মাদরাসা শিক্ষকের বিরুদ্ধে ছাত্রীকে নিপীড়নের অভিযোগ

আরটিভি নিউজ 

সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬ , ০৩:৪২ পিএম


মাদরাসা শিক্ষকের বিরুদ্ধে ছাত্রীকে নিপীড়নের অভিযোগ
অভিযুক্ত জুনায়েদ আহমদ : ছবি সংগৃহিত

নরসিংদীর রায়পুরা পৌর শহরের জান্নাতুল বুশরা বালিকা মাদরাসা শিক্ষকের বিরুদ্ধে ১০ বছর বয়সী এক ছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার পর গা ঢাকা দিয়েছেন ওই শিক্ষক। 

অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম জুনায়েদ আহমদ। তিনি উপজেলার চান্দেরকান্দি এলাকার মুছলেহ উদ্দিনের ছেলে এবং প্রতিষ্ঠানটির মুহতামিম। 

ঘটনার দুই দিন পর রোববার (২৬ এপ্রিল) দুপুরে জড়িত শিক্ষকের বিরুদ্ধে রায়পুরা থানায় অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী ছাত্রীর মা।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, দুই মাস আগে রায়পুরা পৌর এলাকার হাসিমপুর-কলাবাড়িয়ার জান্নাতুল বুশরা বালিকা মাদরাসায় ভুক্তভোগী ওই ছাত্রী ও তার ছোট ভাইকে ভর্তি করানো হয়। সেখানে (আবাসিক) থেকে পড়াশোনা করছিল সে।

গত ২৪ এপ্রিল রাত ২টায় ওই ছাত্রীর স্পর্শকাতর স্থানে হাত দেন মাদরাসার মুহতামিম জুনায়েদ আহমদ।

ঘটনার পর সকালে অসুস্থতা বোধ করলে ওই ছাত্রী তার খালার বাড়ি রায়পুরা পৌর শহরের মৌলভীবাজারের বাসায় চলে যায়। সেখানে তার অসুস্থতার কারণ জানতে চাইলে ঘটনার বিস্তারিত ওই ছাত্রী তার খালাকে জানান। পরে বিষয়টি ওই ছাত্রীর মা ও বাবাকে ফোনে জানান তিনি।

ওই ছাত্রীর স্পর্শকাতর  স্থানে নখের দাগের চিহ্ন রয়েছে।

আরও পড়ুন

পরে ওই ভুক্তভোগী মাদরাসা ছাত্রীকে রায়পুরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা করানো হয়।

স্থানীয় সূত্র জানায়, গতকাল মাদরাসা ছাত্রী ধর্ষণচেষ্টা ঘটনা জানাজানি হলে তা স্থানীয় জনপ্রতিনিধি অথবা নেতাদের মাধ্যমে সালিশ বসিয়ে ধামাচাপা দেওয়া চেষ্টা করা হয়। কিন্তু স্থানীয়দের আপত্তির মুখে বন্ধ হয়ে যায় সালিশ। এক পর্যায়ে উত্তেজিত জনতা মাদরাসা একটি সাঁটার ভাঙচুর করে এবং ছাত্রী ধর্ষণচেষ্টার বিচার দাবি জানান।

খবর পেয়ে সেখানে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি  নিয়ন্ত্রণে আনে এবং ভুক্তভোগী পরিবারকে থানায় অভিযোগ দিতে বলে।

অভিযোগ এ বলা হয়, অভিযুক্ত মুহতামিম জুনায়েদ আহমদ সর্ম্পকে জান্নাতুল বুশরা বালিকা মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা বাবুল ভূঁইয়ার ভায়রা। ঘটনার পর জুনায়েদকে প্রতিষ্ঠান থেকে নিরাপদে পালিয়ে যেতে সাহায্য করেন তিনি। পরবর্তী পর্যায়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও নেতাদের মাধ্যমে ঘটনাটি টাকার বিনিময়ে সালিশ বসিয়ে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন তিনি। কিন্তু স্থানীয়দের আপত্তি ও বিরোধিতার কারণে শেষ পর্যন্ত তা করতে পারেননি তিনি।

ঘটনার পর মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা বাবুল ভুইয়া এবং মুহতামিম জুনায়েদ দুজনই এখন আত্মগোপনে আছেন। তাদের ব্যবহৃত মুঠোফোনও বন্ধ।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ঘটনার পর মাদরাসাটি বন্ধ রয়েছে। গেটে ঝুলছে তালা। গত রাতে উত্তেজিত জনতা মাদরাসার একটি সাঁটারে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করে।

রায়পুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুজিবর রহমান জানান, ছাত্রী ধর্ষণচেষ্টা ঘটনা নিয়ে বসা সালিশে ঝামেলার খবর পেয়ে সেখানে পুলিশ পাঠানো হয়। পরবর্তীতে ভুক্তভোগী পরিবারকে থানায় অভিযোগ দিতে বলা হয়। আজ ভুক্তভোগীর মা থানায় অভিযোগ দিয়েছেন। ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে এবং অভিযুক্ত মাদরাসা শিক্ষককে ধরতে অভিযান চলছে বলে জানান তিনি।

আরটিভি/এমএম

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps

Loading...

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission