ঢাকা বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩

চাঁদপুরে জনবল-ওষুধ-বিদ্যুৎহীন স্বাস্থ্যকেন্দ্র এখন মাদকসেবীদের অভয়ারণ্য

স্টাফ রিপোর্টার, চাঁদপুর, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ২০ এপ্রিল ২০২৬, ০১:০৬ পিএম
ভেঙ্গে পড়ে আছে স্বাস্থ্যকেন্দ্রের সদর দরজা : ছবি আরটিভি

চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার গুপ্টি পশ্চিম ইউনিয়নের লাউতলী গ্রামে ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রটি প্রায় ২৫ হাজার দরিদ্র মানুষের চিকিৎসাসেবার একমাত্র ভরসা হলেও বর্তমানে তা নামেই স্বাস্থ্যকেন্দ্র। স্থানীয় জনগণ এখান থেকে তেমন কোনো স্বাস্থ্যসেবা পাচ্ছে না। তিন বছর ধরে কেন্দ্রটিতে নেই জনবল, ওষুধ ও বিদ্যুৎ-সংযোগ। এই সুযোগে চুরি হয়েছে গুরুত্বপূর্ণ আসবাব। রাতের আঁধারে পরিত্যক্ত ভবনটিতে জমে ওঠে মাদকসেবীদের আড্ডা। ফলে স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত স্থানীয় দরিদ্র মানুষ, বাড়ছে মা ও শিশুমৃত্যুর ঝুঁকি।

প্রান্তিক পর্যায়ে সুবিধাবঞ্চিত মানুষের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে সরকারের উদ্যোগ ও স্থানীয়দের সহযোগিতায় ২০০৫ সালে এ স্বাস্থ্য কেন্দ্রটি চালু হয়েছিল। প্রথম দিকে এলাকার দরিদ্র মানুষের মুখে ফুটেছিল হাসি। নিজ এলাকায় মিলবে কাঙ্ক্ষিত স্বাস্থ্যসেবা। কিছুদিন তারা সেই সেবাও পেয়েছিলেন।

কিন্তু গত প্রায় তিন বছর ধরে ওষুধ ও জনবল সংকটে বন্ধ রয়েছে নরমাল ডেলিভারি, প্রসূতি সেবা, কিশোর–কিশোরী স্বাস্থ্যসেবা ও সাধারণ চিকিৎসাসেবা। ফলে কাঙ্ক্ষিত সেবা থেকে বঞ্চিত হয়ে চিকিৎসায় ভরসা করতে হচ্ছে গ্রামের হাতুড়ে ডাক্তারদের।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এ কেন্দ্রে একজন মেডিকেল অফিসার, একজন উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার, একজন ফার্মাসিস্ট ও একজন পিয়নের পদ থাকলেও বর্তমানে সেখানে কোনো জনবল নেই। জনবল সংকটের পাশাপাশি নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকায় দরজা ভেঙ্গে চুরি হয়েছে বৈদ্যুতিক পাখা, পানির মোটরসহ গুরুত্বপূর্ণ আসবাবপত্র। ব্যবহারের অনুপোযোগী হয়ে পড়েছে শৌচাগার। সব মিলিয়ে স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি যেন নিজেই অসুস্থ হয়ে ধুঁকছে। সন্ধ্যার পর পরিত্যক্ত ভবনটি নিয়মিত মাদকের আড্ডায় পরিণত হয়েছে। এখানে সেবা নিতে আসা রোগীদের অভিযোগ আর আক্ষেপের যেন শেষ নেই।

আরও পড়ুন

স্থানীয় বাসিন্দা বশির উল্যা মিজি নামের এক বৃদ্ধ বলেন, আমাদের অনেক ত্যাগের মধ্য দিয়ে এই স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি গড়ে উঠেছিল। কিন্তু গত কয়েক বছর ধরে এখানে ডাক্তার–ঔষধ কিছুই নেই। সেবা না পেয়ে সাধারণ মানুষ দিন দিন অসুস্থ হয়ে যাচ্ছে। দ্রুত ডাক্তার ও ওষুধ দেওয়া জরুরি হয়ে পড়েছে।

সেবাপ্রার্থী ফিরোজা বেগম (৬০), আমিন উল্যাহ (৫৫), সিরাজুল ইসলাম (৫৭)সহ আরও কয়েকজন জানান, বয়স বাড়ার সঙ্গে বাড়ছে নানা রোগ। দীর্ঘদিন ধরে ভুগছেন। এ হাসপাতালে ডাক্তার, ওষুধ কিছুই নেই। জরুরি চিকিৎসার জন্য ভাঙাচোরা সড়ক পেরিয়ে প্রায় ১০ কিলোমিটার দূরে উপজেলা হাসপাতালে যেতে হয়। চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে তাদের।

আজগর আলী (৭০) নামের এক বৃদ্ধ বলেন, আমরা উপজেলা থেকে দূরে গ্রামগঞ্জের মানুষ হওয়াই যেন বড় পাপ করে ফেলেছি। রাষ্ট্রের নাগরিক সেবার অনেক কিছু থেকেই বঞ্চিত। আমাদের ইউনিয়ন পরিবারিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র খাতাকলমে আছে, কিন্তু সেবার ক্ষেত্রে শূন্য। এটি এখন চুরি ও মাদকের আখড়ায় পরিণত হয়েছে।

হাসপাতাল নিজেই অসুস্থ, সেবা দেবে কে? বলে প্রশ্ন তোলেন বৃদ্ধ আজগর।

স্থানীয় ইউনিয়নের পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শক মো. মেহেদী হাসান বলেন, এ কেন্দ্রের বর্তমান পরিস্থিতি উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানিয়েছি। জনবল ও ওষুধ সংকট রয়েছে। এগুলো দিলে কিছুটা হলেও স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া সম্ভব হবে।

ফরিদগঞ্জ থানার উপপুলিশ পরিদর্শক (এসআই) জাকির হোসেন বলেন, হাসপাতালটিতে চুরির ঘটনায় পরিদর্শন করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে সত্যতা পাওয়া গেছে। চোরচক্র ও মাদকসেবীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বুলবুল আহমেদ জানান, দীর্ঘদিন ধরে এ স্বাস্থ্যকেন্দ্রের কার্যক্রম বন্ধ। স্থানীয় মাদকসেবী ও চোরচক্র ইতোমধ্যে অনেক কিছু লুট করেছে। চিকিৎসাবঞ্চিত হয়ে সাধারণ মানুষ ও মা–শিশুর মৃত্যুঝুঁকি বাড়ছে। দ্রুত এই কেন্দ্র সচল করা প্রয়োজন।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান জুয়েল বলেন, লাউতলী স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের পরিস্থিতি শুনে খারাপ লেগেছে। এসব দেখাশোনা করে স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার বিভাগের এবং পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর। সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ করব।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পক্ষ থেকে সহযোগিতার প্রয়োজন হলে তা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে বলেও বলেন তিনি।

আরটিভি/এমএম

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
ঘুরতে নিয়ে প্রেমিকাকে হত্যার লোমহর্ষক বর্ণনা দিলেন প্রেমিক জিম
১৮ মাস আগে নিখোঁজ হয় ১৭ বছর বয়সী কিশোরী নিঝুম খাতুন। নিঝুমের মা মহেশপুর থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন।
ঘুরতে নিয়ে প্রেমিকাকে হত্যার লোমহর্ষক বর্ণনা দিলেন প্রেমিক জিম
কবুতরের ঘরে আস্তানা, ২০ সিসিটিভি দিয়েও রক্ষা পেলেন না ‘হ্যাকার সম্রাট’
নাটোরের লালপুরে সাইবার অপরাধের অভিযোগে ‘হ্যাকার সম্রাট’ হিসেবে পরিচিত ওহিদুল মোল্লা (৩২) ও তার সহযোগীসহ ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পুলিশের দাবি, গ্রেপ্তার এড়াতে ওহিদুল নিজের বাড়ি থেকে গ্রামের প্রধান সড়ক পর্যন্ত অন্তত ২০টি সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করেছিলেন। এমনকি লুকিয়ে থাকার জন্য ব্যবহার করতেন বাড়ির একটি কবুতরের ঘর। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতে লালপুর থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে ওহিদুলকে তার বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করে। এ সময় তার কাছ থেকে বিভিন্ন অপারেটরের ৬৮টি সিম কার্ড উদ্ধার করা হয়। এসব সিম সাতটি মুঠোফোনে অদলবদল করে ব্যবহার করা হতো বলে জানিয়েছে পুলিশ। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে আইনি প্রক্রিয়া শেষে গ্রেপ্তার ছয়জনকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে সাইবার সুরক্ষা আইনে মামলা করা হয়েছে। গ্রেপ্তার ওহিদুল মোল্লা লালপুর উপজেলার বিলমাড়িয়া ইউনিয়নের মোহরকয়া গ্রামের রব্বেল মোল্লার ছেলে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের ভাষ্য, এলাকায় তিনি ইমো হ্যাকিং চক্রের ‘গুরু’ বা ‘সম্রাট’ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তার নেতৃত্বে একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ, মেসেঞ্জার ও ইমোসহ বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে প্রতারণার সঙ্গে জড়িত ছিল বলে অভিযোগ পুলিশের। গ্রেপ্তার অন্যরা হলেন, মোহরকয়া গ্রামের জহুরুল বিশ্বাসের ছেলে সাব্বির হোসেন (২৩), মৃত বেলাল আলীর ছেলে মোতাকাব্বির আলী (২৩), বিলমাড়িয়া গ্রামের মৃত কফের আলীর ছেলে শুকুর আলী (৫০), পানসিপাড়া গ্রামের আধার প্রামাণিকের ছেলে মো. আলামিন (২৩) এবং রাজশাহীর বাঘা উপজেলার আলাইপুর গ্রামের সামাদ মণ্ডলের ছেলে মুক্তার আলী (৩৪)। পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার এড়াতে ওহিদুল নিজের বাড়িকে অনেকটা নিরাপত্তাবেষ্টিত করে রেখেছিলেন। বাড়ি থেকে গ্রামের প্রধান সড়ক পর্যন্ত অন্তত ২০টি সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছিল। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা বাড়ির দিকে এগিয়ে এলে আগেভাগেই তা বুঝতে পারতেন তিনি। তবে সবচেয়ে অদ্ভুত ব্যবস্থা ছিল তার থাকার জায়গা। বাড়ির একটি কক্ষে কয়েকশ কবুতর রাখার জন্য তৈরি করা হয়েছিল ঘর। বাইরে থেকে সেটি সাধারণ কবুতরের ঘর মনে হলেও ভেতরে ছিল ওহিদুলের থাকার ব্যবস্থা। সেখানে একটি খাট, দামি আসবাব, সিসিটিভি মনিটর ও শীতাতপনিয়ন্ত্রণ যন্ত্রও ছিল। পুলিশ বলছে, ওই ঘরে বসেই সাইবার অপরাধের কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতেন তিনি। অভিযানের সময় ওই ঘর থেকে ৬৮টি সিম কার্ড উদ্ধার করা হয়। পুলিশ জানায়, সিমগুলো আলাদা করে একটি সাদা কাগজে ছক আকারে লেখা ছিল। কোন সিমে বিকাশ ও কোনটিতে নগদ ব্যবহার করা হতো, তা বোঝাতে বিভিন্ন সাংকেতিক চিহ্নও ব্যবহার করা হয়েছিল। লালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম বলেন, ওহিদুল দীর্ঘদিন ধরে ডিজিটাল মাধ্যমে সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করে আসছিলেন বলে তথ্য পাওয়া যায়। তার নেতৃত্বে এলাকায় একটি সাইবার অপরাধী চক্র সক্রিয় থাকার তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ অনুসন্ধান শুরু করে। ওসি বলেন, ওহিদুল গ্রেপ্তার এড়াতে বেশ কিছু কৌশল অবলম্বন করেছিলেন। বাড়ির চারপাশে সিসিটিভি স্থাপন এবং কবুতরের ঘরের ভেতরে থাকার ব্যবস্থাও তারই অংশ। তবে সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ঘটনায় লালপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আল মাসুম বাদী হয়ে সাইবার সুরক্ষা আইনে মামলা করেছেন। মামলায় ওহিদুলসহ ছয়জনকে আসামি করা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। আরটিভি/এসকে
কবুতরের ঘরে আস্তানা, ২০ সিসিটিভি দিয়েও রক্ষা পেলেন না ‘হ্যাকার সম্রাট’
হঠাৎ বেড়েছে রড-সিমেন্টের দাম
উৎপাদন ও পরিবহন খরচ বৃদ্ধির প্রভাবে হঠাৎ বেড়েছে রড ও সিমেন্টের দাম। মঙ্গলবার থেকে প্রতি টন রডে গড়ে ১ হাজার টাকা এবং প্রতি বস্তা সিমেন্টে ২৫ টাকা পর্যন্ত দাম বেড়েছে। এতে একদিকে নির্মাণসামগ্রীর বাজারে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, অন্যদিকে নির্মাণকাজ কমে যাওয়ায় ব্যবসায়ীরা বলছেন, বাজারে চাহিদা আগের তুলনায় অনেক কম।  ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ২০২১ সালের পর থেকে উৎপাদন খরচ বৃদ্ধির অজুহাতে দফায় দফায় বাড়তে থাকে রডের দাম। ধারাবাহিকভাবে দাম বেড়ে ২০২৩ সালের মার্চে প্রতি টন রডের দাম লাখ টাকা ছাড়িয়ে যায়। একই সময়ে বাড়ে সিমেন্টের দামও। তবে ২০২৪ সালের পর রড-সিমেন্টের দাম তুলনামূলক কমে আসে। এর সঙ্গে কমে যায় নির্মাণকাজ ও চাহিদাও। ব্যবসায়ীদের দাবি, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ও মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় অনেকেই নতুন করে বাড়িঘর বা স্থাপনা নির্মাণে আগ্রহ হারিয়েছেন। ফলে ফরিদপুরে গত প্রায় এক বছর ধরে রড-সিমেন্টের কেনাবেচা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০২৩ সালে প্রতি টন ১ লাখ টাকায় বিক্রি হওয়া রড ২০২৪ সালের শেষ দিকে নেমে আসে প্রায় ৮৫ হাজার টাকায়। মাঝে দাম ৯০ হাজার টাকার কাছাকাছিও ছিল। সোমবার পর্যন্ত বাজারে কেএসআরএম প্রতি টন ৮৯ হাজার টাকা, বিএসআরএম ৯০ হাজার ৫০০ টাকা, একেএস ৯০ হাজার ৫০০ টাকা, সিএসআরএম ৮৪ হাজার ৫০০ টাকা এবং জেডএসআরএম ৮৩ হাজার ৫০০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। ব্যবসায়ীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দুই বছরের ব্যবধানে রডের দাম টনপ্রতি প্রায় ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা কমেছে। একই সময়ে সিমেন্টের দামও বস্তাপ্রতি প্রায় ৩০ টাকা কমেছিল। তবে মঙ্গলবার থেকে নতুন করে রড ও সিমেন্টের দাম বাড়তে শুরু করেছে। বর্তমানে প্রতি টন রডে গড়ে ১ হাজার টাকা এবং প্রতি বস্তা সিমেন্টে ২৫ টাকা বেড়েছে। ৪৮০ থেকে ৫২০ টাকার মধ্যে বিক্রি হওয়া সিমেন্ট এখন কোনো কোনো ক্ষেত্রে ৫৫০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। ফরিদপুরের সালথা উপজেলা সদরের রড-সিমেন্ট ব্যবসায়ী বলেন, আগে রডের দাম ৯২ হাজার টাকা ছিল। এখন দাম কমে প্রতি টন ৮৫ হাজার টাকা করে বিক্রি করছি। এক বছর আগে বিভিন্ন কোম্পানির সিমেন্টের দাম ছিল ৪৯০ টাকা, এখন ৫৩০ টাকায় বিক্রি করছি। ব্যবসায়ী নাজিম বলেন, বর্তমানে কেনাবেচা কম। ব্যবসায় অফসিজন চলছে। ফলে রড-সিমেন্টের চাহিদা তুলনামূলক অনেক কম। শীতের সময় নতুন ইট বাজারে উঠলে চাহিদা বাড়তে পারে।  এদিকে ঠিকাদারদেরও একই ধরনের সংকটের কথা জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। রনি নামে এক ঠিকাদার বলেন, বর্তমানে তার প্রায় ২০ কোটি টাকার কাজ চলমান। কিন্তু সরকারি উন্নয়নমূলক কাজ আপাতত খুবই কম। ফলে ঠিকাদারদের রড-সিমেন্টের প্রয়োজনও কমেছে। পাশাপাশি দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি ও মানুষের হাতে নগদ অর্থের সংকটের কারণে ইট, বালু, রড-সিমেন্টসহ নির্মাণসামগ্রীর চাহিদা কমেছে।  তবে আগামীতে দাম আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন ব্যবসায়ীরা। তাদের মতে, জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির প্রভাব উৎপাদন ও পরিবহন ব্যয়ে পড়ায় রড-সিমেন্টের বাজারেও তার প্রভাব পড়ছে। একই সঙ্গে ডিসেম্বরের দিকে নির্মাণকাজ বাড়লে এসব পণ্যের চাহিদাও বাড়তে পারে। ফরিদপুর ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. মাহমুদুল হাসান বলেন, জ্বালানি তেলের সঙ্গে অনেক পণ্যের দামই নির্ভরশীল। তেলের দাম বাড়লে উৎপাদন ও পরিবহন খরচও বেড়ে যায়। তবে কোনো ব্যবসায়ী বাজারমূল্যের বাইরে অতিরিক্ত দাম নিচ্ছেন কি না কিংবা সিন্ডিকেট করছেন কি না, সে বিষয়ে অধিদপ্তর সজাগ রয়েছে। আরটিভি/এসকে
হঠাৎ বেড়েছে রড-সিমেন্টের দাম
ছাত্রদলকে ‘কুত্তার মতো পেটানোর’ হুমকি শিবির নেতার
ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে গেলে ছাত্রদলের প্রত্যেক নেতা–কর্মীকে ‘কুত্তার মতো পিটিয়ে’ রাজশাহী ছাড়া করার হুমকি দিয়েছেন মহানগর ছাত্রশিবিরের সভাপতি ইমরান নাজির।
ছাত্রদলকে ‘কুত্তার মতো পেটানোর’ হুমকি শিবির নেতার
চিহ্নিত সন্ত্রাসী ‘কুত্তা শ্রাবণ’ তিন সহযোগীসহ গ্রেপ্তার 
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও কিশোর গ্যাং লিডার শ্রাবণ ওরফে ‘কুত্তা শ্রাবণ’কে গ্রেপ্তার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)।
চিহ্নিত সন্ত্রাসী ‘কুত্তা শ্রাবণ’ তিন সহযোগীসহ গ্রেপ্তার 
আরও পড়ুন
চাঁদপুরে তিন মণ আলুর দামে এক কেজি ইলিশ 
কচুয়ায় অবসরপ্রাপ্ত ও মরণোত্তর ৮৪ শিক্ষক-কর্মচারীকে সম্মাননা প্রদান
প্রযোজক সেলিম ও তার ছেলের লাশ উত্তোলনের নির্দেশ
মোবাইল না দেওয়ায় মা-বাবার বিরুদ্ধে অভিযোগ নিয়ে থানায় ৬ষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী