পদ্মায় তলিয়ে যাওয়া বাস ৬ ঘণ্টা পর উদ্ধার, নিহত বেড়ে ১৬

আরটিভি নিউজ 

বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২৬ , ০২:৪৪ এএম


পদ্মায় তলিয়ে যাওয়া বাস ৬ ঘণ্টা পর উদ্ধার, নিহত বেড়ে ১৬
পদ্মার প্রায় ৯০ ফুট গভীর থেকে বাসটি টেনে তোলে উদ্ধারকারী জাহাজ হামজা। ছবি: সংগৃহীত

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে দৌলতদিয়া ঘাটে ফেরিতে উঠতে গিয়ে পদ্মা নদীতে পড়ে যাওয়া বাসটি ৬ ঘণ্টা পর টেনে তুলতে সক্ষম হয়েছে উদ্ধারকারী জাহাজ হামজা। এ সময় বাসের মধ্যে ১৪ জনের মরদেহ পাওয়া গেছে। 

বিজ্ঞাপন

এর আগে, বাসটি তলিয়ে যাওয়ার সময় দুজনের মরদেহ উদ্ধার করে স্থানীয়রা। সব মিলিয়ে মর্মান্তিক এ দুর্ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৬ জনে দাঁড়িয়েছে। এদের মধ্যে ১১ জন নারী ও ৫ জন পুরুষ।

বুধবার (২৫ মার্চ) দিবাগত রাত সাড়ে ১২ টার দিকে বাসটি উদ্ধার করে উপরে টেনে তোলে উদ্ধারকারী জাহাজ হামজা। 

বিজ্ঞাপন

রাজবাড়ী ফায়ার সার্ভিসের উপ সহকারী পরিচালক দেওয়ান সোহেল রানা জানান, মোট ১৬ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। মরদেহগুলো গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হাসপাতালে রাখা হচ্ছে। উদ্ধার অভিযান চলমান রয়েছে।

আরও পড়ুন

বিকেল পাঁচটার দিকে দুর্ঘটনার সময় বাসটিতে অন্তত ৪৫ জন যাত্রী ছিলেন বলে জানা যায়। এর মধ্যে ১১ জন যাত্রী সাঁতরে তীরে উঠতে সক্ষম হন এবং বাকি যাত্রীদের নিয়ে বাসটি পদ্মার বুকে তলিয়ে যায়। 

বিজ্ঞাপন

উদ্ধারকারী জাহাজ হামজা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে কাজ শুরুর পর নদীর প্রায় ৯০ ফুট নিচে দুর্ঘটনা কবলিত বাসটির সন্ধান পায়।

দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে দায়িত্বপ্রাপ্ত পরিবহনের ঘাট তত্ত্বাবধায়ক মো. মনির হোসেন বলেন, বিকেল পাঁচটার কিছু পর সৌহার্দ্য পরিবহনের যাত্রীবাহী বাসটি দৌলতদিয়ার তিন নম্বর ঘাটে আসে। এ সময় ঘাটে থাকা একটি ফেরি যানবাহন নিয়ে মানিকগঞ্জের পাটুরিয়ার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়। অল্পের জন্য তাতে উঠতে না পারায় অপর ফেরির জন্য বাসটি অপেক্ষা করছিল। সোয়া পাঁচটার দিকে ওই ঘাটে ‘হাসনা হেনা’ নামক একটি ইউটিলিটি (ছোট) ফেরি এসে সজোরে পন্টুনে আঘাত করে। ফেরির ধাক্কায় নিয়ন্ত্রণ রাখতে না পেরে বাসটি পদ্মা নদীতে পড়ে যায়।

এদিকে কুষ্টিয়ার কুমারখালী, খোকসা থেকে বাসে ওঠা বেশ কয়েকজন যাত্রীর পরিচয় পাওয়া গেছে। কুমারখালীর যাত্রীদের মধ্যে ছিলেন গিয়াস উদ্দিন রিপন (৪৫), তার স্ত্রী লিটা খাতুন (৩৭) এবং তাদের সন্তান আবুল কাসেম সাফি (১৭) ও আয়েশা বিন্তে গিয়াস (১৩)। গিয়াস খোকসা উপজেলার শোমসপুর গ্রামের বাসিন্দা। তারা ঈদের ছুটি কাটিয়ে নিজ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ঢাকার তাকওয়া ফুড প্রোডাক্টের কারখানায় ফিরছিলেন।

খোকসা থেকে বাসে ওঠেন দেলোয়ার (৩০), তার স্ত্রী এবং ছেলে ইসরাফিল (৩)। এছাড়া, ঝিনাইদহ জেলার শৈলকুপা উপজেলার কচুয়া ইউনিয়নের খোন্দকবাড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা মো. নুরুজ্জামান (৩২), তার স্ত্রী আয়েশা আক্তার (৩০) এবং সন্তান নওয়ারা আক্তার (৪) ও আরশানসহ (৭ মাস) আরও অনেকে ওই বাসে ছিলেন। নুরুজ্জামান ঢাকার একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকুরি করেন। তাদের মধ্যে স্ত্রী আয়েশা ও সন্তান আরশান নিখোঁজ রয়েছেন। এছাড়া গিয়াস উদ্দিনের কন্যা আয়েশাও এখন পর্যন্ত পানির নিচে রয়েছে।

গভীর রাতেও নিখোঁজদের স্বজনদেরকে ফেরিঘাট এলাকায় আহাজারি করতে দেখা গেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে একযোগে কাজ করে যাচ্ছে জেলা পুলিশ, সেনাবাহিনী, নৌ পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস। ঘটনাস্থলে জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ প্রশাসনের অন্যান্য কর্মকর্তারাও অবস্থান করছেন।

আরটিভি/এসএইচএম

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps
বিজ্ঞাপন

Loading...

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission