ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩

আলোর মুখ দেখতে যাচ্ছে চট্টগ্রামের চীনা অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রকল্প

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ২০ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:০৮ পিএম
আলোর মুখ দেখতে যাচ্ছে চট্টগ্রামের চীনা অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রকল্প। ছবি: সংগৃহীত

চট্টগ্রামের আনোয়ারায় দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে রয়েছে চীনা অর্থনৈতিক ও শিল্পাঞ্চল প্রকল্পটি। তবে আগামী জুনের মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হবে বলে আশা করছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা)। কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি ও সমঝোতা প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। এগুলো সম্পন্ন হলে প্রকল্পের মূল অবকাঠামোর নির্মাণকাজ শুরু হবে।

সম্প্রতি দেশের বেসরকারি একটি গণমাধ্যমকে এই কথা বলেছেন বেজার নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন।

তিনি বলেন, আগামী জুনের মধ্যেই চায়না রোড অ্যান্ড ব্রিজ করপোরেশনের সঙ্গে জমির ডেভেলপার অ্যাগ্রিমেন্ট সইয়ের আশা করছি।

প্রকল্পসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি ও সমঝোতা প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। এগুলো সম্পন্ন হলে প্রকল্পের মূল অবকাঠামোর নির্মাণকাজ শুরু হবে।

আনোয়ারায় প্রায় ৭৮৩ একর জমিতে সরকারি ভিত্তিতে (জিটুজি) চাইনিজ ইকোনমিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোন (সিইআইজেড) নির্মাণ করা হচ্ছে।
নয় বছরের বেশি সময় ধরে ঝুলে থাকা এ প্রকল্পে বিপুল বিনিয়োগের সম্ভাবনা থাকলেও ডেভেলপার অ্যাগ্রিমেন্ট না হওয়ায় এতদিন কাজে গতি আসেনি। তবে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে প্রকল্পটি ঘিরে নতুন করে তৎপরতা শুরু হয় এবং বর্তমানে কাজের গতি আরও বেড়েছে বলে জানিয়েছে বেজা।

আরও পড়ুন

জানা গেছে, প্রকল্পটি বিলম্বিত হওয়ার পেছনে একাধিক কারণ রয়েছে। শুরুতে অবকাঠামো উন্নয়নের দায়িত্ব দেওয়ার কথা ছিল চায়না হারবার ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানিকে (সিএইচইসি)। কিন্তু তাদের সঙ্গে চুক্তি না হওয়ায় কয়েক বছর সময় নষ্ট হয়।

পরে ২০২২ সালে চীনা সরকারের পক্ষ থেকে চায়না রোড অ্যান্ড ব্রিজ করপোরেশনকে (সিআরবিসি) নতুন ডেভেলপার হিসেবে মনোনীত করা হয়।

এছাড়া ডিপিপি প্রণয়ন ও অনুমোদন প্রক্রিয়াও দীর্ঘ সময় নিয়েছে। প্রকল্পটির অফসাইট অবকাঠামো—যেমন সড়ক, গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানি সংযোগ—বেজা বাস্তবায়ন করবে, আর অভ্যন্তরীণ উন্নয়ন কাজ করবে ডেভেলপার কোম্পানি। এই দুই অংশের কাজ এখনো পুরোপুরি সমন্বিতভাবে এগোয়নি।

গত ১৪ মার্চ এক বৈঠকে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) ও বেজার নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী প্রধানমন্ত্রীর কাছে চীনা অর্থনৈতিক অঞ্চলসহ ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনা উপস্থাপন করেন। এরপর গত সপ্তাহে বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বৈঠকে প্রকল্পটির অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা করেন তিনি।

এ বিষয়ে আশিক চৌধুরী বলেন, বৈঠকটি ফলপ্রসূ হয়েছে এবং আনোয়ারার এই অর্থনৈতিক অঞ্চলকে অগ্রাধিকারভুক্ত প্রকল্প হিসেবে এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে উভয় পক্ষ একমত হয়েছে। সিআরবিসির সঙ্গে ল্যান্ড ডেভেলপার অ্যাগ্রিমেন্ট জুনের মধ্যে করা সম্ভব হবে বলে আমরা আশাবাদী।

বিডা জানায়, বৈঠকে চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বলেন, সিইআইজেড প্রকল্পের অগ্রগতি চীনা বিনিয়োগকারীদের জন্য ইতিবাচক বার্তা দেবে।

বেজার উপসচিব মোহাম্মদ জাকারিয়া মিঠু বলেন, জমি অধিগ্রহণ পুরোপুরি সম্পন্ন হয়েছে। প্রকল্পটি চীনা ঋণের আওতায় বাস্তবায়িত হবে এবং চীনা সরকার মনোনীত প্রতিষ্ঠানই উন্নয়ন কাজ পরিচালনা করবে।

তিনি জানান, সম্ভাব্য বিনিয়োগ খাত হিসেবে টেক্সটাইল, ফার্মাসিউটিক্যালস ও লাইট ইঞ্জিনিয়ারিংকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।

আরটিভি/এসআর

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
দীর্ঘ সময় ডাকাডাকি করেও মেলেনি সাড়া, দরজা ভাঙতেই ‘চোখ কপালে’
খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে ঘরের দরজা ভেঙে তাকে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার করে। পরে খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
দীর্ঘ সময় ডাকাডাকি করেও মেলেনি সাড়া, দরজা ভাঙতেই ‘চোখ কপালে’
বগুড়ায় মাইক্রোবাস-ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে দুইজনের মৃত্যু, আহত ৭
বগুড়ার শাজাহানপুরে মাইক্রোবাস ও ভুট্টাবাহী ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে দুজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও সাতজন।
বগুড়ায় মাইক্রোবাস-ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে দুইজনের মৃত্যু, আহত ৭
মিষ্টি খেয়ে যে কারণে হাজতে যেতে হলো কিশোরকে
পকেটে টাকা নেই, অথচ পেটে প্রচণ্ড ক্ষুধা। যশোর রেলস্টেশনে এক পথচারীর খাবারের প্যাকেট দেখে ক্ষুধার তাড়নায় সেটি কেড়ে নেয় কিশোর নূর মোহাম্মদ। প্যাকেট খুলে ভাতের বদলে মিষ্টি পেয়ে কয়েকটি খেয়েও ফেলে সে। এরপর সেই কয়েকটি মিষ্টিই তাকে নিয়ে যায় মারধর, পুলিশ, আদালত হয়ে এক রাতের হাজতবাসের পথে।
মিষ্টি খেয়ে যে কারণে হাজতে যেতে হলো কিশোরকে
রিকশাচালক থেকে যেভাবে ‘হ্যাকিং গুরু’ হয়ে ওঠেন ওহিদুল 
রাজমিস্ত্রির সহকারী থেকে রিকশাচালক। এরপর হঠাৎ রিকশা ছেড়ে হ্যাকিংয়ে জড়িয়ে পড়া। মাত্র পাঁচ বছরে বদলে যায় নাটোরের লালপুরের ওহিদুল মোল্লার জীবনযাত্রা।
রিকশাচালক থেকে যেভাবে ‘হ্যাকিং গুরু’ হয়ে ওঠেন ওহিদুল 
অবৈধভাবে যৌন উত্তেজক ওষুধ বানাতেন এই এনসিপি নেতা
ফরিদপুরে অবৈধভাবে যৌন উত্তেজক ওষুধ, শিশুদের বেবি জেলসহ বিভিন্ন ধরনের সামগ্রী তৈরির অভিযোগে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) এক নেতাকে ছয় মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। একই সঙ্গে তাকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। দণ্ডপ্রাপ্ত মো. বায়েজিদ হোসেন শাহেদ (৪০) এনসিপির ফরিদপুর জেলা কমিটির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক। তিনি জেলার আলফাডাঙ্গা উপজেলার বাসিন্দা হলেও বর্তমানে ফরিদপুর শহরের গোয়ালচামট এলাকায় বসবাস করেন। ওই এলাকায় তার মালিকানাধীন মেসার্স জনতা ল্যাবরেটরিজ কারখানা রয়েছে। ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক ও জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ইনসানা তানজীন ইকো জানান, মঙ্গলবার রাতে কারখানাটিতে অভিযান চালানো হয়। অভিযানে অবৈধভাবে বিভিন্ন ধরনের ওষুধ ও সামগ্রী উৎপাদনের প্রমাণ পাওয়ায় বায়েজিদ হোসেন শাহেদকে ছয় মাসের কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। পরে তাকে ফরিদপুর জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে। ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০২২ সালের সেপ্টেম্বর থেকে কারখানাটি অবৈধভাবে পরিচালিত হয়ে আসছিল। সেখানে শিশুদের বেবি জেল, বিভিন্ন ধরনের যৌন উত্তেজক ওষুধসহ বিপুল পরিমাণ আয়ুর্বেদিক ওষুধ তৈরি করা হতো। অভিযানের সময় কারখানা থেকে বিপুল পরিমাণ অবৈধ ওষুধ উদ্ধার ও জব্দ করা হয়। অত্যাবশ্যকীয় পণ্য নিয়ন্ত্রণ আইনের সংশ্লিষ্ট ধারা লঙ্ঘনের অভিযোগে এ অভিযান পরিচালনা করা হয় বলে জানিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ বিষয়ে এনসিপির ফরিদপুর জেলা কমিটির সদস্যসচিব সাইফ হাসান খাঁন বলেন, অন্যায়ের সঙ্গে আমাদের আপস নেই। দলের কোনো সদস্য অন্যায় করলে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে কেন্দ্রকে জানানো হবে। আরটিভি/এসকে
অবৈধভাবে যৌন উত্তেজক ওষুধ বানাতেন এই এনসিপি নেতা
আরও পড়ুন
ধামরাইয়ে চীনা কর্মকর্তাকে বেঁধে ৭০ লাখ টাকা লুটের ঘটনা তদন্তে পুলিশ
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সঙ্গে চীনা রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ
বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলের নেতাদের চীনে প্রশিক্ষণের প্রস্তাব
চট্টগ্রামে ২০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করবে এমইপি গ্রুপ