ঢাকা শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ২৫ আশ্বিন ১৪৩৩

লোকালয়ে মায়ের মৃত্যু, শাবকের কান্নায় দলবেঁধে এলো হাতির পাল

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ১৭ মে ২০২৬, ০৫:৫৪ পিএম
আরটিভি গ্রাফিকস

বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়িতে অসুস্থ অবস্থায় পড়ে থাকা একটি বন্য মা হাতির মৃত্যু হয়েছে। হাতিটি মারা যাওয়ার পর শাবকের চিৎকারে প্রায় ১০টি বন্যহাতির একটি পাল এসে জড়ো হয় বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের পাশাপাশি আবেগঘন পরিবেশেরও সৃষ্টি হয়েছে।

শনিবার (১৭ মে) দিবাগত রাত আনুমানিক ১২টার দিকে উপজেলার বাইশারী ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী ১ নম্বর ওয়ার্ড কাগজিখোলা সংলগ্ন চকরিয়া লাম্বা হাকখোলা পূর্ণ গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার সকাল থেকে নূর মোহাম্মদের বাড়ির পশ্চিম পাশে হাতিটিকে অসুস্থ অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়। হাতিটির পাশে তার ছোট একটি শাবক ঘোরাফেরা করছিল। কেউ কাছে গেলেই শাবকটি আতঙ্কিত হয়ে ডাকাডাকি করছিল এবং মায়ের পাশ ছাড়ছিল না। পরে খবর পেয়ে বন বিভাগের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছে চিকিৎসা কার্যক্রম শুরু করেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মা হাতিটির মৃত্যুর কিছুক্ষণ পর গভীর রাতে প্রায় ১০টি বন্যহাতির একটি পাল ঘটনাস্থলের আশপাশে আসে। এ সময় শাবকটিকে মৃত মা হাতির কাছেই অবস্থান করতে দেখা যায়। হাতির দলটি কিছু সময় সেখানে অবস্থান করে আবার পাহাড়ের দিকে চলে যায়।

আরও পড়ুন

এ ঘটনায় স্থানীয়দের মাঝে যেমন আতঙ্ক বিরাজ করছে, তেমনি মা হাতি ও শাবককে ঘিরে আবেগঘন পরিবেশেরও সৃষ্টি হয়েছে।

বন বিভাগ জানিয়েছে, মৃত হাতিটির নমুনা সংগ্রহ করে মৃত্যুর সঠিক কারণ নির্ণয়ের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

দৃশ্যটি খুবই হৃদয়বিদারক ছিল জানিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা নূর মোহাম্মদ বলেন, সকাল থেকে হাতিটাকে পড়ে থাকতে দেখি। পাশে ছোট বাচ্চাটাও ছিল। মানুষ কাছে গেলেই শাবকটি চিৎকার করছিল।

আরেক বাসিন্দা ফয়েজ আহমেদ বলেন, আমরা বন বিভাগকে খবর দেওয়ার পর ঈদগাঁও থেকে বন বিভাগের কর্মকর্তা উজ্জ্বল ঘটনাস্থলে আসেন। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় হাতিটিকে চিকিৎসা দেওয়া হয়।

বন বিভাগের কর্মকর্তা উজ্জ্বল জানান, ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ঔষধ এনে হাতিটিকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছিল। তবে, হাতিটির শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত দুর্বল ছিল। রাত ১২টার দিকে হাতিটি মারা যায়।

আরটিভি/এমএম

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
প্রথম স্ত্রীর কাছে যাওয়ায় স্বামীর পুরুষাঙ্গ কেটে দিলেন দ্বিতীয় স্ত্রী
রাজশাহীর পুঠিয়ায় আশরাফুল ইসলাম (৩৫) নামের এক ব্যক্তির পুরুষাঙ্গ কেটে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তার দ্বিতীয় স্ত্রীর বিরুদ্ধে। শনিবার (১০ অক্টোবর) ভোরে পুঠিয়া উপজেলার মাহিন্দ্রা বাজার এলাকার একটি ভাড়া বাসায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় আশরাফুলের দ্বিতীয় স্ত্রী রেখা খাতুনকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। আহত আশরাফুলকে উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে ভর্তি করেছে পুলিশ। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আশরাফুল পুঠিয়ার তারাপুর গ্রামের বাসিন্দা। তিনি পেশায় বাসের সহকারী। তারাপুরে তার প্রথম স্ত্রী থাকেন। দ্বিতীয় স্ত্রীর জন্য মাহিন্দ্রা বাজার এলাকায় বাসা ভাড়া নিয়ে থাকতেন তিনি। তবে মাঝেমধ্যে প্রথম স্ত্রীর বাড়িতেও যেতেন আশরাফুল। এ নিয়ে দুই স্ত্রীর মধ্যে বিরোধ চলছিল বলে জানা গেছে। এই বিরোধের জেরে শনিবার ভোরে রেখা ব্লেড দিয়ে তার স্বামীর পুরুষাঙ্গ কেটে দেন বলে অভিযোগ উঠেছে।  রাজশাহীর বেলপুকুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফারুক হোসেন জানান, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে আশরাফুলকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য রামেকে নিয়ে যায়। তিনি বর্তমানে হাসপাতালের ৫ নম্বর ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন। হাসপাতালে তাঁর দেখভালের জন্য প্রথম স্ত্রী সঙ্গে রয়েছেন। ওসি আরও জানান, ঘটনার পরই দ্বিতীয় স্ত্রী রেখা খাতুনকে আটক করে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা ও মামলার প্রস্তুতি চলছে। আরটিভি/টিআর
প্রথম স্ত্রীর কাছে যাওয়ায় স্বামীর পুরুষাঙ্গ কেটে দিলেন দ্বিতীয় স্ত্রী
সাজেকের পর্যটন সড়কে অনির্দিষ্টকালের অবরোধ
রাঙামাটির বাঘাইছড়ির সাজেকে সশস্ত্র তৎপরতা ও সাধারণ মানুষকে হুমকি দেওয়ার প্রতিবাদে রোববার (১১ অক্টোবর) সকাল ৬টা থেকে সাজেক পর্যটন সড়কে অনির্দিষ্টকালের অবরোধের ঘোষণা দিয়েছে সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশন।
সাজেকের পর্যটন সড়কে অনির্দিষ্টকালের অবরোধ
পিরোজপুরে প্রবাসীর কেনা জমি দখলচেষ্টার অভিযোগ
পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় প্রবাসীর কেনা জমি দখলের চেষ্টা, ঘরের বেড়া ভেঙে মালামাল নিয়ে যাওয়ার অভিযোগে সাবেক এক ইউপি চেয়ারম্যানসহ দুজনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেছেন স্থানীয় এক ব্যক্তি। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে জমির মালিকানা দাবি করেছেন অভিযুক্ত সাবেক চেয়ারম্যান। এদিকে, জমি নিয়ে বিরোধের জেরে শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে উভয় পক্ষকে নোটিশ দিয়েছে পুলিশ। মামলার বাদী মো. মানিক মিয়া (৬৫) মঠবাড়িয়া সদর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা। মামলার আসামিরা হলেন ওই ইউনিয়নের আন্ধারমানিক এলাকার সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মো. জালাল মিয়া (৬০) ও পৌরসভার বহেরাতলা এলাকার মো. রতন মিয়া (৫৫)। এ ছাড়া ২০ থেকে ৩০ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে। মামলাটি মঠবাড়িয়া এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এমপি মামলা নম্বর ১৮৮/২০২৬ (মঠবাড়িয়া) হিসেবে নথিভুক্ত রয়েছে। আদালতে দাখিল করা অভিযোগ অনুযায়ী, মঠবাড়িয়া মৌজার ২১ নম্বর জে.এল.-ভুক্ত সাবেক ১৫৬ নম্বর খতিয়ানের ১১৫৬ নম্বর দাগের জমি নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলছে। বাদীর দাবি, জমিটি তার ভোগদখলে ছিল। পরে তিনি জমিটি প্রবাসী জাহিদুল ইসলামের কাছে বিক্রি করেন। অভিযোগে বলা হয়, গত ১৯ আগস্ট রাত ৮টা থেকে পরদিন রাত ২টার মধ্যে আসামিরা লোকজন নিয়ে ওই জমিতে প্রবেশ করেন। এ সময় তারা টিনের বেড়া ভেঙে ঘরে ঢুকে আসবাবপত্রসহ অন্যান্য মালামাল নিয়ে যান। এতে কয়েক লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন বাদী। এ সময় বাধা দিলে প্রবাসী জাহিদুলের পরিবারের সদস্যদের ভয়ভীতি দেখানো ও হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। মানিক মিয়া বলেন, নগদ অর্থের প্রয়োজনে তিনি জমিটি জাহিদুল ইসলামের কাছে বিক্রি করে বুঝিয়ে দিয়েছেন। জাহিদুল প্রবাসে থাকায় তার পক্ষে মামলা করেছেন বলে জানান তিনি। মুঠোফোনে জাহিদুল ইসলাম বলেন, ২০১৮ সালে ৪ দশমিক ২৫ শতাংশ এবং ২০২৫ সালে ৪ দশমিক ৭৫ শতাংশ জমি মানিক মিয়ার কাছ থেকে কিনেছেন তিনি। জমি কেনার পর প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের ভিত্তিতে নিয়ম অনুযায়ী নামজারি সম্পন্ন করেছেন বলেও দাবি করেন তিনি। জাহিদুলের অভিযোগ, ১৪৪ ধারার আদেশ বহাল থাকা সত্ত্বেও জমিতে থাকা দুটি ঘর ভেঙে মালামাল নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এ ছাড়া জমি কেনার পর থেকে তারা চাপ, হয়রানি ও প্রাণনাশের হুমকির মুখে রয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি। তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান জালাল মিয়া। তার দাবি, জমিটি তার নিজের। এ নিয়ে স্থানীয়ভাবে সালিশ হয়েছে এবং সালিশের রোয়েদাদে মানিক মিয়ার জমিটিতে কোনো স্বত্ব নেই বলে উল্লেখ করা হয়েছে। মানিক মিয়া নিজের প্রাপ্যের চেয়ে বেশি জমি বিক্রি করেছেন বলেও দাবি করেন তিনি। জালাল মিয়া বলেন, মামলা হয়েছে। আদালতে দুই পক্ষই নিজেদের কাগজপত্র জমা দেবে। মামলার রায়ে যা নির্ধারিত হবে, তা তিনি মেনে নেবেন। মঠবাড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল ইসলাম বলেন, জমিটি নিয়ে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৪ ধারার আদেশ রয়েছে। এ আদেশের বিরুদ্ধে জালাল উদ্দীন মামলা করেছিলেন। তবে উচ্চ আদালত মামলাটি খারিজ করে দিয়ে স্থগিতাদেশ বহাল রেখেছেন বলে জানান তিনি। জমি নিয়ে শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে পুলিশ উভয় পক্ষকে নোটিশ দিয়েছে। আরটিভি/টিআর
পিরোজপুরে প্রবাসীর কেনা জমি দখলচেষ্টার অভিযোগ
৫ বছরেও শেষ হয়নি ভবন নির্মাণ, জরাজীর্ণ ঘরেই মনপুরা পোস্ট অফিস
ভোলার বিচ্ছিন্ন দ্বীপ উপজেলা মনপুরায় নিজস্ব ভবন না থাকায় বছরের পর বছর ধরে ভাড়া নেওয়া জরাজীর্ণ আধাপাকা টিনশেডের ঘরে চলছে একমাত্র প্রধান পোস্ট অফিসের কার্যক্রম। সংকীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ এ ঘরে সীমিত পরিসরে চলছে দাপ্তরিক কাজ। ফলে ব্যাহত হচ্ছে ডাক বিভাগের স্বাভাবিক কার্যক্রম, আর কাঙ্ক্ষিত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীরা। আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর সেবা চালুর সুযোগ না থাকায় এখনো অনেকটা সনাতন পদ্ধতিতেই চলছে পোস্ট অফিসটির কার্যক্রম। অন্যদিকে, জরাজীর্ণ ভবনে গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র ও বিভিন্ন পরীক্ষার উত্তরপত্র সংরক্ষণ করতে গিয়ে আতঙ্কে থাকতে হয় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের। রাতে একই ঘরের একাংশে তাদের থাকতে হয় বলেও জানিয়েছেন পোস্ট অফিসটির দায়িত্বপ্রাপ্ত পোস্টমাস্টার মো. আবু তাহের। তিনি জানান, স্কুল, মাদ্রাসা, কলেজ ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন পরীক্ষার সময় তাদের উদ্বেগ বেড়ে যায়। এসএসসি, এইচএসসি, সমমান ও ডিগ্রি পরীক্ষার উত্তরপত্র এ টিনশেডের ঘরেই রাখতে হয়। এ সময় কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে গুরুত্বপূর্ণ উত্তরপত্রের ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা থাকে। জানা গেছে, ২০০২ সালে নদীভাঙনের আশঙ্কার কথা উল্লেখ করে পোস্ট অফিসের তিনতলা ভবনটি ভেঙে ফেলা হয়। এরপর থেকে আর স্থায়ী ভবনে ফেরা হয়নি পোস্ট অফিসটির। স্থানীয় রফিকুল ইসলামের কাছ থেকে মাসিক ২ হাজার ৫০০ টাকা ভাড়ায় নেওয়া একটি আধাপাকা টিনশেডের ঘরে চলছে এর কার্যক্রম। দীর্ঘদিনের এ সংকট নিরসনে ২০২১ সালে পোস্ট অফিসের জন্য দেড়তলা পাকা ভবন নির্মাণের কাজ শুরু হয়। তবে পাঁচ বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো নির্মাণকাজ শেষ হয়নি। ফলে নতুন ভবনে কার্যক্রম স্থানান্তরের অপেক্ষায় রয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সেবাপ্রত্যাশীরা। সরেজমিনে দেখা গেছে, পাওয়ার হাউস-সংলগ্ন ছোট একটি জরাজীর্ণ আধাপাকা টিনশেডের ঘরে চলছে পোস্ট অফিসের কার্যক্রম। ভেতরে রয়েছে দুটি কাঠের টেবিল, দুটি ভাঙাচোরা আলমারি, চারটি চেয়ার এবং ডাক বিভাগের কিছু কাগজপত্র। ঘরটির সামনের অংশে দাপ্তরিক কাজ করা হয়, আর পেছনের অংশে রাত কাটান কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। পোস্টমাস্টার, পোস্টম্যান ও প্যাকারম্যানকে সীমিত সুযোগ-সুবিধার মধ্যেই সরকারি চিঠিপত্র গ্রহণ, বাছাই ও বিতরণের কাজ করতে দেখা গেছে। বর্তমানে চিঠিপত্র আদান-প্রদান ও সীমিত পরিসরে মানি অর্ডার-সংক্রান্ত কার্যক্রম ছাড়া অন্যান্য সেবা বন্ধ রয়েছে। ভবন ও অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতার পাশাপাশি রয়েছে লোকবলসংকট। এতে স্বাভাবিক কার্যক্রম পরিচালনা করতেই হিমশিম খেতে হচ্ছে সংশ্লিষ্টদের। ডাক বিভাগের আওতায় চিঠি, পার্সেল, মানি অর্ডার ও ইলেকট্রনিক মানি অর্ডারসহ বিভিন্ন সেবা থাকলেও মনপুরা পোস্ট অফিসে এসব সেবার বেশির ভাগই পাওয়া যায় না বলে অভিযোগ স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীদের। তাদের অভিযোগ, প্রয়োজনীয় সেবা না পাওয়ায় চিঠি ও পার্সেল পাঠাতে তারা বেসরকারি কুরিয়ার সার্ভিসের ওপর নির্ভর করছেন। ঝুঁকিপূর্ণ টিনশেডের ঘর হওয়ায় অনেকে পোস্ট অফিসে পার্সেল পাঠাতেও আগ্রহী নন। অন্যদিকে, মানি অর্ডারের খরচ বেশি মনে হওয়ায় আর্থিক লেনদেনের ক্ষেত্রে নগদ ও বিকাশের মতো মোবাইল আর্থিক সেবা ব্যবহার করছেন তারা। এ বিষয়ে মনপুরা পোস্ট অফিসের দায়িত্বপ্রাপ্ত পোস্টমাস্টার মো. আবু তাহের জানান, স্থায়ী পাকা ভবন না থাকায় আমরা কাঙ্ক্ষিত সেবা দিতে পারছি না। এ ছাড়া লোকবলসংকটও রয়েছে। নতুন ভবনের নির্মাণকাজ চলমান। সেখানে আইসিটি কর্নার থাকবে। ভবনটি চালু হলে আধুনিক ও ডিজিটাল সেবা দেওয়া সম্ভব হবে। সংশ্লিষ্টদের মতে, ডাক বিভাগের সেবা সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে মনপুরা পোস্ট অফিসের স্থায়ী ভবন নির্মাণের কাজ দ্রুত সম্পন্ন করা জরুরি। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ ও আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর সেবা চালু করা গেলে দ্বীপ উপজেলার বাসিন্দাদের ভোগান্তি কমবে এবং সরকারি ডাকসেবার প্রতি মানুষের আস্থা বাড়বে। আরটিভি/টিআর
৫ বছরেও শেষ হয়নি ভবন নির্মাণ, জরাজীর্ণ ঘরেই মনপুরা পোস্ট অফিস
স্কুলছাত্রী তাজমিনকে ধর্ষণের পর হত্যা, চাঞ্চল্যকর তথ্য দিলেন সিএনজিচালক সুমন
কুমিল্লার লালমাইয়ে ধানক্ষেত থেকে উদ্ধার হওয়া স্কুলছাত্রী জান্নাতুল তাজমিন হত্যার রহস্য উদঘাটন করেছে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। ধর্ষণে বাধা দেওয়ায় তাজমিনকে শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগ উঠেছে সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক সুমন মিয়ার (৩৫) বিরুদ্ধে। গ্রেপ্তারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। শনিবার (১০ অক্টোবর) সকালে কুমিল্লা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পঙ্কজ বড়ুয়া। পুলিশ জানায়, গত বুধবার রাত আনুমানিক সাড়ে ১২টার দিকে কুমিল্লা নগরীর রেসকোর্স এলাকায় যাওয়ার জন্য সুমনের অটোরিকশা ভাড়া করে তাজমিন। তবে পদুয়ার বাজার এলাকা থেকে শহরের দিকে না গিয়ে তাকে নিয়ে অন্য পথে রওনা হন চালক। পরে বিভিন্ন সড়ক ঘুরিয়ে লালমাই উপজেলার জগতপুর এলাকার একটি নির্জন স্থানে নিয়ে যাওয়া হয় তাকে। সেখানে তাজমিনকে ধর্ষণের চেষ্টা করলে বাধা দেয় সে। এ সময় দুজনের মধ্যে ধস্তাধস্তি শুরু হয়। একপর্যায়ে অটোরিকশাটি সড়কের পাশে ধানখেতে কাত হয়ে পড়ে যায়। নিজেকে রক্ষার জন্য দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত সুমনের কবলে পড়ে তাজমিন। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, জিজ্ঞাসাবাদে সুমন স্বীকার করেছেন, তাজমিনকে ধর্ষণের পর নিজের গামছা গলায় পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করেন তিনি। এরপর পাশের একটি পুকুরে গোসল করে তাজমিনের ভ্যানিটি ব্যাগ থেকে একটি আইফোন নিয়ে যান। পরে মুঠোফোনটি স্থানীয় একটি ধানখেতে লুকিয়ে রেখে অটোরিকশাটি ফেলে চট্টগ্রামের দিকে পালিয়ে যান তিনি। ঘটনাস্থলে পড়ে থাকা অটোরিকশার রেজিস্ট্রেশন নম্বরের সূত্র ধরে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। পরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ডিবি ও লালমাই থানা পুলিশের যৌথ অভিযানে চট্টগ্রাম মহানগরীর একটি এলাকা থেকে সুমনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বাগমারা এলাকার পুকুরপাড়ের জঙ্গল থেকে আইফোনটি এবং হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অটোরিকশা উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পঙ্কজ বড়ুয়া বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সুমন পুরো ঘটনার দায় স্বীকার করেছেন। তাকে আদালতে সোপর্দ করার প্রক্রিয়া চলছে। আদালতে তিনি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেবেন কি না, তা আদালতে উপস্থাপনের পর জানা যাবে। সংবাদ সম্মেলনে লালমাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান, ডিবির উপপরিদর্শক (এসআই) পবিত্র সরকার, উপপরিদর্শক অর্ণবসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এর আগে গত বৃহস্পতিবার সকালে কুমিল্লার লালমাই উপজেলার জগতপুর গ্রামের একটি ধানখেতের আইলের পাশ থেকে তাজমিনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। স্থানীয়রা মরদেহটি দেখতে পেয়ে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে এবং পরিচয় শনাক্তের উদ্যোগ নেয়। পরে স্বজনরা মরদেহটি তাজমিনের বলে শনাক্ত করেন। নিহত জান্নাতুল তাজমিন যশোর সদর উপজেলার চুড়ামনকাটি ইউনিয়নের ছাতিয়ানতলা গ্রামের আব্দুল আলিম ও কেয়া আক্তার দম্পতির মেয়ে। তার বাবা রেনেটা ওষুধ কোম্পানির কুমিল্লা অঞ্চলে চাকরি করেন। বাবার চাকরির সুবাদে পরিবারের সঙ্গে কুমিল্লা নগরীর রেসকোর্স এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকত তাজমিন। সে নগরীর ফরিদা বিদ্যায়তন স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। স্কুল কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে স্কুলে যাওয়া বন্ধ ছিল তাজমিনের। পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত ৪ অক্টোবর সকালে বান্ধবীর বাসায় যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয়েছিল তাজমিন। বুধবার রাত ১২টা ১৯ মিনিটে কুমিল্লার হোটেল নূরজাহানের সামনে তাকে শেষবারের মতো দেখা যায়। পরে রাত ২টা ৫৮ মিনিটে বাবার হোয়াটসঅ্যাপে নিজের লাইভ লোকেশন পাঠিয়ে তাকে উদ্ধার করে নিয়ে যাওয়ার অনুরোধ জানিয়ে একটি বার্তা পাঠায় তাজমিন। তবে গভীর রাতে ঘুমিয়ে থাকায় বাবা সময়মতো বার্তাটি দেখতে পাননি। পরদিন সকালে অজ্ঞাতপরিচয় কিশোরীর মরদেহ উদ্ধারের খবর পেয়ে স্বজনরা ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে শনাক্ত করেন। এ ঘটনায় তাজমিনের বাবা আব্দুল আলিম বাদী হয়ে লালমাই থানায় অজ্ঞাতপরিচয় আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন। পরে তদন্তে নেমে ডিবি ও থানা পুলিশ যৌথভাবে অভিযান চালিয়ে সুমনকে গ্রেপ্তার করে। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। আরটিভি/এসকে
স্কুলছাত্রী তাজমিনকে ধর্ষণের পর হত্যা, চাঞ্চল্যকর তথ্য দিলেন সিএনজিচালক সুমন
আরও পড়ুন
বেরিয়ে এলো তাজমিন হত্যার চাঞ্চল্যকর তথ্য
মৃত্যুর আগে কী ঘটেছিল তাজমিনের সঙ্গে, ধরা পড়ল সিসিটিভি ফুটেজে
রাতে বাবাকে লাইভ লোকেশন, সকালে মিলল কিশোরীর মরদেহ
রাতে নিখোঁজ, সকালে সড়কের পাশে মিলল যুবকের মরদেহ