ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩

ভৈরবে কেপিআই এলাকায় কয়লা ব্যবসা, হুমকির মুখে জনজীবন

ভৈরব প্রতিনিধি, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ০১ মে ২০২৬, ১১:০২ এএম
রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা (কেপিআই) : ছবি আরটিভি

কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলার পুরাতন ফেরিঘাট এলাকা থেকে শহীদ হাবিলদার আব্দুল হালিম রেলওয়ে সেতুর নিচ পর্যন্ত হাজার হাজার টন কয়লা রেখে ব্যবসা করা হচ্ছে। একটি প্রভাবশালী মহলের অবৈধ কয়লা বাণিজ্যের থাবায় বিপন্ন হয়ে পড়েছে এলাকার জনজীবন এবং একটি স্কুলের দুই হাজার শিক্ষার্থীর স্বাস্থ্য।

এছাড়া যেকোনো সময় কয়লার স্তুপে আগুন লাগলে এখানকার রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় (কেপিআই) ভয়াবহ ক্ষতি হতে পারে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, বাংলাদেশ রেলওয়ে উচ্চ বিদ্যালয়ের কোল ঘেঁষেই স্তুপ করে রাখা হয়েছে হাজার হাজার টন কয়লা। বাতাসে উড়ছে সূক্ষ্ম কার্বন কণা। কয়লার এসব ধূলি-কণা ও কার্বণের কারণে এলাকার পরিবেশের মারাত্মক অবনতি ঘটেছে। কয়লার ধূলি-কণা বাতাসে মিশে পরিবেশকে করে তুলেছে দূষণীয়। সেই ধূলি-কণা মানুষের নিশ্বাসের সঙ্গে ভেতরে ঢুকে শ্বাসকষ্টসহ নানা রোগে আক্রান্ত করছে। এই ধারা অব্যাহত থাকলে এখানকার মানুষ এক সময় ফুসফুস ক্যান্সারে আক্রান্ত হতে পারেন বলে আশঙ্কা চিকিৎসকের।

এরই মধ্যে শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম সড়ক সেতু রক্ষায় নদীর তীর ঘেঁষে রোপন করা শত শত গাছ কয়লার তেজস্ক্রিয়তায় মরে গেছে। ছায়াবিথী অঞ্চলটি পরিণত হয়েছে খাঁ খাঁ বিরাণ ভূমিতে।

আরও পড়ুন

এদিকে রেলওয়ে জায়গা দখল নিয়ে বার বার অভিযান চললেও, প্রভাবশালী মহলের দাপটে কয়লার বিষয় নিয়ে প্রশাসনের নীরবতা জনমনে প্রশ্ন তুলেছে।

স্থানীয়রা জানায়, ভৈরবের মেঘনা নদীর ওপর নির্মিত দুটি রেলসেতু ও একটি সড়ক সেতুর নিচে স্থানীয় লোকজনসহ আশেপাশের বিভিন্ন জেলা-উপজেলার ভ্রমণ পিপাসু মানুষের আসা-যাওয়ায় এলাকাটি একটি অলিখিত বিনোদন কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। প্রতিদিন এবং বিভিন্ন উৎসব-পার্বণে পরিবার-পরিজন নিয়ে মনোরঞ্জনের জন্য এখানে আসেন লোকজন। কিন্তু, একটি প্রভাবশালী মহল এখানকার পুরো এলাকাটিতে কয়লা রেখে ব্যবসা করছেন। নদীপথে লাইটারেজ জাহাজ ও বাল্কহেডে করে বিভিন্ন দেশ থেকে আমদানি করা কয়লা এনে এখানে স্তূপ করে রাখে। এরপর ট্রাকে করে সড়ক পথে দেশের বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ করে থাকেন ব্যবসায়ীরা।

বাংলাদেশ রেলওয়ে উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মুক্তার হোসেন বলেন, আমাদের দুই সহস্রাধিক শিক্ষার্থী সরাসরি স্বাস্থ্যঝুঁকিতে আছে। প্রায়ই শিক্ষার্থীরা সর্দি-কাশি ও শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত হচ্ছে। এটি কেবল পরিবেশ দূষণ নয়, আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ফুসফুস নিয়ে ছিনিমিনি খেলা।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও প.প. কর্মকর্তা ডা. কিশোর কুমার ধর জানিয়েছেন, এই কয়লার ধূলিকণা মানুষের নিঃশ্বাসের সাথে ফুসফুসে ঢুকে দীর্ঘমেয়াদী শ্বাসকষ্ট এমনকি ক্যান্সারের মতো মরণব্যাধি সৃষ্টি করতে পারে।
একসময়ের মনোরম ছায়াবীথি ও বিনোদন কেন্দ্রটি এখন ‘খাঁ খাঁ’ মরুভূমি। সৈয়দ নজরুল ইসলাম সড়ক সেতু রক্ষায় রোপণ করা শত শত গাছ কয়লার তেজস্ক্রিয়তায় মরে কঙ্কাল হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ এখানে একটু নির্মল বাতাসের খোঁজে এলেও ফিরে যাচ্ছেন কয়লার কালো ধুলো মেখে।

সবচেয়ে ভয়াবহ বিষয় হলো অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি। কয়লা স্তূপের পাশেই রয়েছে পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা তেল কোম্পানির ডিপো এবং তিতাস গ্যাসের নিয়ন্ত্রণ কক্ষ। কয়লা, তেল এবং গ্যাস-তিনটিই চরম দাহ্য। তীব্র রোদে প্রায়ই কয়লার স্তূপে আগুন ধরে ধোঁয়া বের হতে দেখা যায়।

কোনোভাবে এই আগুন তেল বা গ্যাসের লাইনে ছড়িয়ে পড়লে কয়েক মাইল এলাকা ছাই হয়ে যেতে পারে।

এতোসব অভিযোগের মুখে ভৈরব কয়লা ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি ওবায়দুল হক বাবুল জায়গা না পাওয়ার অজুহাত দিলেও, জনস্বাস্থ্যের চেয়ে ব্যবসাই সেখানে প্রাধান্য পাচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

তবে তিনি বলেন, কয়লা রাখার জন্য বিকল্প স্থান পেলে আড়তটি অন্য জায়গায় স্থানান্তরিত করে নিবেন কিন্তু কত সময়ের মধ্যে নিতে পারবেন এর কোনো সদোত্তর দিতে পারেননি তিনি।

তবে, এ বিষয়ে ভৈরব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কে.এম মামুনুর রশীদ জানান, বিষয়টি সম্পর্কে তিনি শুনেছেন। খোঁজ-খবর নিয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন বলে জানান তিনি।

আরটিভি/এমএম

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
মন্ত্রীর প্রটোকলের ফাঁকে এসিল্যান্ডের সেলফি, ছবি ভাইরাল
সরকারি দায়িত্ব পালনের ব্যস্ততার ফাঁকে প্রকৃতির সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে নিজের কিছু মুহূর্ত ক্যামেরাবন্দি করেছেন হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মৈত্রী রায়। চুনারুঘাটের চণ্ডীছড়া চা-বাগানে তোলা তার কয়েকটি সেলফি ও ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়েছে। গত বুধবার (৪ নভেম্বর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে ছবিগুলো পোস্ট করে ক্যাপশনে তিনি লেখেন, ‘প্রটোকলের ফাঁকে সেল্ফ প্রটোকল, চণ্ডীছড়া চা-বাগান, চুনারুঘাট।’ ছবিগুলোর সঙ্গে হাবিব ওয়াহিদের একটি রোমান্টিক গানও যুক্ত করেন তিনি। জানা যায়, সম্প্রতি প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজের সফর উপলক্ষে সরকারি দায়িত্ব ও প্রটোকল পালনের সময় মাধবপুর ও চুনারুঘাটের চণ্ডীছড়া চা-বাগানে এসব ছবি তোলেন তিনি। মৈত্রী রায় ইতোমধ্যে বাল্যবিবাহ বন্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা, জরিমানা আদায়সহ বিভিন্ন প্রশাসনিক পদক্ষেপের মাধ্যমে এলাকায় আলোচনায় এসেছেন। দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড ও সৃজনশীল চর্চার প্রতিও তার আগ্রহ রয়েছে বলে বিভিন্ন সময়ের বক্তব্যে উঠে এসেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার পোস্টে মন্তব্য করে স্থানীয় সাংবাদিক এমএ কাদের লেখেন, প্রটোকলের ব্যস্ততার মাঝেও প্রকৃতির সঙ্গে এমন কিছু মুহূর্ত নিজেকে নতুন করে আবিষ্কারের সুযোগ করে দেয়। চণ্ডীছড়া চা-বাগানের অপরূপ সৌন্দর্যের সঙ্গে আপনার এই স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি ছবিগুলোকে আরও প্রাণবন্ত করেছে। দায়িত্বের বাইরে এমন সুন্দর মুহূর্তগুলোই একজন মানুষের ব্যক্তিত্বের অন্যরকম দিক তুলে ধরে। এ বিষয়ে এসিল্যান্ড মৈত্রী রায় বলেন, এক্সট্রা কারিকুলার অ্যাক্টিভিটিস মানুষের মেধা ও সৃজনশীলতার বিকাশ ঘটায়। প্রতিটি কাজই সুন্দরভাবে করার চেষ্টা করি। আরটিভি/টিআর
মন্ত্রীর প্রটোকলের ফাঁকে এসিল্যান্ডের সেলফি, ছবি ভাইরাল
ব্যবস্থাপত্রে অ্যালোপ্যাথিক ওষুধ লিখে আসছিলেন ইউনানি চিকিৎসক
ইউনানী চিকিৎসক দিয়ে অ্যালোপ্যাথিক চিকিৎসা দেওয়ায় একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারকে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এদিকে, বৈধ কাগজপত্র না থাকায় অন্যটি ডায়াগনস্টিক সেন্টার সিলগালা করে দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। বৃহস্পতিবার (৪ নভেম্বর) বিকেলে যশোর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের সামনে স্বাস্থ্য বিভাগ ও জেলা প্রশাসন এ অভিযান চালায়।  অভিযানে নেতৃত্ব দেন সিভিল সার্জন ডা. মাসুদ রানা ও জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মীম বিনতে মুস্তাফিজ। এ সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সাথে ছিলেন। স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্র জানায়, বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে প্রিন্স ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ভ্রাম্যমাণ আদালত দেখতে পান যে মতিয়ার রহমান নামে এক ব্যক্তি রোগী দেখছেন। তিনি এমবিবিএস চিকিৎসক নন, ইউনানী চিকিৎসক। অথচ দীর্ঘদিন ধরে তিনি ব্যবস্থাপত্রে অ্যালোপ্যাথিক ওষুধ লিখে আসছিলেন। অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় প্রতিষ্ঠানের পরিচালক সেলিম হোসেনকে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। একই এলাকার ইসলামী ডায়াগনস্টিক সেন্টারে কোনো বৈধ কাগজপত্র পাওয়া যায়নি। সেখানে হাবিবুর রহমান নামে একজন ডিএমএফ চিকিৎসক রোগী দেখছিলেন। অনিয়ম ও বৈধ কাগজপত্র না থাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালত তাৎক্ষণিকভাবে প্রতিষ্ঠানটি সিলগালা করে দেয়। সিভিল সার্জন ডা. মাসুদ রানা বাসসকে বলেন, স্বাস্থ্য বিভাগে কোনো অনিয়ম বা অবৈধ কার্যক্রম চলতে দেওয়া হবে না। তিনি জানান, অপচিকিৎসা রোধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। আরটিভি/টিআর
ব্যবস্থাপত্রে অ্যালোপ্যাথিক ওষুধ লিখে আসছিলেন ইউনানি চিকিৎসক
স্কুলে ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগান, ৯ শিক্ষার্থীকে টিসি
গোপালগঞ্জে শ্রেণিকক্ষে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেওয়ার অভিযোগে সরকারি জেলা স্কুলের ৯ শিক্ষার্থীকে ছাড়পত্র (টিসি) দিয়েছে স্কুল কর্তৃপক্ষ। বুধবার (৪ নভেম্বর) দুপুরে প্রধান শিক্ষক স্বাক্ষরিত এক আদেশে ওই ৯ শিক্ষার্থীকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়। গত ৬ অক্টোবর দুপুরে স্কুলে টিফিনের পর ক্লাসরুমের সামনের বারান্দায় স্লোগান দেয় স্কুলটির অষ্টম, নবম ও দশম শ্রেণীর কয়েকজন শিক্ষার্থী। সেখানে ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’, ‘শেখ হাসিনা আসবে বাংলাদেশ হাঁসবে’ বলে শ্লোগান দেয়। পরে সেই ভিডিও মোবাইলে ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়।  পরে, ৭ অক্টোবর স্কুলের সহকারী শিক্ষক মো. ইকবাল হোসেনকে প্রধান করে ৭ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। স্কুলের সিসিটিভি ফুটেজ ও ভিডিও পর্যালোচনা করে ৪ নভেম্বর তদন্ত প্রতিবেদন প্রধান শিক্ষকের কাছে হস্তান্তর করা হয়। তারপর ৯ শিক্ষার্থীকে ছাড়পত্র দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ । এ বিষয়ে তদন্ত কমিটির প্রধান সহকারী শিক্ষক ইকবাল হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, স্কুলে রাজনৈতিক স্লোগান দেওয়া হয়। পরে ভিডিও ফুটেজ পর্যালোচনা করে তদন্ত প্রতিবেদন ৪ নভেম্বর প্রধান শিক্ষকের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে স্কুল কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাদেরকে স্কুল থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে। প্রধান শিক্ষক মো. জিয়াউল হক বলেন, গত ৬ অক্টোবর স্কুলের মধ্যে নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দলের পক্ষে স্লোগান দেয় কিছু শিক্ষার্থী। এ সময় আমি নামাজে ছিলাম। পরে নামাজ থেকে আসার পরে গোয়েন্দা সংস্থা থেকে আমাকে ফোন করে মিছিলের বিষয়ে জানতে চায়। পরে আমি অন্যান্য শিক্ষকদের কাছে শুনে বিষয়টি নিশ্চিত হই  স্কুলে এই ধরনের মিছিল বা স্লোগান দেওয়া হয়েছে। তাই ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশক্রমে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনার পক্ষে-বিপক্ষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইতোমধ্যে আলোচনা ও সমালোচনা হচ্ছে। এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে ফেসবুকে মন্তব্য করেছেন অনেকে।  আরটিভি/টিআর
স্কুলে ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগান, ৯ শিক্ষার্থীকে টিসি
বউ ও শাশুড়ির ধাওয়ায় ভোঁ দৌড়ে উধাও সেই মাসুদ
আরটিভি অনলাইনে ‘পরকীয়া প্রেমিকার মেসেজ পেয়ে সন্দেশ নিয়ে বাঁশঝাড়ে হাজির মাসুদ, অতঃপর...’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশের পর বিষয়টি ছড়িয়ে পড়ে চারদিকে। সংবাদটি মাসুদের স্ত্রী, শাশুড়িসহ অন্যান্য স্বজনের নজরে আসে। এরপর থেকে মাসুদকে খুঁজতে থাকেন তার স্ত্রী, শাশুড়ি ও স্বজনেরা। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) বিকেলে ডোমার বাজারে স্ত্রী ও শাশুড়ির সামনে আচমকাই পড়ে যান মাসুদ রানা। এ সময় তাদের ধাওয়ায় ভোঁ দৌড়ে পালিয়ে যান তিনি। একপর্যায়ে মাসুদকে খুঁজতে থাকেন তার স্ত্রী, শাশুড়ি ও দুই মেয়ে। তাকে না পেয়ে মাসুদের উদ্দেশে গালাগাল করেন তারা। পাশাপাশি জনসম্মুখে তার আগের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের বর্ণনা দিতে থাকেন। মাসুদের স্ত্রী ও শাশুড়ি জানান, মাসুদের আগে থেকেই চারিত্রিক সমস্যা রয়েছে। তিনি প্রায়ই গোপনে বিভিন্ন মেয়ের সঙ্গে কথা বলতেন। বিষয়টি তার স্ত্রী জানতে পারলে তাদের মধ্যে এ নিয়ে ঝগড়া হতো। মাসুদ এর আগেও তার চাচা শ্বশুরের মেয়ের সঙ্গে গোপনে যোগাযোগ করতেন। এ নিয়ে শ্বশুরবাড়িতেও তার সঙ্গে মনোমালিন্য হয়। তারা আরও অভিযোগ করেন, মাসুদ যাঁদের সঙ্গে রাজনীতি করেন, তারাই এসব কর্মকাণ্ডে তাকে প্রশ্রয় দেন। গত বুধবার রাতের ঘটনার পর থেকে তিনি শ্বশুরবাড়ি ও নিজের বাড়িতে না গিয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। আত্মীয়স্বজনের মধ্যে সুন্দরী কোনো নারী দেখলেই তাদের পেছনে ঘুরে বেড়ান বলে অভিযোগ করেন মাসুদের স্ত্রী। মাসুদের শাশুড়ি বলেন, পালিয়ে তিনি কোথায় থাকবেন? পুলিশের কাছে গিয়ে অভিযোগ করলেই তাকে ধরে নিয়ে আসা হবে। এসব কথা বলে মাসুদের স্ত্রী, শাশুড়ি ও দুই মেয়ে থানার দিকে চলে যান। এর আগে, গত বুধবার মধ্যরাতে মাসুদ রানা ডোমার উপজেলার বোড়াগাড়ী ইউনিয়নের ঘাটপাড়া এলাকার এক পুত্রবধূর সঙ্গে ছয় মাসের কথিত পরকীয়া সম্পর্কের সূত্র ধরে রাতে সন্দেশ নিয়ে বাঁশবাগানে দেখা করতে যান। এ সময় ওই নারীর স্বামীর পাতা ফাঁদে আটকা পড়েন মাসুদ। পরে তাকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়। তবে ওই নারীর পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ না থাকায় তাকে পুলিশ হেফাজত থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়। ঘটনার বিষয়ে মাসুদ রানা বলেন, গতকালের ঘটনায় আমি শুধু মেয়েটির সঙ্গে মেসেজে চ্যাটিং করেছি। এ ছাড়া তার সঙ্গে আমার অন্য কোনো সম্পর্ক নেই। রাতে বাড়ি যাইনি। গতকাল থেকে বাইরে থাকা-খাওয়া করছি। আটকের পর অনেকেই ভেবেছেন, আমি পুলিশের হাতে আটক হয়ে জেলে রয়েছি। তাই আজ এলাকার বিভিন্ন জায়গায় ঘুরছিলাম। ডোমার থানার উপপরিদর্শক (এসআই) গোপাল চন্দ্র বলেন, গত রাতে এলাকাবাসী মাসুদকে আটক করে পুলিশে খবর দেন। পরে পুলিশ গিয়ে তাকে হেফাজতে নেয়। তবে ওই নারীর পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ না থাকায় মুচলেকা নিয়ে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। এখন পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে কেউ অভিযোগ করেননি। অভিযোগ পেলে পরবর্তী সময়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আরটিভি/টিআর
বউ ও শাশুড়ির ধাওয়ায় ভোঁ দৌড়ে উধাও সেই মাসুদ
সাবেক শিবিরনেতাকে চাকরি দিলেন প্রতিমন্ত্রী শাহে আলম
রাজনৈতিক সহিংসতায় গুরুতর আহত হয়ে দীর্ঘ ১৩ বছর ধরে জীবনসংগ্রাম চালিয়ে আসা ছাত্রশিবিরের সাবেক নেতা সাব্বির প্রামাণিকের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।  জামায়াতে ইসলামীর নেতাদের কাছে বারবার সহায়তা চেয়েও সাড়া না পাওয়ার অভিযোগ গণমাধ্যমে প্রকাশের পর এ উদ্যোগ নেন তিনি। বগুড়ার বাসিন্দা সাব্বিরকে একটি প্রতিষ্ঠানে ম্যানেজার পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে তিনি পুষ্টি চালের মিল, সিমেন্টের ইট তৈরির কারখানা ও মাছের খামারের তদারকি এবং হিসাব ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব পালন করছেন। সম্মানজনক বেতনে চাকরি পেয়ে তার পরিবারে স্বস্তি ফিরেছে। সাব্বির জানান, চাকরির জন্য তিনি একাধিকবার জামায়াত নেতাদের দ্বারস্থ হলেও আশ্বাস ছাড়া কোনো সহায়তা পাননি। পরে তার দুর্দশার খবর জানতে পেরে প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করেন। ২০১৩ সালের ৩১ জানুয়ারি বগুড়ার সরকারি আজিজুল হক কলেজ এলাকায় রাজনৈতিক সহিংসতায় হামলার শিকার হন সাব্বির। ওই ঘটনায় শিবিরনেতা আবু রুহানী নিহত হন। সাব্বিরের দাবি, গুরুতর আহত অবস্থায় তার শরীরে একাধিক অস্ত্রোপচার করতে হয় এবং ৬৪টি সেলাই দেওয়া হয়। দীর্ঘ চিকিৎসার পর বেঁচে ফিরলেও শারীরিক জটিলতায় স্বাভাবিক কর্মজীবনে ফিরতে পারেননি তিনি। জীবিকার প্রয়োজনে অটোরিকশা চালানোর চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। একপর্যায়ে জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমানের উদ্দেশে খোলা চিঠি লিখে চিকিৎসা ও কর্মসংস্থানে সহায়তা না পাওয়ার অভিযোগ করেন সাব্বির। অবশেষে নতুন চাকরি পাওয়ায় সাব্বির ও তার পরিবার স্বস্তি প্রকাশ করেছেন। তাদের প্রত্যাশা, এই কর্মসংস্থানের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের আর্থিক সংকট কাটিয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবেন তিনি। আরটিভি/এসআর  
সাবেক শিবিরনেতাকে চাকরি দিলেন প্রতিমন্ত্রী শাহে আলম
আরও পড়ুন
দুর্বৃত্তের ছুরিকাঘাতে আহত জামায়াত নেতা আখতারুজ্জামানের ছেলে
প্রবীণ সাংবাদিক সুবীর বসাক মারা গেছেন
প্রতি মঙ্গলবার বিনামূল্যে সিজারিয়ান অপারেশন হয় এই হাসপাতালে 
‘বাবা এসেছে’ ভেবে দরজা খুলে বড় বিপদে ১০ বছরের শিশু!