কালবৈশাখী ঝড়ের তাণ্ডবে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় টানা প্রায় ৩০ ঘণ্টা ধরে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। বিদ্যুৎ না থাকায় মোবাইল নেটওয়ার্কও অচল হয়ে পড়েছে, ফলে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ।
এছাড়াও মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) কসবা উপজেলার তিন লাখ পীর এলাকায় একটি মোবাইল ফোনের টাওয়ার দুমড়ে-মুচড়ে ভেঙে পড়ে। এ ঘটনায় ওই এলাকায় মোবাইল ফোন ও ইন্টারনেট সেবা ব্যাহত হচ্ছে।
জানা গেছে, মঙ্গলবার ভোরে হঠাৎ কালবৈশাখী ঝড় শুরু হলে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে বিদ্যুতের খুঁটি উপড়ে পড়ে এবং একাধিক স্থানে তার ছিঁড়ে যায়। এতে তাৎক্ষণিকভাবে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। ঝড় থেমে গেলেও বুধবার সকাল পর্যন্ত অনেক এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হয়নি। বিদ্যুৎ না থাকায় মোবাইল টাওয়ারগুলোতে ব্যাটারি ব্যাকআপ শেষ হয়ে নেটওয়ার্ক বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। ফলে ফোনে কল করা বা ইন্টারনেট ব্যবহার করা সম্ভব হচ্ছে না।
আব্দুল্লাহপুর এলাকার বাসিন্দা রাকিব মিয়া বলেন, বিদ্যুৎ নেই, মোবাইল নেটওয়ার্কও কাজ করছে না। জরুরি প্রয়োজনে কারও সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছি না। এমন পরিস্থিতিতে আমরা একপ্রকার বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছি। দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় শিক্ষার্থীরাও সমস্যায় পড়েছে। পরীক্ষা ও অনলাইনভিত্তিক পড়াশোনায় ব্যাঘাত ঘটছে। জান্নাত নামের এক শিক্ষার্থী জানায়, রাতে পড়াশোনা করতে পারিনি। মোবাইল চার্জ নেই, ইন্টারনেটও নেই খুব সমস্যায় আছি।
এদিকে বুধবার সকাল থেকেই গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি হচ্ছে। ফলে দিনমজুররা কাজে বের হতে পারছেন না।
শ্রমিক রহিম উদ্দিন বলেন, ঝড়ের পর থেকে বিদ্যুৎ নেই। আজ আবার বৃষ্টি। কাজে যেতে না পারলে পরিবার নিয়ে কষ্টে থাকতে হয়।
সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন কৃষকরা। উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় পাকা ধান নুয়ে পড়ে পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মাসুদ আলম জানান, ঝড়ে প্রায় ১০০ হেক্টর ধানক্ষেত এবং ১০ হেক্টর অন্যান্য ফসলি জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মাঠপর্যায়ে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণে কাজ চলছে।
মনিয়ন্দ এলাকার কৃষক আবদুল কুদ্দুস বলেন, ধান কাটার উপযুক্ত সময় ছিল। ঝড়ে ধান মাটিতে লুটিয়ে পড়েছে, অনেক জমিতে পানি জমে গেছে। বড় ক্ষতির মুখে পড়েছি।
আরেক কৃষক শিবনগর এলাকার জালাল মিয়া বলেন, পাকা ধান পানিতে ডুবে যাচ্ছে। এখন যদি রোদ না ওঠে, তাহলে পুরো ফসল নষ্ট হয়ে যাবে। দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় অনেক এলাকায় পানির সংকটও দেখা দিয়েছে। বিদ্যুৎচালিত পাম্প বন্ধ থাকায় পানি সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে। ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, ইন্টারনেট সেবা ও মোবাইল চার্জিং সমস্যার কারণে দৈনন্দিন কার্যক্রমেও বিঘ্ন ঘটছে।
আখাউড়া পল্লি বিদ্যুৎ সমিতির ডিজিএম জহির আব্বাস খান বলেন, কালবৈশাখী ঝড়ের কারণে বিদ্যুৎ লাইনের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। বেশ কয়েকটি খুঁটি উপড়ে গেছে এবং একাধিক স্থানে তার ছিঁড়ে পড়েছে। আমাদের একাধিক টিম মাঠে কাজ করছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ধাপে ধাপে সব এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করা হবে। গ্রাহকদের সাময়িক ভোগান্তির জন্য আমরা আন্তরিকভাবে দুঃখিত।
আরটিভি/এমএইচজে



