সিলেটের পাম্পগুলোতে ঝুলছে ‌‘তেল নেই’ লেখা সাইনবোর্ড 

আরটিভি নিউজ

শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬ , ০৪:১০ পিএম


সিলেটের পাম্পগুলতে ঝুলছে ‌‘তেল নেই’ লেখা সাইনবোর্ড 
ছবি: সংগৃহীত

সিলেটে জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। চাহিদার অর্ধেক তেল পাচ্ছেন না পাম্প মালিকরা। এতে, চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন পরিবহন চালকসহ সাধারণ মানুষ। অধিকাংশ পাম্পগুলোতে ঝুলছে ‌‘তেল নেই’ লেখা সাইনবোর্ড।

বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) ভোর থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত সিলেট বিভাগের কোনো পাম্পে জ্বালানি তেল না পেয়ে বিপাকে পড়েছেন যানবাহনের চালক ও মোটরসাইকেল আরোহীরা।

সরেজমিনে দেখা যায়, নগরীর বিভিন্ন পেট্রোল পাম্পে গিয়ে খালি হাতে ফিরতে হচ্ছে পরিবহন চালকসহ সাধারণ মানুষদের। অধিকাংশ পাম্পে ‌‘তেল নেই’ লেখা সাইনবোর্ড টাঙানো দেখা যায়। এতে করে পরিবহন খাতে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। নগরীর সড়কে যানবাহনের সংখ্যা কমে যাওয়ায় যাত্রীদের দুর্ভোগও বেড়েছে। জরুরি প্রয়োজনে মোটরসাইকেল, প্রাইভেটকারসহ বিভিন্ন গাড়ি নিয়ে বের হওয়া মানুষজন পড়ছেন বিপাকে।

চালকদের অভিযোগ, তেলের অভাবে আমরা ঠিকমতো গাড়ি চালাতে পারছি না। এতে আয় বন্ধ হয়ে যাওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে। অনেকেই ঘণ্টার পর ঘণ্টা পাম্পে অপেক্ষা করেও তেল পাচ্ছেন না।

আম্বরখানা এলাকার মাইক্রোচালক জাহিদ মিয়া বলেন, সকাল থেকে বিভিন্ন পাম্পে লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও পেট্রোল পাইনি। কাজ না থাকায় আয় বন্ধ হয়ে গেছে। পরিবার নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছি।

নগরীর বাগবাড়ির বাসিন্দা আবুল কাসেম বলেন, অকটেন সংকটে পড়ে আমার প্রাইভেটকারের জ্বালানি শেষ হয়ে গেছে। বাধ্য হয়ে রিকশায় করে সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত নগরীর ১৫ থেকে ২০টি পাম্পে ঘুরেও কোথাও পেট্রোল বা অকটেন পাইনি। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছি। এছাড়া কবে থেকে আবার পেট্রোল ও অকটেন বিক্রি শুরু হবে, তা নিয়েও অনিশ্চয়তার কথা জানান তিনি।

মেজরটিলা এলাকার বাসিন্দা সেলিনা বেগম বলেন, হঠাৎ করে এমন জ্বালানি সংকটে সাধারণ মানুষ সবচেয়ে বেশি কষ্ট পাচ্ছে। দ্রুত সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে।

নগরীর লামাবাজারের ব্যবসায়ী নাসিম হোসেন বলেন, কোনো পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই হঠাৎ করে জ্বালানি সংকট তৈরি হওয়ায় আমরা প্রস্তুত থাকার সুযোগ পায়নি। আমার মোটরসাইকেলের পেট্রোল-অকটেন না পাওয়ায় ভোগান্তিতে পড়েছি। জ্বালানি সংকটের কারণে আমার দৈনন্দিন কাজ ব্যাহত হচ্ছে। ব্যবসায়িক কার্যক্রমেও প্রভাব পড়ছে। কবে নাগাদ সরবরাহ স্বাভাবিক হবে এ বিষয়ে কোনো স্পষ্ট নেই।

সিলেটের তেলের সংকট নিয়ে এক গ্রাহক অভিযোগ করেন, তিনি প্রায় ২০টি পাম্প ঘুরেও কোথাও পেট্রোল, অকটেন বা ডিজেল পাননি। পাঠানটুলা, আম্বরখানা, চৌকিদেখিসহ নগরীর গুরুত্বপূর্ণ পাম্পগুলোও বন্ধ ছিল।

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম ডিলার্স, ডিস্ট্রিবিউটার্স, এজেন্টস অ্যান্ড পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন, সিলেট বিভাগীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক হুমায়ূন আহমেদ বলেন, সিলেটে সরকারি হিসেবে তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক বলা হলেও বাস্তবে অনেক পাম্পে সংকট দেখা দিয়েছে। এর মূল কারণ, নতুন নিয়মে প্রতিটি পাম্পকে দৈনিক মাত্র ২০০০ লিটার তেল বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে, যা চাহিদার তুলনায় কম।

তিনি আরও বলেন, এছাড়া কম পরিমাণ তেল পরিবহনে খরচ বেশি হওয়ায় অনেক পাম্প মালিক তেল নিতে আগ্রহী নন। ফলে সরবরাহে ঘাটতি তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে একসঙ্গে কয়েক দিনের তেল সরবরাহের প্রস্তাব নিয়ে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে আলোচনা চলছে।

তেল মজুত বা সিন্ডিকেটের অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, প্রতিটি পাম্পে সরকারি ট্যাগ অফিসার ছাড়াও এনএসআই ও ডিজিএফআইয়ের নজরদারি রয়েছে। নিয়মিত স্টক হিসাব থাকায় তেল মজুতের সুযোগ নেই। নতুন সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে সিলেটের জ্বালানি তেলের পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হয়ে আসবে।

সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. সারোয়ার আলম জানান, জ্বালানির কোনো ঘাটতি নেই বরং আতঙ্কে প্রয়োজনের অতিরিক্ত তেল সংগ্রহের প্রবণতা বেড়ে যাওয়ায় পাম্পগুলো সাময়িকভাবে বন্ধ রয়েছে।

তিনি বলেন, সরবরাহে শৃঙ্খলা আনতে পাম্প মালিকদের সঙ্গে বৈঠক করেছি। পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হবে। সবাইকে ধৈর্য ধরার আহ্বান জানান তিনি।

আরটিভি/টিআর

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps

Loading...

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission