কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার শিলাইদহ ইউনিয়নের বড় মাজগ্রামে কোনো বাড়িতে গান বাজানো হলে সেই পরিবারের সদস্যদের কবরস্থানে জায়গা না দেওয়ার ঘোষণা দেয় স্থানীয় মসজিদ কমিটি। একই সঙ্গে ওই পরিবারকে সমাজচ্যুত করারও ঘোষণা দেওয়া হয়।
বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) দিনভর মাইকিং করে গ্রাম জুড়ে এই সিদ্ধান্তের কথা প্রচার করা হয়। মাইকিংয়ে জানানো হয়, মসজিদ কমিটির সিদ্ধান্ত অমান্য করলে সংশ্লিষ্ট পরিবারকে ঈদগাহ, মসজিদ ও কবরস্থান থেকে বহিষ্কার করা হবে। এমনকি মসজিদের সাপ্তাহিক অনুদান (চাল) নেওয়া হবে না এবং তাদের সামাজিক কার্যক্রমেও কেউ অংশ নেবে না।
এ ঘটনার ৩১ সেকেন্ডের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সম্প্রতি গ্রামের একটি বাড়িতে খতনা অনুষ্ঠান উপলক্ষে সাউন্ড বক্সে গান বাজানোকে কেন্দ্র করে এ ঘটনার সূত্রপাত। পরে গত ২৭ মার্চ বড় মাজগ্রাম জামে মসজিদে জুমার নামাজ শেষে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে মসজিদ কমিটি এই সিদ্ধান্ত নেয়।
এ বিষয়ে মসজিদের ইমাম ওয়ালীউল্লাহ ফরিদী বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে বিয়ে ও সুন্নতে খতনা অনুষ্ঠানে উচ্চ শব্দে গান বাজানোর প্রবণতা বেড়েছে। এতে অসুস্থ মানুষ, শিক্ষার্থী ও মুসল্লিদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। সামাজিক শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য সর্বসম্মতভাবে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।
মসজিদ কমিটির সভাপতি আমির হোসেন দাবি করেন, মূলত উচ্চ শব্দের সাউন্ড বক্স বাজানোর বিরুদ্ধেই আমাদের অবস্থান ছিল।
তবে অভিযোগের তীর যেদিকে, সেই পরিবারের গৃহকর্তী রুপা খাতুন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, নাতির শখের জন্য এক দিন অল্প শব্দে সাউন্ড বক্স বাজিয়েছিলাম। আজান ও নামাজের সময় সেটি বন্ধ ছিল। কিন্তু শত্রুতা করে মসজিদ কমিটির কিছু লোক এখন পুরো গ্রামকে জিম্মি করছে।
বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক তৈরি হওয়ার পর প্রশাসন হস্তক্ষেপ করে। কুমারখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারজানা আখতার বলেন, মসজিদ কমিটির সঙ্গে আমাদের কথা হয়েছে। তারা ঘোষণা প্রত্যাহার করেছেন। বিষয়টির সমাধান হয়ে গেছে।
কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসক মো. তৌহিদ বিন হাসানও বলেন, ইউএনওর সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টির সমাধান হয়েছে। মসজিদ কমিটি যে ঘোষণা দিয়েছিল, সেখান থেকে তারা সরে এসেছে।
স্থানীয়দের মতে, উচ্চ শব্দে সাউন্ড বক্স ব্যবহারের বিষয়ে সামাজিকভাবে আলোচনা হতে পারে, তবে কবরস্থান, মসজিদ ও সামাজিক অধিকার নিয়ে এমন কঠোর সিদ্ধান্ত গ্রামে অস্বস্তি ও বিভাজনের পরিবেশ তৈরি করেছিল।
আরটিভি/এসকে



