্যা ধরা পড়লে পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষ ব্লক বাতিল করে দেবে। বরগুনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী হান্নান প্রধান বলেন, বালুর এফএম মান ঠিক না থাকলে তা দিয়ে ব্লক নির্মাণ করতে দেওয়া হবে না। তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আরটিভি/টিআর
নদীর ব্লক নির্মাণে লবণপানির বালু ব্যবহারের অভিযোগ
স্কুলে প্রধান শিক্ষক ও শিক্ষিকার মারামারি, ভিডিও ভাইরাল
ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়ায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিও ঘিরে তোলপাড় চলছে। সেখানকার একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অফিসকক্ষে প্রধান শিক্ষক ও এক সহকারী শিক্ষিকা ধস্তাধস্তি ও মারামারিতে লিপ্ত হন। পেশাগত মর্যাদাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভেতরেই দুই শিক্ষকের এমন অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অভিভাবক ও স্থানীয় সচেতন মহল। ঘটনাটি ঘটেছে ফুলবাড়িয়া উপজেলার রাঙ্গামাটিয়া ইউনিয়নের আকতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। অভিযুক্ত দুই শিক্ষক হলেন, প্রধান শিক্ষক আফজাল হোসেন ও সহকারী শিক্ষিকা আসমা বেগম।  জানা গেছে, তারা সম্পর্কে স্বামী-স্ত্রী। দীর্ঘ ১৪ বছর ধরে তাদের মধ্যে পারিবারিক বিরোধ চলছে এবং তারা আলাদা বসবাস করছেন। এ নিয়ে আদালতে একাধিক মামলাও বিচারাধীন। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, প্রায় ১০ থেকে ১২ দিন আগে বিদ্যালয়ের অফিসকক্ষে এ ঘটনা ঘটে। পারিবারিক কলহের জেরে তাদের মধ্যে প্রথমে বাকবিতণ্ডা এবং পরবর্তীতে তা ধস্তাধস্তি ও হাতাহাতিতে রূপ নেয়। ঘটনার সেই দৃশ্যের ধারণকৃত ভিডিও মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সন্ধ্যার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি জনসমক্ষে আসে। অনুসন্ধানে জানা যায়, ২০০৪ সালে আফজাল হোসেন ও আসমা বেগমের বিয়ে হয় এবং তাদের একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। দীর্ঘদিন আলাদা থাকলেও এখনো তাদের মধ্যে বিবাহবিচ্ছেদ হয়নি। ২০১১ সালে দুজনই আকতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন। স্কুল অফিসে এমন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে প্রধান শিক্ষক আফজাল হোসেন বলেন, পারিবারিক নানা বিষয়ে তাদের মধ্যে বিরোধ রয়েছে, যা মাঝেমধ্যে বিদ্যালয় পর্যন্ত গড়ায়। ঘটনার দিনও সেই বিরোধের জেরেই অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এমন ঘটনা ঘটানো ঠিক হয়নি জানিয়ে তিনি আরও প্রকাশ করেন, এর আগেও দুই থেকে তিনবার স্কুলে তাদের মধ্যে এ ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছে। এ বিষয়ে সহকারী শিক্ষিকা আসমা বেগমের বক্তব্য নেওয়ার জন্য একাধিকবার মোবাইফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। পাঁচজন শিক্ষক ও প্রায় ৯০ জন শিক্ষার্থী নিয়ে পরিচালিত এ বিদ্যালয়টিতে এমন কাণ্ডে শিক্ষার সার্বিক পরিবেশ ও শিশুদের মানসিক বিকাশ নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে।  এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক মিজানুর রহমান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষকদের এমন আচরণ কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। ব্যক্তিগত কলহের প্রভাবে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয়। অবিলম্বে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া দরকার। বিষয়টি নজরে আসার কথা জানিয়ে ফুলবাড়িয়া উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন বলেন, ঘটনাটি দিন দশেক আগের হলেও ভিডিও প্রকাশের পর তা জানা গেছে।  তিনি জানান, বিদ্যালয়ে এমন শৃঙ্খলাভঙ্গের ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বুধবার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে সুপারিশমালা পাঠিয়ে চিঠি দেওয়া হবে। আরটিভি/এসআর
স্কুলে প্রধান শিক্ষক ও শিক্ষিকার মারামারি, ভিডিও ভাইরাল
ধানক্ষেত থেকে শিশুর মরদেহ উদ্ধার
বগুড়ার সোনাতলায় নিখোঁজের তিন দিন পর বড় বালুয়া এলাকার একটি ধানক্ষেত থেকে ইউসুফ (৭) নামের এক শিশুর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।  বুধবার (১৪ অক্টোবর) দুপুরে মরদেহ উদ্ধারের পর এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। নিহত ইউসুফ সোনাতলা উপজেলার বড় বালুয়া এলাকার উজ্জ্বল হোসেনের ছেলে। শিশুটির মৃত্যু কীভাবে হয়েছে, তা নিয়ে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। এটি দুর্ঘটনা নাকি হত্যাকাণ্ড, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এরই মধ্যে শিশুটির বাড়িতে কয়েকজন অপরিচিত ব্যক্তির আসা এবং এরপর থেকে তার নিখোঁজ থাকার বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা চলছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার আগের দিন শিশুটির বাড়িতে কয়েকজন অপরিচিত ব্যক্তি বেড়াতে এসেছিলেন। এরপর থেকে ইউসুফকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান না পেয়ে শিশুটির বাবা সোনাতলা থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। নিখোঁজের তিন দিন পর মঙ্গলবার দুপুরে বড় বালুয়া এলাকার একটি ধানক্ষেত থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তবে শিশুটি কীভাবে নিখোঁজ হয়েছিল এবং তার মৃত্যুর পেছনে কোনো অপরাধমূলক ঘটনা রয়েছে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়। বালুয়াহাট বাজারের এক মুদি দোকানি জানান, শিশুটির বাড়িতে কয়েকজন লোক এসেছিলেন। তারা কারা, তা জানতে চাইলে শিশুটির মা তাদের চেনেন না বলে জানান। অপরিচিত ব্যক্তিদের বাড়িতে খাওয়ানোর বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যান বলে দাবি করেন ওই দোকানি। তবে ওই ব্যক্তিরা কারা ছিলেন, কেন এসেছিলেন এবং শিশুটির নিখোঁজ হওয়ার ঘটনার সঙ্গে তাদের কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, ইউসুফ বালুয়াহাট বাজারের বিভিন্ন দোকানে পানি ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র পৌঁছে দিয়ে সহযোগিতা করত। এই কাজের বিনিময়ে বাজারের দোকানিরা তাকে ৫ থেকে ১০ টাকা করে দিতেন। এভাবেই বাজারের দোকানিদের কাছে পরিচিত হয়ে উঠেছিল শিশুটি। তার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয়দের মধ্যে শোকের পাশাপাশি নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। শিশুটির বাড়িতে আসা অপরিচিত ব্যক্তিদের পরিচয়, তার নিখোঁজ হওয়ার পরিস্থিতি এবং ধানক্ষেত থেকে মরদেহ উদ্ধারের ঘটনা তদন্তের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তবে তদন্তের আগে এসব ঘটনার মধ্যে কোনো যোগসূত্র রয়েছে বলে নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। শিশুটির মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্‌ঘাটনে সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। সোনাতলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কবির হোসেন বলেন, ৫ থেকে ৭ বছর বয়সী একটি শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। শিশুটির মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হচ্ছে। আরটিভি/টিআর
ধানক্ষেত থেকে শিশুর মরদেহ উদ্ধার
আরও পড়ুন
দুর্ঘটনায় জ্ঞান হারান মোটরসাইকেল আরোহী, পকেটে মিলল ৯৫০ পিস ইয়াবা
তিন সন্তানের বাবা শামছুলের ‘লালসার’ শিকার চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী
খাগড়াছড়িতে পর্যটকদের আকর্ষণ বাড়ছে
শরীরজুড়ে গভীর ক্ষত, হাসপাতালের মেঝেতে কাতরাচ্ছে শিশু গৃহকর্মী