গাইবান্ধায় পহেলা বৈশাখে ঘাঘট নদীতে বন্ধুদের সঙ্গে গোসল করতে নেমে সাদাদ আহমেদ (১৪) নামের অষ্টম শ্রেণিতে পড়ুয়া এক স্কুলছাত্রের মৃত্যু হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) সন্ধ্যায় বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন গাইবান্ধা সদর থানার এসআই নুরুজ্জামান। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেছে পুলিশ।
নিহত সাদাদ রাজশাহীর তেরোখাদিয়া এলাকার বাংলাদেশ ব্যাংকে (রাজশাহী) কর্মরত সাইফুজ্জামান বাচ্চুর ছেলে এবং গাইবান্ধার বেসরকারি এসকেএস স্কুল অ্যান্ড কলেজের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী। সাদাদ গাইবান্ধা শহরের সুন্দরজাহান মোড় এলাকায় খালার বাড়িতে থেকে পড়ালেখা করতো। তার নানার বাড়ি গাইবান্ধা শহরের পূর্ব পাড়ায়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, নববর্ষ উপলক্ষ্যে আজ দুপুরে ৪ বন্ধুর সঙ্গে ঘুরতে বের হয় সাদাদ। তারা খোলাহাটি ইউনিয়নের ঘাঘট নদীর মিনি জাফলং নামে পরিচিত (ভেড়ামারা ব্রীজ) স্থানে বেড়াতে যায়। এসময় সাদাদ হঠাৎ করে নদীর স্বচ্ছ পানিতে গোসল করতে নামে। এক পর্যায়ে সাদাদের খোঁজ পাচ্ছিল না তার তিন বন্ধু।
পরে ওই বন্ধুরা বিষয়টি প্রথমে তাদের স্কুলের এক শিক্ষককে অবহিত করে। পরে ঘটনাটি দমকল বাহিনীকে অবহিত করার পরে স্থানীয়রাসহ উদ্ধারের চেষ্টা চালায়। কিন্তু ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা প্রায় দুই ঘণ্টা চেষ্টা করেও উদ্ধারে ব্যর্থ হলে, রংপুরের ডুবুরি দলকে খবর দেওয়া হয়। পরে আরও একঘণ্টার চেষ্টায় বিকেল ৫টার দিকে মরদেহ উদ্ধার করেন তারা।
সাদাদের মামা জুয়েল বলেন, পহেলা বৈশাখ উপলক্ষ্যে বন্ধুদের সাথে ঘুরতে বের হয়েছিল সাদাদ। কিন্তু ফিরল লাশ হয়ে, এটা মেনে নেওয়া আমাদের জন্য অনেক কঠিন। তারা দুই ভাই, সাদাদ ছোট ছিল।
এসময় তিনি আরও জানান, আমার বোনের বাড়ি সুন্দরজাহান মোড়ে। সাদাদের মা এখানে থাকবে বলে এসকেএস স্কুলে ছোট ছেলেকে ভর্তি করে দেয়।
রংপুর থেকে আসা ডুবুরি দলের প্রধান ( লিডার) আসাদুজ্জামান বলেন, আমরা প্রায় এক ঘণ্টা উদ্ধার অভিযান চালিয়েছি। পরে ব্রিজের পাশের গভীর খাদ থেকে মরদেহ পাই। সদর থানা পুলিশকে মরদেহ বুঝিয়ে দিয়েছি।
উদ্ধার অভিযানে থাকা গাইবান্ধা সদর থানার এসআই নুরুজ্জামান বলেন, বন্ধুদের সাথে ঘুরতে বের হয়ে নদীতে ডুবে নিখোঁজ শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার করে রংপুরের ডুবুরি দল। আমরা সাড়ে ৭টার দিকে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করেছি। এই ঘটনায় একটি ইউডি মামলা হয়েছে।
আরটিভি/এমএস/এসআর




