ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলায় হামে আক্রান্ত হয়ে মো. হুজাইফা (৪) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। পরিবারের সদস্যরা জানান, প্রথমে ঝাড়ফুঁক ও পানিপড়ার ওপর নির্ভর করায় সময় নষ্ট হয়, যা শেষ পর্যন্ত প্রাণঘাতী হয়ে ওঠে।
শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) ভোরে ঢাকার ডিএনসিসি হাসপাতালে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন হুজাইফার মৃত্যু হয়। সে উপজেলার ধরমণ্ডল ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মাওলানা আশিকুর রহমানের ছেলে এবং স্থানীয় দারুল নেজাত ইসলামিয়া মাদরাসার শিক্ষার্থী ছিল।
নাসিরনগর স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা যায়, গত ১৫ এপ্রিল রাত ১২টার দিকে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় শিশুকে নাসিরনগর ৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সে সময় তার প্রচণ্ড জ্বর, ডায়রিয়া ও শ্বাসকষ্ট ছিল। চিকিৎসকরা প্রয়োজনীয় ওষুধ ও স্যালাইন দিলেও পরিবারের সদস্যরা স্যালাইন খুলে ফেলেন এবং ওষুধও খাওয়ানো হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। পরবর্তী সময়ে শিশুটির শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটলে রাত ২টার দিকে জরুরি ভিত্তিতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানকার চিকিৎসকরা উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়ার পরামর্শ দেন। পরে ঢাকার ডিএনসিসি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে ৪ ঘণ্টা চিকিৎসা শেষে শিশুটির মৃত্যু হয়।
ঝাড়ফুঁকের কথা স্বীকার করে নিহতের বাবা মাদরাসা শিক্ষক আশিকুর রহমান বলেন, আমার ছেলের জ্বর ও ডায়রিয়া দেখা দেওয়ার পর প্রথম তিন-চার দিন স্থানীয়ভাবে ঝাড়ফুঁক ও পানিপড়া দেওয়া হয়। পিতার কাঁধে সন্তানের লাশ বহন করা কতটা কষ্টের, আমি সন্তানকে হারিয়ে বুঝেছি। ঝাড়ফুঁক নয়, হামের টিকাই জীবন বাঁচাতে পারে।
নাসিরনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জুনিয়র কনসালট্যান্ট ডা. সাইফুল ইসলাম বলেন, শিশুটিকে হাসপাতালে আনার পরও চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ খাওয়ানো হয়নি। এতে পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠে। তিনি অভিভাবকদের প্রতি সতর্কবার্তা দিয়ে বলেন, হামের উপসর্গ দেখা দিলে কোনো ধরনের কুসংস্কার বা ঝাড়ফুঁকের ওপর নির্ভর না করে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে। সময়মতো চিকিৎসাই পারে শিশুর জীবন বাঁচাতে।
নাসিরনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৬ দিনে হামের উপসর্গ নিয়ে ৩৬ শিশু হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছে। বর্তমানে ভর্তি রয়েছে ১২ জন। এ ছাড়া বহির্বিভাগে প্রতিদিন গড়ে ২৫-৩০ শিশু একই উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসা নিচ্ছে।
আরটিভি/এসএস



