ঝড়ের কবলে পড়ে ১৭ ঘণ্টা ধরে চরে আটকে আছে লঞ্চ

হাতিয়া প্রতিনিধি, আরটিভি নিউজ  

মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ ২০২৬ , ০৬:৫৭ পিএম


ঝড়ের কবলে পড়ে ১৭ ঘণ্টা ধরে চরে আটকে আছে লঞ্চ
এমভি সুগন্ধা লঞ্চ শতাধিক যাত্রী নিয়ে প্রায় ১৭ ঘণ্টা ধরে চরে আটকা রয়েছে। ছবি: আরটিভি

গভীর রাতে ঝড়ের কবলে পড়ে চরে উঠে আটকা পড়েছে ঢাকা-হাতিয়া রুটে চলাচলকারী এমভি সুগন্ধা লঞ্চ শতাধিক যাত্রী নিয়ে প্রায় ১৭ ঘণ্টা ধরে চরে আটকা রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

সোমবার (১৬ মার্চ) ঢাকা থেকে হাতিয়ার নলচিরা ঘাটের উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসা লঞ্চটি রাত ৩টার দিকে ইলিশা ঘাটের আগে ঝড়ের কবলে পড়ে চরভৈরবী এলাকায় চরে উঠে আটকে পড়ে। মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) সন্ধ্যা ৬টা ৫০ মিনিটের দিকে শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত লঞ্চটি ভাসানো সম্ভব হয়নি। আটকে পড়া যাত্রীদের সঙ্গে বিকেল ৫টার দিকে মোবাইল ফোনে কথা হলে তারা চরম দুর্ভোগ ও অসহায়ত্বের কথা জানান।

এদিকে লঞ্চ থেকে কোস্টগার্ড ও নৌবাহিনীকে বিষয়টি জানানো হলেও বিকেল পর্যন্ত যাত্রীদের উদ্ধারে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

বিজ্ঞাপন

জানা গেছে, ঢাকা-হাতিয়া রুটে যাত্রী চলাচল সহজ করতে এমভি রূপসা ও এমভি সুগন্ধা নামে দুটি নতুন লঞ্চ সরকারি বরাদ্দে চালু করা হয়। সোমবার সন্ধ্যায় ঢাকার সদরঘাট থেকে এমভি সুগন্ধা লঞ্চটি উদ্বোধনী যাত্রা শুরু করে। তবে যাত্রার প্রথম রাতেই লঞ্চটি ঝড়ের কবলে পড়ে চরে আটকা পড়ে।

লঞ্চে থাকা যাত্রী দিনাজ উদ্দিন বলেন, রাত ২টার দিকে লঞ্চটি চরে আটকা পড়ে। কোস্টগার্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তারা তিনটি ট্রলার পাঠানোর কথা জানায়। কিন্তু ১৫ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও এখনো কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

আরেক যাত্রী জানান, আমার আড়াই বছরের ও ছয় মাসের দুই শিশু সন্তান এবং স্ত্রীসহ লঞ্চে আটকা আছি। সকাল থেকে ছোট বাচ্চাদের কোনো খাবার দেওয়া সম্ভব হয়নি। আমাদের নামারও কোনো ব্যবস্থা করা হয়নি। সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসছে, আমরা চরম মানবিক সংকটে আছি।

লঞ্চের মাস্টার মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, হঠাৎ ঝড়ের কবলে পড়ে লঞ্চটি চরের উপর উঠে যায়। নিয়ন্ত্রণে রাখতে নোঙর করা হয়। পরে ভাটার কারণে পানি কমে গেলে লঞ্চটি আটকে পড়ে। জোয়ার এলেও পানি কম থাকায় ভাসানো সম্ভব হয়নি। কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে, তারা উদ্ধারকারী জাহাজ পাঠানোর চেষ্টা করছে।

আরটিভি/এমএইচজে

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps
বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission