সিরাজগঞ্জের তাড়াশে মসজিদের পুকুরে রাতে বিষ ঢেলে দিয়ে সকালে জোরপূর্বক ১০ লাখ টাকার মাছ ধরে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে।
শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) ভোরে উপজেলার তালম ইউনিয়নের গাবরগাড়ী জামে মসজিদের পুকুরে এ ঘটনাটি ঘটে এবং এ বিষয়ে রাতে মসজিদ কমিটির সভাপতি আলহাজ মো. আলতাফ হোসেন তাড়াশ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করে।
শনিবার (১৮ এপ্রিল) বিকেলে লিখিত অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন তাড়াশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাবিবুর রহমান।
অভিযুক্তরা হলেন—মো. এনামুল হক এবং মো. আব্দুর রাজ্জাক।
লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার গাবরগাড়ী মসজিদ কমিটি ১৩৪২ বাংলা সনে তপশিলি সম্পত্তি পত্তনি পেয়ে সেখানে পুকুর খনন করে মাছ চাষ শুরু করে। ওই আয়ে মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন, খাদেমের বেতনসহ অন্যান্য ব্যয় নির্বাহ করা হয়। সম্প্রতি আব্দুর রাজ্জাকগং নিজেদের সম্পত্তি দাবি করে বিভিন্ন ধরনের জটিলতা সৃষ্টি করছে। মামলা-মোকদ্দমার মাধ্যমে বর্তমানে গাবরগাড়ী জামে মসজিদ কমিটি ডিক্রিপ্রাপ্ত হয়ে ভোগদখল করে আসছে। এ কারণে গত পাঁচ মাস ধরে পুকুরের মাছ ধরে নেওয়ার হুমকি-ধমকি দিয়ে আসছিলেন আব্দুর রাজ্জাকগং।
অভিযোগে আরও বলা হয়, বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) দিবাগত রাতে মসজিদের পুকুরে বিষাক্ত কীটনাশক প্রয়োগ করা হয়। শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) ভোরে ওই দুই ব্যক্তির নেতৃত্বে ১৫ থেকে ১৮ জন মিলে প্রায় ৮ থেকে ১০ লাখ টাকার মাছ ধরে নিয়ে যান। খবর পেয়ে, মসজিদ কমিটির সদস্যরা পুকুরপাড়ে গিয়ে তাদের মাছ ধরতে নিষেধ করলে দেশীয় অস্ত্র—লাঠিসোটা, রড ইত্যাদি নিয়ে হামলার চেষ্টা করা হয় এবং ভয়ভীতি দেখানো হয়। পরে মসজিদ কমিটির পক্ষ থেকে জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন দিয়ে পুলিশকে জানানো হয়। তবে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই তারা মাছ নিয়ে চলে যান।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত আব্দুর রাজ্জাক বলেন, পুকুরের পানিতে গ্যাস হয়েছিল। পুরো গ্রামের মানুষই মাছ ধরেছে। এখন আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করা হচ্ছে।
ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাবিবুর রহমান জানান, লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আরটিভি/টিআর




