খুলনার পাইকগাছা উপজেলার রেজাকপুর গ্রামের ছোট্ট মাটির ঘরে বাস করেন মো. আত্তাব গাজী। দীর্ঘ ১৬ বছর বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয় থেকে জেল-জুলুম আর নির্যাতন সহ্য করা এই মানুষটি আজ লিভার ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন। অথচ চিকিৎসার অর্থ নেই, দলের সহযোগিতা নেই, আছে শুধু চার মেয়ে আর এক অসহায় স্ত্রীর কান্না।
কপিলমুনি ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব মো. আত্তাব গাজী। আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন-সংগ্রামে অন্তত পাঁচটি রাজনৈতিক মামলার আসামি ছিলেন। পুলিশি রিমান্ডে অমানবিক নির্যাতনের শিকার হন। প্রায় চার মাস কারাগারে কাটান। আর সেই কারাগারেই তার শরীরে বাসা বাঁধে মরণব্যাধি ক্যানসার।
রাজনীতির কারণে ব্যবসা-বাণিজ্য, মাছের ঘের সব হারিয়েছেন আত্তাব গাজী। বর্তমানে হতদরিদ্র এই পরিবারে রয়েছে চার মেয়ে- ১৩ বছরের আফরিন, ১০ বছরের শারমিন, ৪ বছরের খাদিজা, আর মাত্র ২ বছরের আয়শা। বসবাসের জন্য আছে মাত্র তিন শতাংশ জমির ওপর একটি ভাঙা মাটির ঘর। প্রতিদিন ৫০০ টাকার ওষুধ প্রয়োজন। যা এই পরিবারের সাধ্যের বাইরে।
স্ত্রী শাহিদা খাতুন বলেন, যে দলের জন্য আমার স্বামীর আজ এই অবস্থা, সেই দলের কেউ এগিয়ে আসলো না। চেয়ে-চিনতে, খেয়ে না খেয়ে বেঁচে আছি। আমার স্বামীর চিকিৎসার টাকার জন্য আমি আমার একটি সন্তান বিক্রি করতে চাই।
একজন মায়ের মুখ থেকে এই কথা বের হয়ে আসাটাই বলে দেয় এই পরিবার কতটা নিঃস্ব, কতটা অসহায়। বারবার দলের নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেও কোনো সাড়া না পেয়ে আত্তাব গাজী এখন সরাসরি দলের প্রধান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
মো. আত্তাব গাজী বলেন, জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত আমি বিএনপির জন্য নিবেদিত থাকব। দল এখন ক্ষমতায় কিন্তু দুঃখ একটাই আমার ম্যাডাম দেখে যেতে পারলেন না। শেষ ইচ্ছা ম্যাডামের কবর জিয়ারত করা আর প্রধানমন্ত্রীর সাথে একবার দেখা করা।
উপজেলা বিএনপি সদস্য সচিব এস এম এমদাদুল হক জানান, দলীয় নেতা-কর্মীদের মাধ্যমে জানতে পেরেছি সেচ্ছাসেবক দলের নেতা আত্তাব গাজী দুরারোগ্য ব্যাধি লিভার ক্যানসারে আক্রান্ত। তার চিকিৎসার জন্য দলের ঊর্ধ্বতন নেতা ও প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করছি।
আরটিভি/এমএইচজে




