অসময়ে ভাঙছে যমুনার তীর, নদীপাড়ে আতঙ্ক

আরটিভি নিউজ

শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬ , ০৮:৫৭ পিএম


অসময়ে ভাঙছে যমুনার তীর, নদীপাড়ে আতঙ্ক
ছবি: সংগৃহীত

শুষ্ক মৌসুমে সিরাজগঞ্জের কাজীপুরে যমুনা নদীর তীর সংরক্ষণ এলাকায় দেখা দিয়েছে অস্বাভাবিক ভাঙন। এতে নদীর তীর ধসে পড়ে যমুনায় বিলীন হয়ে গেছে বেশ কিছু অংশ। অসময়ের এই ভাঙনে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে নদীপাড়ের বাসিন্দাদের মাঝে। 

তবে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) বলেছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে ও ভাঙন রোধে জিও ব্যাগভর্তি বালুর বস্তা ফেলা হচ্ছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, নদীতে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের কারণে পানির স্রোত তীব্র হয়ে পশ্চিম তীরের সংরক্ষণ এলাকায় আঘাত হানছে, ফলে এ ভাঙন সৃষ্টি হয়েছে।

জানা যায়, কাজীপুর উপজেলার কাজীপুর মৌজায় বালুমহাল ইজারা দেওয়া থাকলেও প্রভাবশালী একটি মহল শুষ্ক মৌসুমে ইকোপার্ক এলাকা, পলাশপুর ঘাট, মেঘাই ঘাট ও ঢেকুরিয়া এলাকায় অবৈধ ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলন করে আসছেন। এতে নদীর তলদেশে বড়বড় গর্তের সৃষ্টি হয়ে গত এক সপ্তাহ ধরে পলাশপুর ঘাট এলাকায় দুটি স্থানে ভাঙন শুরু হয়েছে।

পাউবো সূত্র জানায়, ২০১০ সালে কাজীপুরে যমুনা নদীর পশ্চিম তীর সংরক্ষণ কাজ শুরু হয়ে ২০১৪ সালে শেষ হয়। পাথরের ব্লক ও বালুভর্তি বস্তা দিয়ে তীর রক্ষা করা হয়েছিল। কিন্তু চলতি শুষ্ক মৌসুমেই দুটি স্থানে তীর ধসে পড়ায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। হুমকির মুখে পড়েছে মেঘাই বাঁধ, ফসলি জমি ও আশপাশের স্থাপনা। বর্ষা মৌসুম শুরুর আগেই এই ভাঙন পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলেছে।

সরেজমিন জানা গেছে, কাজীপুর উপজেলায় যমুনা নদীর অংশে প্রায় ৪০টি বালুর পয়েন্ট রয়েছে। এসব পয়েন্ট ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের আগে আওয়ামী লীগ নেতাদের নিয়ন্ত্রণে থাকলেও পট পরিবর্তনের পর সেগুলো এখন বিএনপি, ছাত্রদল ও যুবদলের নেতাকর্মীরা নিয়ন্ত্রণ করছেন। প্রতিদিন এসব পয়েন্ট থেকে শতশত ট্রাক বালু বিক্রি হচ্ছে, যার বড় একটি অংশ রাজনৈতিক প্রভাবশালীদের কাছে যাচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে তাদের কারও নামে বৈধ বালুমহালের ইজারা নেই।

পলাশপুর গ্রামের বাসিন্দা মোমেনা খাতুন বলেন, আমাদের জমিজমা সব নদীতে চলে গেছে। এখন কোথাও যাওয়ার জায়গা নেই। নদীতে পানি কম থাকলেও ভাঙন দেখা দিয়েছে। নদী থেকে সারাবছর বালু তোলে, কিন্তু দেখার কেউ নেই।

একই এলাকার শান্ত অভিযোগ করে বলেন, আমার বাড়ির সামনে থেকেই সারাবছর বালু তোলা হয়। অথচ বৈধ কোনো ইজারা নেই। এবারের ভাঙনে মনে হচ্ছে আমার বাড়িটা আর টিকবে না।

সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোখলেছুর রহমান বলেন, ধসে যাওয়া স্থানে বালুভর্তি বস্তা ফেলা হচ্ছে। আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। আমরা অবৈধ বালু উত্তোলনের খবর পেলে অবশ্যই আইনানুগ ব্যবস্থা নেব।

কাজীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, আইন অনুযায়ী সরকারি-বেসরকারি স্থাপনা, বাঁধ, গ্যাস পাইপলাইন ও সেতুর এক কিলোমিটারের মধ্যে বালু উত্তোলন নিষিদ্ধ। ইজারা ছাড়া বালু উত্তোলনের কোনো সুযোগ নেই। আমরা একাধিকবার অভিযান চালিয়ে জরিমানা করেছি। ভবিষ্যতেও অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরটিভি/টিআর

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps

Loading...

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission