ঢাকা শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ৩১ আশ্বিন ১৪৩৩

প্রবেশপত্র দিচ্ছে না স্কুল কর্তৃপক্ষ, নিতে গিয়ে মারধরের শিকার এসএসসি পরীক্ষার্থী

ধামরাই (ঢাকা) প্রতিনিধি, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ০২ মে ২০২৬, ০৬:২৭ পিএম
এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ থেকে বঞ্চিত পরীক্ষার্থী। ছবি: আরটিভি

ঢাকার ধামরাইয়ে এক বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে এসএসসি পরীক্ষার প্রবেশপত্র আটকে রাখার অভিযোগ উঠেছে। এতে বাংলা ও ইংরেজিসহ তিনটি বিষয়ে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন এক পরীক্ষার্থী।

এমন ঘটনা ঘটেছে ধামরাই উপজেলার কুল্লা ইউনিয়নের কৈলাস চন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয়ের এসএসসি পরীক্ষার্থী মো. রায়হান হোসেনের সঙ্গে। এ ঘটনায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে একটি অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর মা নাজমা বেগম।

অভিযোগসূত্রে জানা গেছে, বিদ্যালয়ের সব পাওনাদি পরিশোধ করা সত্ত্বেও রহস্যজনক কোনো কারণে ভুক্তভোগী ওই ছাত্রের প্রবেশপত্র আটকে রাখে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। উপজেলার কুল্লা ইউনিয়নের মামুরা গ্রামের গোলাম হোসেন ও নাজমা বেগমের সন্তান মো. রায়হান। তিনি কৈলাস চন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়েন। কৃষক গোলাম হোসেন বহু কষ্টে ফরম ফিলাপের টাকা জমা দিয়েছিলেন। কিন্তু এসএসসি পরীক্ষার প্রবেশপত্র হাতে না পাওয়ায় সহপাঠীদের সঙ্গে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করার কথা থাকলেও রায়হান নির্ধারিত সময়ে পরীক্ষাকক্ষে বসতে পারেননি।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী রায়হান জানান, পরীক্ষা শুরুর আগে যখন সব বন্ধুরা প্রবেশপত্র নিচ্ছিল, তখন সেও স্কুলে যায়। কিন্তু সেখান থেকে তাকে জানানো হয়, তার প্রবেশপত্র আসেনি। দুটি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার পর তার এক বন্ধু জানায়, তার আসনটি প্রতিদিন ফাঁকা থাকে। তখন প্রশ্ন ওঠে—তাহলে তাকে কেন প্রবেশপত্র দেওয়া হলো না? পরে সে বিদ্যালয়ে গিয়ে জানতে পারে, তার প্রবেশপত্র বিদ্যালয়ে থাকলেও তাকে দেওয়া হয়নি। এর মধ্যেই তিনটি পরীক্ষা থেকে বঞ্চিত হয় এই পরীক্ষার্থী।

রায়হানের বন্ধু পারভেজ জানান, প্রথম পরীক্ষা দিতে গিয়ে সে দেখে তার সামনের আসনটি ফাঁকা। তখন তার সন্দেহ হলেও নিজের পরীক্ষার চাপে সেদিন খোঁজ নিতে পারেনি। পরবর্তী পরীক্ষায় সে খোঁজ নিয়ে জানতে পারে, ওই আসনটি রায়হানের। পরে সে বিষয়টি রায়হানকে জানায়।

রায়হানের মা নাজমা বেগম জানান, শুধু প্রবেশপত্র আটকে রাখাই নয়, পরে যখন প্রবেশপত্র নিয়ে চতুর্থ পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে যাবে, ঠিক সেদিন সকালে স্কুলের অফিস সহকারী আমজাদ রায়হানকে তার বাসায় ডেকে নেয়। রায়হান ও তার বন্ধু সেখানে গেলে তার কাছ থেকে জোরপূর্বক প্রবেশপত্র নিতে চায় ওই অফিস সহকারী। একপর্যায়ে রায়হানকে মারধর করে এবং তাকে আটকে রাখতে চায় বলেও অভিযোগ করেন তিনি। পরে, তিনি সেখান থেকে পালিয়ে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন।

রায়হানের বাবা বলেন, আমি গরিব মানুষ। আমার ছেলে যাতে সব পরীক্ষা দিতে পারে, সেই সুযোগ দেওয়া হোক।

স্কুলের বিভিন্ন শ্রেণির শিক্ষার্থীরা জানায়, ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের পর প্রধান শিক্ষক ফরহাদ হোসেন দুর্নীতির কারণে তার পদ হারান। তার গাফিলতির কারণেই এই ছাত্রের দুরবস্থা হয়েছে বলে তারা মনে করেন।

এ বিষয়ে প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে কথা বলতে গেলে দেখা যায়, তার কক্ষে তালা ঝুলছে। একাধিকবার ফোন দেওয়ার পর সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে ব্যস্ত আছেন বলে ফোন কেটে দেন।

একই চিত্র দেখা যায় অফিস সহকারী আলী আমজাদের ক্ষেত্রেও। তিনি অফিসে নেই, তার ফোনও বন্ধ। কেন তিনি আসেননি, তা কেউ বলতে পারেননি।

বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক রনজিৎ চন্দ্র সরকার বলেন, রায়হানের সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনা কোনোভাবেই কাম্য নয়। বিদ্যালয়ের নথিপত্র ও গুরুত্বপূর্ণ কাজ প্রধান শিক্ষক ও অফিস সহকারী পরিচালনা করেন, আর অন্যান্য শিক্ষকরা পাঠদানের দায়িত্ব পালন করেন।

ধামরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আল মামুন জানান, ছাত্রের মায়ের অভিযোগ পেয়েছেন। অভিযুক্ত শিক্ষককে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

আরটিভি/টিআর

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
মেয়ের লাঠির আঘাতে আহত পিতা, বিষাক্ত পদার্থ সেবনে মৃত্যু
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় পারিবারিক কলহের জেরে মেয়ের লাঠির আঘাতে আহত হওয়ার পর বিষাক্ত পদার্থ সেবনে গাজী খোরশেদ আলম (৫৫) নামে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। 
মেয়ের লাঠির আঘাতে আহত পিতা, বিষাক্ত পদার্থ সেবনে মৃত্যু
মাদকের ভয়াবহ ছোবল থেকে বাঁচতে চায় শিবগঞ্জের মানুষ
দীর্ঘদিনের জেঁকে বসা মাদকের আগ্রাসন যেন থামছেই না । অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার পদ্মা নদীর চরাঞ্চলের সাধারণ মানুষের জীবন ।
মাদকের ভয়াবহ ছোবল থেকে বাঁচতে চায় শিবগঞ্জের মানুষ
১১ বছরের শিশু ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ, ষাটোর্ধ্ব বৃদ্ধ গ্রেপ্তার
পাবনার ঈশ্বরদীতে ১১ বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে প্রতিবেশী ষাটোর্ধ্ব এক বৃদ্ধের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত আবু বক্কার (৬৫) নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) রাতে উপজেলার মুলাডুলি ইউনিয়নের বহরপুর আশ্রয়ণ প্রকল্প এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার (১৪ অক্টোবর) সকালে ওই শিশুকে বাড়িতে একা পেয়ে তার ঘরে ঢুকে বক্কার তাকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন। এ সময় শিশুটি চিৎকার করলে এক প্রতিবেশী ঘটনাস্থলে আসেন। তখন শিশুটিকে রেখে ঘর থেকে বেরিয়ে যান বক্কার। পরে রাতে বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয় লোকজন অভিযুক্ত বক্কারকে ধরে একটি ঘরে আটকে রাখেন। এ ঘটনার পর অভিযুক্ত ও ভুক্তভোগী পরিবারের সঙ্গে কথা বলে স্থানীয় কয়েকজন বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করেন। ওই দিন মধ্যরাত পর্যন্ত নানা নাটকীয়তা চললেও সমাধান না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত বিষয়টি মামলা পর্যন্ত গড়ায়। পরদিন শিশুটির পরিবার থানায় মামলা দায়ের করলে পুলিশ অভিযুক্ত বক্কারকে গ্রেপ্তার করে। আশ্রয়ণ প্রকল্পের একাধিক বাসিন্দা বলেন, আবু বক্কারের আচরণ ভালো নয়। তাদের অভিযোগ, তিনি এর আগেও একাধিক নারীর সঙ্গে অশালীন আচরণ করেছেন এবং নারী ও শিশুর শ্লীলতাহানির চেষ্টা করেছেন। এ ছাড়া, এর আগেও বক্কার ওই এলাকার ভুক্তভোগী শিশুসহ অন্য শিশুদের শরীরে আপত্তিকরভাবে স্পর্শ করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশাদুর রহমান জানান, ভুক্তভোগী শিশুটির মা থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন। এ ঘটনায় ধর্ষণচেষ্টার মামলা হয়েছে। অভিযুক্ত ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আরটিভি/টিআর
১১ বছরের শিশু ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ, ষাটোর্ধ্ব বৃদ্ধ গ্রেপ্তার
নারায়ণগঞ্জে গ্যাস লিকেজ থেকে বিস্ফোরণ: দগ্ধ চারজনেরই মৃত্যু
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে গ্যাস লিকেজ থেকে সংঘটিত বিস্ফোরণের ঘটনায় শেষ পর্যন্ত কাউকেই বাঁচানো সম্ভব হয়নি। চার দিন ধরে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে অবশেষে একে একে মারা গেছেন দগ্ধ চারজনই। স্বজনদের কাঁদিয়ে তাঁরা সবাই পাড়ি জমিয়েছেন না ফেরার দেশে। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) ভোরের দিকে রাজধানীর জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় প্রথমে মারা যান স্বামী শরীফ ও স্ত্রী রোজিনা। একই দিন সকালে মৃত্যু হয় রোজিনার ভাই রিয়াজের। সবশেষে শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) সকালে হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন দুর্ঘটনাকবলিত বাড়িটির কেয়ারটেকার রনি। জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আবাসিক সার্জন চিকিৎসক সুলতান মাহমুদ শিকদার চারজনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। চিকিৎসকেরা জানান, অগ্নিকাণ্ডে চারজনের শরীরই মারাত্মকভাবে দগ্ধ হয়েছিল। বিস্ফোরণে রনির শরীরের সর্বোচ্চ ৭০ শতাংশ এবং রোজিনার শরীরের ৬০ শতাংশ পুড়ে গিয়েছিল। এ ছাড়া শরীফ ও রিয়াজের প্রত্যেকের শরীরের ৪০ শতাংশ করে দগ্ধ হয়েছিল। হাসপাতালে ভর্তির পর থেকেই তাঁদের অবস্থা আশঙ্কাজনক ছিল। উল্লেখ্য, শনিবার (১০ অক্টোবর) দিবাগত রাত আনুমানিক দেড়টার দিকে সোনারগাঁয়ের কাঁচপুরের সোনাপুর এলাকায় একটি আবাসিক ভবনে জমে থাকা গ্যাস থেকে এ মর্মান্তিক বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে দুটি পরিবারের চার সদস্য গুরুতর দগ্ধ হন। এ ঘটনায় এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। আরটিভি/টিআর
নারায়ণগঞ্জে গ্যাস লিকেজ থেকে বিস্ফোরণ: দগ্ধ চারজনেরই মৃত্যু
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পুকুরে ডুবে মাদরাসাছাত্রের মৃত্যু 
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলায় পুকুরে গোসল করতে নেমে মোস্তাকিম (১২) নামে এক মাদরাসাছাত্রের মৃত্যু হয়েছে। 
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পুকুরে ডুবে মাদরাসাছাত্রের মৃত্যু 
আরও পড়ুন
ঢাকায় বাসার বাথরুমে পড়ে ছিল মরদেহ, যা বলছে পুলিশ 
ছুটির দিনেও ঢাকার বাতাস ‌‘অস্বাস্থ্যকর’
ঢাকা-কক্সবাজার রুটে যুক্ত হচ্ছে মহানগর এক্সপ্রেস, টিকিট বিক্রি শুরু আজ
দূষিত শহরের তালিকায় ঢাকার নাম দেশের জন্য লজ্জার: প্রধানমন্ত্রী