কাস্টমস কর্মকর্তা হত্যা, প্রথম জন্মদিন পালিত হলো বাবাকে দাফনের মধ্য দিয়ে

আরটিভি নিউজ

সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬ , ০৩:৫৯ পিএম


কাস্টমস কর্মকর্তা হত্যা, প্রথম জন্মদিন পালিত হলো বাবাকে দাফনের মধ্য দিয়ে
ছবি: সংগৃহীত

কাস্টমস কর্মকর্তা বুলেট বৈরাগীর নিথর মরদেহ রোববার (২৬ এপ্রিল) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে বাড়িতে পৌঁছালে স্বজনদের আহাজারিতে পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে। রাতেই নিহত বুলেটকে বাড়ির পাশে সব আনুষ্ঠানিকতা শেষে সমাহিত করা হয়। ভাগ্যের কি নির্মম পরিহাস! বুলেটের ছেলের প্রথম জন্মদিন কাটছে বাবা হারানো শোক আর কঠিন বাস্তবতার মধ্য দিয়ে।

এদিকে বুলেটের স্ত্রী উর্মী হীরা এখনও বিশ্বাস করতে পারছেন না তার স্বামী আর নেই। এ ঘটনার চার দিন আগে তাদের বিবাহবার্ষিকী পালিত হয়েছে। 

শনিবার (২৫ এপ্রিল) সকালে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার কোটবাড়ী এলাকায় আইরিশ হিল হোটেলের পাশ থেকে বুলেট বৈরাগী মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করা হয়। স্বজনেরা লাশবাহী গাড়িতে করে মরদেহ নিয়ে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ার গ্রামের বাড়ি এসে পৌঁছান।

সোমবার (২৭ এপ্রিল) বুলেটের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, শোকে কাতর বুলেটের স্ত্রী উর্মী হীরা। বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন তিনি। বাবার কবরের দিকে অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে বুলেটের এক বছর বয়সী ছেলে অব্বয়। 

অন্যদিকে নিজ সন্তানকে হারিয়ে পাগলপ্রায় বুলেটের বাবা ও মা। তাদের আহাজারিতে কেঁপে উঠছে আশপাশের এলাকা। 

আরও পড়ুন

নিহত বুলেটের শাশুড়ি মমতা হীরা বলেন, আমার জামাই বুলেটের একটি পুত্র সন্তান রয়েছে। আজ তার জন্মদিন। কে জানতো তার প্রথম জন্মদিন পালিত হবে বাবাকে দাফনের মধ্য দিয়ে। আমার মেয়ের চার দিন আগে বিবাহবার্ষিকী গেছে। চার বছর তাদের বিবাহ হয়েছে। আমার মেয়েটা অকালে বিধবা হলো। এটি কোন দুর্ঘটনা নয়, এটি হত্যা। বুলেটকে যারা হত্যা করেছে তাদের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করছি। 

নিহতের স্ত্রী উর্মী হীরা বলেন, আজ আমাদের পুত্র সন্তান অব্বয়ের প্রথম জন্মদিন। এজন্য দুই দিন আগে বুলেট বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিল। ওর সঙ্গে আমার যখন শেষবার কথা হয় তখন সে আমাকে বলেছিল- আমি রওনা হইছি। কিন্তু আর জীবিত ফেরা হলো না ওর। আমার স্বামীকে যারা হত্যা করেছে, আমাকে যারা অকালে বিধবা করেছে তাদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানাই। 

নিহত বুলেট বৈরাগী টুঙ্গিপাড়ার ডুমুরিয়া উত্তরপাড়া (বাবুপাড়া) গ্রামের সুশীল বৈরাগীর ছেলে। তিনি ৪১তম বিসিএস নন-ক্যাডার হিসেবে ঢাকা কাস্টমস কার্যালয়ে যোগ দেন এবং সর্বশেষ কুমিল্লার বিবিরবাজার স্থলবন্দরে কর্মরত ছিলেন। চাকরির সুবাদে তিনি কুমিল্লা নগরের রাজগঞ্জ পানপট্টি এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন। ১১ এপ্রিল প্রশিক্ষণের জন্য চট্টগ্রামে যান। প্রশিক্ষণ শেষে শুক্রবার রাতে কুমিল্লার বাসায় ফিরছিলেন। কাছাকাছি পৌঁছে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে শেষবার কথা বলেন। এরপর হঠাৎ তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। শনিবার সকাল ৮টার দিকে মহাসড়কের পাশে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরিবারের সদস্যরা পরে হাইওয়ে থানায় গিয়ে মরদেহ শনাক্ত করেন। তার মুখমণ্ডলে জখমের দাগ চিহ্ন ছিল বলে জানায় পুলিশ।

আরটিভি/এমএ

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps

Loading...

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission