ভৈরবে কেপিআই এলাকায় কয়লা ব্যবসা, হুমকির মুখে জনজীবন

ভৈরব প্রতিনিধি, আরটিভি নিউজ

শুক্রবার, ০১ মে ২০২৬ , ১১:০২ এএম


ভৈরবে কেপিআই এলাকায় কয়লা ব্যবসা, হুমকির মুখে জনজীবন
রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা (কেপিআই) : ছবি আরটিভি

কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলার পুরাতন ফেরিঘাট এলাকা থেকে শহীদ হাবিলদার আব্দুল হালিম রেলওয়ে সেতুর নিচ পর্যন্ত হাজার হাজার টন কয়লা রেখে ব্যবসা করা হচ্ছে। একটি প্রভাবশালী মহলের অবৈধ কয়লা বাণিজ্যের থাবায় বিপন্ন হয়ে পড়েছে এলাকার জনজীবন এবং একটি স্কুলের দুই হাজার শিক্ষার্থীর স্বাস্থ্য। 

এছাড়া যেকোনো সময় কয়লার স্তুপে আগুন লাগলে এখানকার রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় (কেপিআই) ভয়াবহ ক্ষতি হতে পারে। 

সরেজমিনে দেখা গেছে, বাংলাদেশ রেলওয়ে উচ্চ বিদ্যালয়ের কোল ঘেঁষেই স্তুপ করে রাখা হয়েছে হাজার হাজার টন কয়লা। বাতাসে উড়ছে সূক্ষ্ম কার্বন কণা। কয়লার এসব ধূলি-কণা ও কার্বণের কারণে এলাকার পরিবেশের মারাত্মক অবনতি ঘটেছে। কয়লার ধূলি-কণা বাতাসে মিশে পরিবেশকে করে তুলেছে দূষণীয়। সেই ধূলি-কণা মানুষের নিশ্বাসের সঙ্গে ভেতরে ঢুকে শ্বাসকষ্টসহ নানা রোগে আক্রান্ত করছে। এই ধারা অব্যাহত থাকলে এখানকার মানুষ এক সময় ফুসফুস ক্যান্সারে আক্রান্ত হতে পারেন বলে আশঙ্কা চিকিৎসকের। 

এরই মধ্যে শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম সড়ক সেতু রক্ষায় নদীর তীর ঘেঁষে রোপন করা শত শত গাছ কয়লার তেজস্ক্রিয়তায় মরে গেছে। ছায়াবিথী অঞ্চলটি পরিণত হয়েছে খাঁ খাঁ বিরাণ ভূমিতে। 

আরও পড়ুন

এদিকে রেলওয়ে জায়গা দখল নিয়ে বার বার অভিযান চললেও, প্রভাবশালী মহলের দাপটে কয়লার বিষয় নিয়ে প্রশাসনের নীরবতা জনমনে প্রশ্ন তুলেছে।

স্থানীয়রা জানায়, ভৈরবের মেঘনা নদীর ওপর নির্মিত দুটি রেলসেতু ও একটি সড়ক সেতুর নিচে স্থানীয় লোকজনসহ আশেপাশের বিভিন্ন জেলা-উপজেলার ভ্রমণ পিপাসু মানুষের আসা-যাওয়ায় এলাকাটি একটি অলিখিত বিনোদন কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। প্রতিদিন এবং বিভিন্ন উৎসব-পার্বণে পরিবার-পরিজন নিয়ে মনোরঞ্জনের জন্য এখানে আসেন লোকজন। কিন্তু, একটি প্রভাবশালী মহল এখানকার পুরো এলাকাটিতে কয়লা রেখে ব্যবসা করছেন। নদীপথে লাইটারেজ জাহাজ ও বাল্কহেডে করে বিভিন্ন দেশ থেকে আমদানি করা কয়লা এনে এখানে স্তূপ করে রাখে। এরপর ট্রাকে করে সড়ক পথে দেশের বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ করে থাকেন ব্যবসায়ীরা।

বাংলাদেশ রেলওয়ে উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মুক্তার হোসেন বলেন, আমাদের দুই সহস্রাধিক শিক্ষার্থী সরাসরি স্বাস্থ্যঝুঁকিতে আছে। প্রায়ই শিক্ষার্থীরা সর্দি-কাশি ও শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত হচ্ছে। এটি কেবল পরিবেশ দূষণ নয়, আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ফুসফুস নিয়ে ছিনিমিনি খেলা।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও প.প. কর্মকর্তা ডা. কিশোর কুমার ধর জানিয়েছেন, এই কয়লার ধূলিকণা মানুষের নিঃশ্বাসের সাথে ফুসফুসে ঢুকে দীর্ঘমেয়াদী শ্বাসকষ্ট এমনকি ক্যান্সারের মতো মরণব্যাধি সৃষ্টি করতে পারে।
একসময়ের মনোরম ছায়াবীথি ও বিনোদন কেন্দ্রটি এখন ‘খাঁ খাঁ’ মরুভূমি। সৈয়দ নজরুল ইসলাম সড়ক সেতু রক্ষায় রোপণ করা শত শত গাছ কয়লার তেজস্ক্রিয়তায় মরে কঙ্কাল হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ এখানে একটু নির্মল বাতাসের খোঁজে এলেও ফিরে যাচ্ছেন কয়লার কালো ধুলো মেখে।

সবচেয়ে ভয়াবহ বিষয় হলো অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি। কয়লা স্তূপের পাশেই রয়েছে পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা তেল কোম্পানির ডিপো এবং তিতাস গ্যাসের নিয়ন্ত্রণ কক্ষ। কয়লা, তেল এবং গ্যাস-তিনটিই চরম দাহ্য। তীব্র রোদে প্রায়ই কয়লার স্তূপে আগুন ধরে ধোঁয়া বের হতে দেখা যায়।

কোনোভাবে এই আগুন তেল বা গ্যাসের লাইনে ছড়িয়ে পড়লে কয়েক মাইল এলাকা ছাই হয়ে যেতে পারে।

এতোসব অভিযোগের মুখে ভৈরব কয়লা ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি ওবায়দুল হক বাবুল জায়গা না পাওয়ার অজুহাত দিলেও, জনস্বাস্থ্যের চেয়ে ব্যবসাই সেখানে প্রাধান্য পাচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

তবে তিনি বলেন, কয়লা রাখার জন্য বিকল্প স্থান পেলে আড়তটি অন্য জায়গায় স্থানান্তরিত করে নিবেন কিন্তু কত সময়ের মধ্যে নিতে পারবেন এর কোনো সদোত্তর দিতে পারেননি তিনি।

তবে, এ বিষয়ে ভৈরব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কে.এম মামুনুর রশীদ জানান, বিষয়টি সম্পর্কে তিনি শুনেছেন। খোঁজ-খবর নিয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন বলে জানান তিনি।

আরটিভি/এমএম

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps

Loading...

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission