বগুড়ার আদমদীঘিতে বড় বোনের বাড়িতে ঈদ করতে গিয়ে প্রতিপক্ষের ছুরিকাঘাতে উম্মে হাবিবা উর্মি (৩২) নামে নারীর মৃত্যু হয়েছে। হামলায় নিহতের বোন, বোনের স্বামী ও তাদের দুই সন্তান আহত হয়েছেন।
শুক্রবার (২০ মার্চ) সন্ধ্যায় উপজেলার সদর ইউনিয়নের উজ্জ্বলতা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত উম্মে হাবিবা উর্মি নওগাঁর রাণীনগর উপজেলার ভেবরা গ্রামের বাসিন্দা।
শনিবার (২১ মার্চ) বিকেলে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন আদমদীঘি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতাউর রহমান।
তিনি জানান, লাশ উদ্ধার করে বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। রাতে নিহতের বড় বোন উম্মে হাফিজা সুমী থানায় প্রতিবেশী কহির ফকির ও সিরাজুল ইসলামসহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। এর মধ্যে এজাহারনামীয় পাঁচ আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, উম্মে হাবিবা উর্মি কয়েকদিন আগে ঈদ করতে আদমদীঘির উজ্জ্বলতা গ্রামে বোনের বাড়িতে বেড়াতে যান। তার বড় বোন উম্মে হাফিজা সুমির সঙ্গে প্রতিবেশী কহির ফকির, তার ভাই হেলাল ফকির ও সিরাজুল ইসলামের দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক বিরোধ চলে আসছিল। এর জের ধরে গত বছরের ৪ সেপ্টেম্বর উম্মে হাফিজা সুমি ও তার ছেলেকে মারধর করা হয়। এ ঘটনায় হাফিজা আদমদীঘি থানায় একটি মামলা করেন। বর্তমানে মামলাটি আদালতে বিচারাধীন। এরপর থেকে আসামিরা মামলা তুলে নিতে হাফিজার পরিবারকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আসছিল।
শুক্রবার সন্ধ্যায় উম্মে হাফিজা সুমি, উম্মে হাবিবা উর্মি ও অন্যরা ঈদের কেনাকাটা করার জন্য আদমদীঘি উপজেলা সদরের মার্কেটে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত আসামিরা তাদের ওপর হামলা করেন। এ সময় মাথায় কুড়ালের আঘাতে হাফিজার স্বামী ফয়সাল ইসলাম গুরুতর আহত হন।
পরে হাফিজা, মেয়ে নুসরাত, ছেলে ফারসিদ ও বোন উম্মে হাবিবা উর্মি এগিয়ে গেলে আসামিরা তাদের এলোপাতাড়ি ছুরি দিয়ে কোপাতে শুরু করেন। প্রাণ বাঁচাতে নুসরাত ও উর্মি স্থানীয় শফিকুল ইসলামের বাড়িতে আশ্রয় নেন। সেখানে ঢুকেও তাদের ওপর হামলা চালানো হয়। এতে মাথা ও শরীরে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে গুরুতর আহত হন উর্মি। তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার পথে মারা যান। হাফিজার স্বামী ফয়সাল ইসলামকে বগুড়া শজিমেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অন্যরা প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।
আরটিভি/এসএইচএম



