ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় চুরির অপবাদে মো. হোসাইন (১৫) নামে এক কিশোরকে গাছে বেঁধে নির্যাতনের অভিযোগে তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ।
এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়।
রোববার (১২ এপ্রিল) রাতে অভিযুক্ত তিনজনকে আটক করে আলফাডাঙ্গা থানা পুলিশ।
এর আগে শনিবার (১১ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার পাচুড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সদস্য ফিরোজ মোল্যার নেতৃত্বে স্থানীয় ইয়াসিন ও শাকিলসহ কয়েকজন ওই কিশোরকে ঘর থেকে বের করে বাড়ির পাশের একটি গাছের সঙ্গে বেঁধে নির্যাতন করেন।
ভুক্তভোগী মো. হোসাইন পাঁচুড়িয়া ইউনিয়নের চর চান্দড়া গ্রামের মৃত মোছেন শেখের ছেলে।
ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, কিশোরটি বেদম পিটুনিতে বেশ কয়েকবার অসুস্থ হয়ে পরে। এ সময় সে ‘অভিনয় করছে’ বলে আরও বেশি নির্যাতন করা হয়।
স্থানীয়রা গণমাধ্যমকে জানান, হোসাইন ঢাকায় একটি ফার্নিচারের কারখানায় কাজ করে, সম্প্রতি ছুটিতে বাড়ি আসে সে। এ সময় কারখানাটিতে একটি ড্রিল মেশিন চুরি যায়। সেই ঘটনায় তাকে চোর অপবাদ দিয়ে গাছে বেঁধে নির্যাতন চালানো হয়।
ভুক্তভোগী হোসাইন গণমাধ্যমকে বলে, আমি ঢাকা থেকে বাড়ি আসার পরদিন আমাকে ঘরে আটকে রাখে। পরে গাছে বেঁধে ইয়াছিন ও শাকিল আমাকে মারধর করে। পুলিশ এলে তারা বলেন, যেহেতু মারধর করা হয়েছে, তাহলে আমরা আর কী করব।
হোসাইনের মা বানু বেগম বলেন, আমার ছেলে ঢাকায় থাকে। সে বাড়িতে আসার পর ইয়াছিন, শাকিলসহ তিনজন আমার ছেলেকে মারছে।
স্থানীয় গ্রাম পুলিশ মো. রাহাত ইসলাম রাসেল গণমাধ্যমকে বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে নির্যাতিত কিশোর ও এক নির্যাতনকারীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করলেও পাচুড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাইফুর রহমান তাদের মাঝপথ থেকে ছাড়িয়ে নেন।
এ বিষয়ে ইউপি সদস্য মো. ফিরোজ শেখ বলেন, বিল্লাল নামে একজন আমাকে খবর দিলে আমি গিয়ে ছেলেটিকে পুলিশে দিতে বলি। কিন্তু কারও কাছে পুলিশের মোবাইল নম্বর না থাকায় এবং আমি ব্যস্ত থাকায় ওই অবস্থায় রেখে চলে আসি। তবে আমার সামনে মারধর করা হয়নি।
জানতে চাইলে পাচুড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মো. সাইফুর রহমান বলেন, ইউপি সদস্য আলমগীর হোসেনের মাধ্যমে জানতে পেরে পুলিশের সঙ্গে কথা বলে আমার জিম্মায় আটকদের ছাড়িয়ে রাখি।
আলফাডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবুল হাসনাত খান বলেন, কিশোরকে গাছে বেঁধে নির্যাতনের ঘটনায় ভিডিও পর্যালোচনা করে রাতেই তিনজনকে আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় একটি নিয়মিত মামলা হয়েছে। আটকদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।
ফরিদপুরের সহকারী পুলিশ সুপার (মধুখালী, বোয়ালমারী ও আলফাডাঙ্গা সার্কেল) মো. আজম খান বলেন, ভিডিও দেখেছি। ভিডিওটি দেখার পর এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য স্থানীয় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) নির্দেশনা দেওয়া হয়।
আরটিভি/এমএইচজে




