সংখ্যালঘু পরিবারের ওপর হামলার অভিযোগ, গ্রেপ্তার ২

শরণখোলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধি, আরটিভি নিউজ 

মঙ্গলবার, ০৫ মে ২০২৬ , ০৮:১৬ পিএম


সংখ্যালঘু পরিবারের ওপর হামলার অভিযোগ, গ্রেফতার ২
ছবি : আরটিভি

বাগেরহাটের শরণখোলায় একটি হিন্দু পরিবারের ওপর হামলা, বসতঘর ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় থানায় মামলা পর এ দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার (৫ মে) সকালে ভুক্তভোগী রবীন ঢালী ২৬ জনের নাম উল্লখসহ অজ্ঞাত আরও বেশ কয়েকজনের নামে মামলাটি করেন। এর আগে সোমবার (৪ মে) দুপুরে উপজেলার ধানসাগর ইউনিয়নের রতিয়া রাজাপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

গ্রেপ্তাররা হলেন- উপজেলার উত্তর রাজাপুর গ্রামের রাজু শিকদার এবং রাজৈর গ্রামের নাইম ইসলাম।

আরও পড়ুন

মঙ্গলবার (৫ মে) দুপুরে বাগেরহাটের পুলিশ সুপার (এসপি) হাসান মোহাম্মদ নাছের রিকারদার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি ভুক্তভোগী পরিবারসহ আতঙ্কিত হিন্দু সম্প্রদায়ের সার্বিক নিরাপত্তা এবং ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন। 

ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রবীন ঢালীর সঙ্গে ৩-৪ বছর ধরে একই এলাকার প্রবাবশালী সোবাহান হাওলাদারের জমিজমা নিয়ে বিরোধ ও মামলা চলে আসছে। এর জেরে সোবাহান হাওলাদার, তার দুই ছেলে মিরাজ ও আব্দুল্লাহ এবং দুই ভাই সরোয়ার ও দেলোয়ারের নেতৃত্বে ৫০ থকে ৬০ জনের একটি বাহিনী রবীনের বাড়িতে দা, হাতুড়ি, শাবল, লাঠিসোটা নিয়ে বসতঘরে হামলা করে ঘরের চালা, বেড়াচাটকি ও আসবাবপত্র ভাঙচুর করে। এতে বাধা দিতে বাড়ির কয়েকজন নারী এগিয়ে এলে তাদেরও মারধর করা হয়।

হামলায় আহতরা হলেন, রবীন ঢালীর স্ত্রী সীমা রাণী (৩৫), মা দুলালী রাণী (৭০), নানী বেলকা রাণী (৯০) এবং তার দুই খালা বিমলা রাণী (৬০) ও লীলা রাণী (৬৫)। তাদের উপজেলা স্বাস্ব্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

রবীন ঢালী বলেন, ঘটনার সময় আমি বাড়িতে ছিলাম না। ব্যক্তিগত কাজে পাশবর্তী মোরেলগঞ্জ উপজেলায় গিয়েছিলাম। এই সুযোগে সোবাহান হাওলাদার উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে লোক ভাড়া করে এনে আমার বাড়ি জবরদখলের চেষ্টা করেন। তারা আমার বসতঘর, আসবাবপত্র, মালামাল সব ভেঙে গুড়িয়ে দিয়েছে। দুটি ট্রাঙ্কে থাকা স্বর্ণালঙ্কার ও জমির দলিলপত্র লুট করে নিয়ে গেছে। 

তিনি আরও বলেন, আমি দীর্ঘদিন চট্টগ্রামে গার্মেন্টসে কাজ করতাম। সেই ফাঁকে আমার দলিলকৃত জমির মধ্য থেকে ১৫ শতাংশ জমি প্রভাবশালী সোহরাব হাওলাদার তার নামে রেকর্ড করে নেন। পরবর্তীতে বিষয়টি জানতে পেরে স্থানীয়ভাবে বহুবার সালিস বৈঠক হয়। কিন্তু তাতে কোনো সমাধান না হওয়ায় বাগেরহাট আদালতে বাটোয়ারা মামলা করা হয়। মামলা চলমান থাকা অবস্থায় তারা আমার বাড়ি ভাঙচুর ও লুটপাট চালিয়ে বাড়ি থেকে উচ্ছেদ করে জমি দখলের চেষ্টা চালায়। খবর পেয়ে স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা ছুটে এলে তাদের বাধার মুখে হামলাকারীরা চলে যায়। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।

ভুক্তভোগী পরিবারের স্বজন নির্মল হালদার ও বিজন হালদার বলেন, আমাদের চোখের সামনে যেভাবে ত্রাস সৃষ্টি করে ভাঙচুর, লুটপাট চালিয়েছে তা ৭১ সালেও করা হয়নি। কিন্তু আজ স্বাধীন দেশে আমরা নিরাপত্তাহীন।

তিনি আরও বলেন, সোবাহান বাহিনীর কঠোর বিচার এবং হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষের নিরাপত্তার দাবি জানাই সরকারের কাছে।

আরও পড়ুন

উপজেলা পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি বাবুল দাস ও সাধারণ সম্পাদক গোপাল কর্মকার বলেন, হিন্দুপাড়ার এই ঘটনাটি সংখ্যালঘুদের আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তার পাশপাশি ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাই।

এ ব্যাপারে উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক এবং স্থানীয় বাসিন্দা মহিউদ্দিন বাদল বলেন, হামলার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে রবীন ঢালীর বাড়িতে ছুটে যাই। সেখানে গিয়ে ভাঙচুর করার দৃশ্য দেখতে পাই। রবীনের প্রতিপক্ষ এবং বহিরাগত অনেকেই ছিল। তাদেরকে বাধা দিয়েও ফেরানো যায়নি। এরা কোনো দলের লোক না, এরা সন্ত্রাসী। এই ঘটনায় যাতে নিরীহ কোনো লোক ফেঁসে না যায় এবং প্রতৃক দোষীদের শাস্তি হোক এটাই চাই।

শরণখোলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শামিনুল হক জানান, হামলার খবর পেয়ে রবীন ঢালীর বাড়িতে যাই। সেখানে পুলিশ পৌঁছানোর আগে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। ঘটনাস্থল থেকে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র, লাঠিসোটা জব্দ করা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সার্বিক নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত দুই জনকে গ্রপ্তার করা হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

আরটিভি/এমএম

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps

Loading...

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission