ঢাকা বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩

চাঁদপুরে জনবল-ওষুধ-বিদ্যুৎহীন স্বাস্থ্যকেন্দ্র এখন মাদকসেবীদের অভয়ারণ্য

স্টাফ রিপোর্টার, চাঁদপুর, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ২০ এপ্রিল ২০২৬, ০১:০৬ পিএম
ভেঙ্গে পড়ে আছে স্বাস্থ্যকেন্দ্রের সদর দরজা : ছবি আরটিভি

চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার গুপ্টি পশ্চিম ইউনিয়নের লাউতলী গ্রামে ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রটি প্রায় ২৫ হাজার দরিদ্র মানুষের চিকিৎসাসেবার একমাত্র ভরসা হলেও বর্তমানে তা নামেই স্বাস্থ্যকেন্দ্র। স্থানীয় জনগণ এখান থেকে তেমন কোনো স্বাস্থ্যসেবা পাচ্ছে না। তিন বছর ধরে কেন্দ্রটিতে নেই জনবল, ওষুধ ও বিদ্যুৎ-সংযোগ। এই সুযোগে চুরি হয়েছে গুরুত্বপূর্ণ আসবাব। রাতের আঁধারে পরিত্যক্ত ভবনটিতে জমে ওঠে মাদকসেবীদের আড্ডা। ফলে স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত স্থানীয় দরিদ্র মানুষ, বাড়ছে মা ও শিশুমৃত্যুর ঝুঁকি।

প্রান্তিক পর্যায়ে সুবিধাবঞ্চিত মানুষের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে সরকারের উদ্যোগ ও স্থানীয়দের সহযোগিতায় ২০০৫ সালে এ স্বাস্থ্য কেন্দ্রটি চালু হয়েছিল। প্রথম দিকে এলাকার দরিদ্র মানুষের মুখে ফুটেছিল হাসি। নিজ এলাকায় মিলবে কাঙ্ক্ষিত স্বাস্থ্যসেবা। কিছুদিন তারা সেই সেবাও পেয়েছিলেন।

কিন্তু গত প্রায় তিন বছর ধরে ওষুধ ও জনবল সংকটে বন্ধ রয়েছে নরমাল ডেলিভারি, প্রসূতি সেবা, কিশোর–কিশোরী স্বাস্থ্যসেবা ও সাধারণ চিকিৎসাসেবা। ফলে কাঙ্ক্ষিত সেবা থেকে বঞ্চিত হয়ে চিকিৎসায় ভরসা করতে হচ্ছে গ্রামের হাতুড়ে ডাক্তারদের।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এ কেন্দ্রে একজন মেডিকেল অফিসার, একজন উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার, একজন ফার্মাসিস্ট ও একজন পিয়নের পদ থাকলেও বর্তমানে সেখানে কোনো জনবল নেই। জনবল সংকটের পাশাপাশি নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকায় দরজা ভেঙ্গে চুরি হয়েছে বৈদ্যুতিক পাখা, পানির মোটরসহ গুরুত্বপূর্ণ আসবাবপত্র। ব্যবহারের অনুপোযোগী হয়ে পড়েছে শৌচাগার। সব মিলিয়ে স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি যেন নিজেই অসুস্থ হয়ে ধুঁকছে। সন্ধ্যার পর পরিত্যক্ত ভবনটি নিয়মিত মাদকের আড্ডায় পরিণত হয়েছে। এখানে সেবা নিতে আসা রোগীদের অভিযোগ আর আক্ষেপের যেন শেষ নেই।

আরও পড়ুন

স্থানীয় বাসিন্দা বশির উল্যা মিজি নামের এক বৃদ্ধ বলেন, আমাদের অনেক ত্যাগের মধ্য দিয়ে এই স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি গড়ে উঠেছিল। কিন্তু গত কয়েক বছর ধরে এখানে ডাক্তার–ঔষধ কিছুই নেই। সেবা না পেয়ে সাধারণ মানুষ দিন দিন অসুস্থ হয়ে যাচ্ছে। দ্রুত ডাক্তার ও ওষুধ দেওয়া জরুরি হয়ে পড়েছে।

সেবাপ্রার্থী ফিরোজা বেগম (৬০), আমিন উল্যাহ (৫৫), সিরাজুল ইসলাম (৫৭)সহ আরও কয়েকজন জানান, বয়স বাড়ার সঙ্গে বাড়ছে নানা রোগ। দীর্ঘদিন ধরে ভুগছেন। এ হাসপাতালে ডাক্তার, ওষুধ কিছুই নেই। জরুরি চিকিৎসার জন্য ভাঙাচোরা সড়ক পেরিয়ে প্রায় ১০ কিলোমিটার দূরে উপজেলা হাসপাতালে যেতে হয়। চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে তাদের।

আজগর আলী (৭০) নামের এক বৃদ্ধ বলেন, আমরা উপজেলা থেকে দূরে গ্রামগঞ্জের মানুষ হওয়াই যেন বড় পাপ করে ফেলেছি। রাষ্ট্রের নাগরিক সেবার অনেক কিছু থেকেই বঞ্চিত। আমাদের ইউনিয়ন পরিবারিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র খাতাকলমে আছে, কিন্তু সেবার ক্ষেত্রে শূন্য। এটি এখন চুরি ও মাদকের আখড়ায় পরিণত হয়েছে।

হাসপাতাল নিজেই অসুস্থ, সেবা দেবে কে? বলে প্রশ্ন তোলেন বৃদ্ধ আজগর।

স্থানীয় ইউনিয়নের পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শক মো. মেহেদী হাসান বলেন, এ কেন্দ্রের বর্তমান পরিস্থিতি উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানিয়েছি। জনবল ও ওষুধ সংকট রয়েছে। এগুলো দিলে কিছুটা হলেও স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া সম্ভব হবে।

ফরিদগঞ্জ থানার উপপুলিশ পরিদর্শক (এসআই) জাকির হোসেন বলেন, হাসপাতালটিতে চুরির ঘটনায় পরিদর্শন করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে সত্যতা পাওয়া গেছে। চোরচক্র ও মাদকসেবীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বুলবুল আহমেদ জানান, দীর্ঘদিন ধরে এ স্বাস্থ্যকেন্দ্রের কার্যক্রম বন্ধ। স্থানীয় মাদকসেবী ও চোরচক্র ইতোমধ্যে অনেক কিছু লুট করেছে। চিকিৎসাবঞ্চিত হয়ে সাধারণ মানুষ ও মা–শিশুর মৃত্যুঝুঁকি বাড়ছে। দ্রুত এই কেন্দ্র সচল করা প্রয়োজন।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান জুয়েল বলেন, লাউতলী স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের পরিস্থিতি শুনে খারাপ লেগেছে। এসব দেখাশোনা করে স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার বিভাগের এবং পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর। সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ করব।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পক্ষ থেকে সহযোগিতার প্রয়োজন হলে তা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে বলেও বলেন তিনি।

আরটিভি/এমএম

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
কামালের নামে ধর্ষণের মিথ্যা মামলা করে ফেঁসে গেলেন নারী 
নেত্রকোনায় মিথ্যা ধর্ষণ মামলা করে এক ব্যক্তিকে কারাভোগে বাধ্য করার দায়ে লিপি আক্তার (৩৯) নামের এক নারীকে এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও তিন মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) বিকেলে নেত্রকোনার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক এ কে এম এমদাদুল হক এ রায় ঘোষণা করেন। ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট নুরুল কবির রুবেল রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, রায় ঘোষণার সময় দণ্ডপ্রাপ্ত লিপি আক্তার আদালতের কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন। তিনি জেলার বারহাট্টা উপজেলার বিক্রমশ্রী গ্রামের বাসিন্দা। আদালত ও মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০০৮ সালে একই গ্রামের কামাল উদ্দিনের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা করেন লিপি আক্তার। মামলায় নিজেকে আট মাসের অন্তঃসত্ত্বা দাবি করলে পুলিশ কামাল উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করে। পরে প্রায় দুই মাস কারাগারে থাকতে হয় তাকে। লিপি আক্তারের সন্তান জন্মের পর শিশুটির পিতৃত্ব নির্ধারণে ডিএনএ পরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষার প্রতিবেদনে কামাল উদ্দিনকে শিশুটির জৈবিক পিতা হিসেবে শনাক্ত করা হয়নি। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে ২০১৯ সালে আদালত ধর্ষণের অভিযোগ থেকে কামাল উদ্দিনকে খালাস দেন। এরপর মিথ্যা অভিযোগে মামলা করে তাকে কারাভোগে বাধ্য করার প্রতিকার চেয়ে ২০২০ সালে লিপি আক্তারের বিরুদ্ধে পাল্টা মামলা করেন কামাল উদ্দিন। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ায় সাক্ষ্যপ্রমাণ পর্যালোচনা শেষে আদালত লিপি আক্তারকে দোষী সাব্যস্ত করে এ দণ্ডাদেশ দেন। আরটিভি/এসকে
কামালের নামে ধর্ষণের মিথ্যা মামলা করে ফেঁসে গেলেন নারী 
চার মাস ধরে ছাত্রকে বলাৎকার, প্রধান শিক্ষককে বেধড়ক পিটুনি
সিলেটের গোলাপগঞ্জে এক ছাত্রকে বলাৎকারের অভিযোগে একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
চার মাস ধরে ছাত্রকে বলাৎকার, প্রধান শিক্ষককে বেধড়ক পিটুনি
চুল কাটতে বলায় পরীক্ষার হলে কলম দিয়ে শিক্ষককে রক্তাক্ত করল ছাত্র
চট্টগ্রামের রাউজানে পরীক্ষার হলে চুল লম্বা রাখার কারণ জানতে চেয়ে শাসন করায় এক শিক্ষককে কলম দিয়ে একাধিক আঘাত করে রক্তাক্ত করেছে নবম শ্রেণির এক ছাত্র। আহত শিক্ষককে হাসপাতালে নেওয়া হলে তাঁর মাথায় সেলাই দিতে হয়।
চুল কাটতে বলায় পরীক্ষার হলে কলম দিয়ে শিক্ষককে রক্তাক্ত করল ছাত্র
বাছুরের খড় খাওয়া নিয়ে বিরোধ, প্রাণ গেল একজনের
নওগাঁর মান্দায় বাছুরের খড় খাওয়া নিয়ে বিরোধের জেরে শহিদুল ইসলাম (৪২) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় তার ছোট ভাই সাইফুল ইসলাম ও স্ত্রী সাথী আক্তার আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে সাইফুল ইসলামের মাথায় গুরুতর আঘাত লেগেছে বলে জানা গেছে।
বাছুরের খড় খাওয়া নিয়ে বিরোধ, প্রাণ গেল একজনের
সামাজিক মাধ্যমে তোলপাড়, কে এই ‘বাংলার কৃষ’
দিনে জীবিকার তাগিদে কাজ করেন এসএস পাইপ মিস্ত্রি হিসেবে। আর অবসর পেলেই মেতে ওঠেন সুপারহিরো হওয়ার স্বপ্ন পূরণের সাধনায়। বোনের পুরোনো বোরকাকে কৃষের পোশাকে রূপ দিয়ে নানা কসরত ও স্টান্ট দেখানোর চেষ্টা করেন তিনি।
সামাজিক মাধ্যমে তোলপাড়, কে এই ‘বাংলার কৃষ’
আরও পড়ুন
‘মা ইলিশ রক্ষায় সরকারি সহায়তার চেয়েও জেলেদের মানসিক অঙ্গীকারই গুরুত্বপূর্ণ’
কচুরিপানা সরাতেই ভয়ংকর দৃশ্যের মুখোমুখি স্থানীয়রা
বরখাস্ত হলেন জেলেদের চাল চুরি করা সেই ইউপি কর্মকর্তা 
চাঁদপুরে জেলেদের চাল পাচারের ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন, ইউপির প্রশাসনিক কর্মকর্তা আটক