ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩

ইটভাঙা শ্রমে বদলে গেছে নারীর জীবন

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:৩২ পিএম
ছবি: সংগৃহীত

ইট ভাঙা হচ্ছে রাস্তার পাশে। ইট ভাঙা হচ্ছে বাড়ি আঙিনায় বসে। কোথাও আবার ঘরের বারান্দা কিংবা রান্নাঘরের ভেতরেই চলছে ইট ভাঙার কাজ। বিভিন্ন বয়সী নারীরা ইট ভাঙার কাজ করছেন। কোনো স্থানে একা একা, কোনো স্থানে আবার দলবদ্ধভাবে।

ময়মনসিংহের গৌরীপুর পৌরশহরের বালুয়াপাড়া গ্রামে গেলে প্রতিদিনই এই দৃশ্য চোখে পড়বে। সংসারের সব কাজ করার পাশাপাশি ইট ভেঙে পরিবারের অভাব দূর করেছেন এই গ্রামের দেড় শতাধিক নারী। নিজেরা উপার্জনক্ষম হয়ে বদলে দিয়েছেন নিজেদের জীবন যাত্রা। কিন্তু এ গ্রামের নারীরা পিছিয়ে ছিলেন। কিন্তু আজ তারা আত্মনিভর্রশীল। কীভাবে হলো? কোন যাদুবলে সম্ভব হলো তাদের আত্মনির্ভরশীল হয়ে ওঠা?

মূলত কোন যাদুবল নয়। এর পেছনের মূল নিয়ামক দুই বোন। একজন রাবেয়া খাতুন (৩৬), অন্যজন তার বোন আম্বিয়া খাতুন (৩৪)। উভয়েই জীবন বদলে দেয়ার সাহসী যোদ্ধা। তাদের হাত ধরেই বদলে গেছে বালুয়াপাড়া গ্রামের দারিদ্রপীড়িত নারীদের জীবন।

কিছুদিন আগে বালুয়াপাড়া গ্রামে গিয়ে কথা হয় ইট ভাঙার কাজ করা নারীদের সাথে। কথা বলে জানা যায় তাদের জীবন-সংগ্রামের গল্প। এক সময় আর্থ-সমাজিকভাবে পিছিয়ে থাকা এই এলাকার দারিদ্র্যপীড়িত নারীরা কীভাবে আত্মনিভর্রশীল হয়ে উঠেছেন এই বিষয় নিয়ে কথা বলতে গেলে বেরিয়ে আসে দিন বদলের নানা কথা। জানা যায় বালুয়াপাড়া গ্রামের বাসিন্দা আব্দুছ সোবহানের মেয়ে রাবেয়া খাতুন ও তার বোন আম্বিয়া খাতুনের সহায়তার কথা। তাদের হাত ধরেই এখানে শুরু হয়েছিলো একটি দিন বদলের গল্প।

দুই বোনের সাথে কথা বলার পর তারা জানালেন, আনুমানিক ২০ বছর আগের কথা। তখন তারা কিশোরী। বাবা রিকশা চালাতেন। সারা দিন খেটে যা রোজগার করতেন তা দিয়ে পাঁচ সদস্যের পরিবারের ভরণ পোষণ হতো না। কিছু একটা করে সংসারের অভাব দূর করার তাড়নায় একদিন তারা ঘর থেকে বের হন। বাড়ি থেকে তিন কিলোমিটার দূরে ছিলো উপজেলার রামগোপালপুরের পরিত্যক্ত জমিাদার বাড়ি। সেই বাড়ির খসে পড়া ইট কুড়িয়ে বাড়িতে নিয়ে আসেন তারা। বেশ কিছু ইট ভেঙে সুড়কি করে ময়মনসিংহে শম্ভুগঞ্জ এলাকার এক ব্যবসায়ীর কাছে বিক্রি করেন। হাতে কিছু টাকা আসে। এভাবে রামগোপালপুর জমিদার বাড়ি থেকে কিছু দিন ইট কুড়িয়ে এনে জমিয়ে মাঝে মাঝে বিক্রি করেন ফেরিওয়ালার কাছে। সাথে বিক্রি করার মত আরও যা কিছু পায় তাই কুড়িয়ে আনেন তারা। রাবেয়া আর আম্বিয়ার দেখাদেখি অভাবি আরও কিছু কিশোরী জুটে যায় দলে। মাঝে মাঝে মায়েরাও যায় মেয়েদের সাথে। এভাবে চলে পাঁচ বছর। এরমধ্যে বাড়ির কাছের ময়মনসিংহ-কিশোরগঞ্জ সড়কের পাশে গড়ে উঠে কয়েকটি ইটভাটা। বালুয়া পাড়ার নারীরা ইটভাটার কাজে জড়িয়ে পড়ে। ইটভাটার ভাঙার অভিজ্ঞতার কথা মাথায় রেখে একদিন জমানো কিছু টাকা দিয়ে বাড়িতে ইট কিনে আনেন আম্বিয়া ও রাবেয়া। সেই ইট বাড়িতে বসে সুড়কি করে বিক্রি করেন। এতে হাতে টাকা আসে। এরপর শুরু হয় নতুন গল্প। দুই বোন আর মা ইটভাটা থেকে ইট কিনে এনে সুড়কি করে বিক্রি করেন। হাতে টাকা আসতে থাকে। দেখাদেখি বালুয়াপাড়ার অভাবি অন্য পরিবারগুলোও ইট ভেঙে সড়–কি করার কাজ শুরু করেন। ২০ বছর পর এখন ওই এলাকার প্রায় দেড় শতাধিক নারী দিনে ছয় থেকে আট ঘন্টা ইটা ভাঙার কাজ করেন। বদলে গেছে অভাবী মানুষদের জীবন।

আরও পড়ুন

বর্তমানে ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলা ও আশেপাশের বিভিন্ন অঞ্চলের স্থাপনা নির্মাণের জন্য বেশির ভাগ সুড়কির চাহিদা এখান থেকে মিটানো হয়।

সরেজমিনে দেখা যায় ইট ভাঙার কাজ করা নারীদের অনেকরই এখন আধা-পাকা বাড়ি রয়েছে।

আম্বিয়া খাতুন বলেন, এই ব্যবসা শুরু করার পর অভাবের সংসারে উন্নতি হয়েছে। স্বামী-সন্তান সহ সাত সদস্যের পরিবার নিয়ে আমরা এখন সুখি। আমার কারখানায় ১৫ থেকে ১৬ জন নারী ইট ভাঙার কাজ করেন। নারীদের সাথে আমি নিজেও এখনো ইট ভাঙ্গি। পাশাপাশি ব্যবসার আয়ের টাকা দিয়ে অন্যান্য ব্যবসা শুরু করেছি।

স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, বালুয়াপাড়ার ২০টির বেশি পরিবার সরাসারি ইট কিনে সুড়কি করার ব্যবসার কাজে যুক্ত। ইট কিনে আনা ও সুড়কি করে বিক্রির জন্য অনেকেই কিনে নিয়েছেন ট্রলি। যে পরিবারগুলো এখনো নিজেরা ব্যবসার সাথে যুক্ত হতে পারছে না তারা অন্যের অধীনে ইট ভাঙার কাজ করছে। ইট ভাঙার কাজের জন্য তাদের ধরাবাঁধা কোন সময় মানতে হয় না। সংসারের অন্য কাজের ফাঁকে ফাঁকে দিনে-রাতে যখন ইচ্ছা তখন ইট ভাঙে। ইট ভেঙে এক টিন (সয়াবিন তেলের টিন) সুড়কি করলে পায় পাঁচ টাকা। বালুয়াপাড়া গ্রামের নারী পুরুষদের সাথে কথা বলে জানা যায়, পুরুষেরা ইজিবাইক চালানো, মুদি দোকান করাসহ নানা পেশায় আছেন। সাথে পুরুষদের রোজগারের পাশাপাশি নারীদের ইট ভাঙা কাজের রোজগার এখন জীবন যাত্রার মান বদলে দিয়েছে। ছেলে মেয়েরা এখন স্কুলে যায়।

গ্রামের বাসিন্দা বিধবা হাজেরা বেগম (৪৫) বলেন, আমার পরিবারের লোকজন বাইরে থাকে। অবসরে আমি এখানে এসে ৮ থেকে ১০ টিন ইট ভাঙি। এতে আমার ৫০ টাকার মতো আয় হয়।

তাজ্জতুনন্নেছা বলেন, ২০ বছর ইট ভাইঙা সংসারের খাওন যোগাইছি। এখনও সময় পেলে ভাঙি। ইট ভাঙনের কাজ আমাদের অভাব দূর করছে। যেই এলাকার মানুষ তিন বেলা খাইতে পারতো না, হেরা অহন অনেক সুখে দিন কাটায়।

আরটিভি/এসএস

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
১১ ইউনিয়নে জামায়াতের প্রার্থী ঘোষণা
আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলার ১১টি ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। একই সঙ্গে ৯৯ জন ইউপি সদস্য পদপ্রার্থীর নামও ঘোষণা করা হয়েছে। ঘোষিত তালিকায় কয়েকজন পরিচিত মুখ থাকলেও বেশিরভাগ প্রার্থী স্থানীয় সাধারণ ভোটারদের কাছে তুলনামূলকভাবে অপরিচিত। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে মঠবাড়িয়া পৌর শহরের নিউমার্কেট এলাকায় উপজেলা জামায়াতের কার্যালয়ে আয়োজিত পরিচিতি সভায় এসব প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হয়। উপজেলা জামায়াতের আমির সহকারী অধ্যাপক মো. আ. জলিল শরীফ প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেন। সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন পিরোজপুর জেলা জামায়াতের আমির (ভারপ্রাপ্ত) মাওলানা মো. আব্দুর রব। ঘোষিত তালিকা অনুযায়ী, তুষখালী ইউনিয়নে তাওহীদ হাসান রুমী, ধানীসাফায় মো. মেহেদী হাসান, মিরুখালীতে ডা. নূরুল আমিন, দাউদখালীতে মো. হাবিবুর রহমান, মঠবাড়িয়া সদরে মো. আবুল কালাম আজাদ, টিকিকাটায় মো. শহিদুল ইসলাম এবং বেতমোর রাজপাড়ায় এস. এম. মজিবুর রহমানকে চেয়ারম্যান প্রার্থী করা হয়েছে। এ ছাড়া আমড়াগাছিয়ায় মো. ইয়াকুব আলী খাঁন, সাপলেজায় মো. আ. মালেক মীর, হলতা গুলিশাখালীতে মো. আরিফ বিল্লাহ এবং বড় মাছুয়া ইউনিয়নে মো. মেহেদী হাসানের নাম ঘোষণা করা হয়েছে। সভায় উপজেলা জামায়াতের নায়েবে আমির মাওলানা মো. আফজাল হোসেন, সেক্রেটারি আবুল কালাম আজাদসহ স্থানীয় ও ইউনিয়ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। নেতারা আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে দলীয় প্রার্থীদের পক্ষে সাংগঠনিকভাবে কাজ করার জন্য নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান। আরটিভি/টিআর
১১ ইউনিয়নে জামায়াতের প্রার্থী ঘোষণা
চাঁদা না পেয়ে সাইকেল মেকারকে মারধর, অতঃপর...
নওগাঁর মান্দায় এক সাইকেল মেকারের কাছে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবির মামলায় আল আমিন (৩৫) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) রাতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
চাঁদা না পেয়ে সাইকেল মেকারকে মারধর, অতঃপর...
জ্বালানি তেলের মূল্য আর বৃদ্ধির পরিকল্পনা নেই, সুযোগ থাকলে কমবে
জ্বালানি তেলের মূল্য আর বৃদ্ধির কোনো পরিকল্পনা নেই, সুযোগ থাকলে কমানো হবে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। 
জ্বালানি তেলের মূল্য আর বৃদ্ধির পরিকল্পনা নেই, সুযোগ থাকলে কমবে
মাদ্রাসাছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টার দায়ে যুবকের ১০ বছরের কারাদণ্ড
ফরিদপুরে এক মাদ্রাসাছাত্রীকে ঘরে ডেকে নিয়ে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় মিরাজ শেখ (৩৫) নামে এক যুবককে ১০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে তাকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ফরিদপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক শামীমা পারভীন এ রায় ঘোষণা করেন। রায়ের সময় আসামি মিরাজ শেখ আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পরে তাকে কড়া পুলিশ পাহারায় কারাগারে পাঠানো হয়। মামলার এজাহার ও আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০২৩ সালের ২৮ আগস্ট দুপুর ১২টার দিকে জেলার নগরকান্দা উপজেলায় মিরাজ শেখের বাড়ির সামনে খেলছিল ওই মাদ্রাসাছাত্রী। এ সময় কৌশলে তাকে নিজের ঘরে ডেকে নেন মিরাজ। সেখানে নিয়ে মাদ্রাসাছাত্রীকে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয় বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়। ঘটনার পর মাদ্রাসাছাত্রীর বাবা বাদী হয়ে নগরকান্দা থানায় মামলা করেন। মামলার তদন্ত শেষে থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মনিরুজ্জামান মিরাজ শেখকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেন। এরপর আদালতে মামলার দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ায় সাক্ষ্য ও অন্যান্য প্রমাণ গ্রহণ করা হয়। সাক্ষ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা শেষে আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আদালত এ সাজা দেন। বিষয়টি নিশ্চিত করে রাষ্ট্রপক্ষের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) গোলাম রব্বানী ভূঁইয়া রতন বলেন, মামলায় মিরাজ শেখের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে। এ কারণে আদালত তাকে ১০ বছরের কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দিয়েছেন। এ রায়ে রাষ্ট্রপক্ষ সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন। আরটিভি/এসআর  
মাদ্রাসাছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টার দায়ে যুবকের ১০ বছরের কারাদণ্ড
‘নজরানা বাঁশের ভুর’, ১৮ দিনের যাত্রায় আটরশির পথে ভক্তরা
ফরিদপুরের আটরশি বিশ্ব ওরস শরীফে অংশ নিতে রংপুরের পীরগঞ্জে প্রায় দুই মাস ধরে প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে ‘নজরানা বাঁশের ভুর’ তৈরির। বাঁশ দিয়ে তৈরি এই ভুরটি নিয়ে দীর্ঘ নদী পথ পাড়ি দিয়ে আটরশি দরবার শরীফে যাবেন জাকের ও ভক্তরা।
‘নজরানা বাঁশের ভুর’, ১৮ দিনের যাত্রায় আটরশির পথে ভক্তরা
আরও পড়ুন
নারী রেফারিকে হেনস্তার অভিযোগে বরখাস্ত হিগুয়েইন
এশিয়ান গেমস: মিয়ানমারের সঙ্গে গোলশূন্য ড্র, বাংলাদেশের বিদায়
দুই গ্রামে শিয়ালের তাণ্ডব, নারী-শিশুসহ আহত ৯
কুমিল্লায় মা-ভাতিজিকে কুপিয়ে হত্যা, ভাবীর অবস্থা আশংকাজনক