ঢাকা সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩

সুন্দরগঞ্জে এক মাসেই ৮ শিশু যৌন নিপীড়নের শিকার, বাড়ছে উদ্বেগ

সুন্দরগঞ্জ (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ০৭ মে ২০২৬, ০৪:২২ পিএম
ছবি: আরটিভি

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় গত এক মাসে শিশু-কিশোরীসহ অন্তত আটটি যৌন নিপীড়নের ঘটনা ঘটেছে। একই ধরনের কৌশল ব্যবহার এবং প্রতিবেশীদের সম্পৃক্ততা স্থানীয়দের মধ্যে গভীর উদ্বেগ তৈরি করেছে।

অভিভাবকরা বলছেন, এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি শিশুদের নিরাপত্তাকে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলছে।

স্থানীয় সূত্র ও থানায় করা অভিযোগ বিশ্লেষণে দেখা গেছে, গত মার্চের শেষ সপ্তাহ থেকে এপ্রিলের শেষ পর্যন্ত উপজেলার বামনডাঙ্গা, বেলকা, দহবন্দ ও ছাপরহাটী ইউনিয়নে এসব ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে বামনডাঙ্গা ইউনিয়নে ঘটনার সংখ্যা ৫টি। ভুক্তভোগী শিশুদের বয়স ৩ থেকে ১৫ বছরের মধ্যে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে অভিযুক্তরা প্রতিবেশী বা পরিচিত ব্যক্তি হওয়ায় শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন পরিবার। অভিযুক্তদের মধ্যে দুজন কিশোর, বাকিদের বয়স ৩৫ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে। তবে যৌন নিপীড়নের ঘটনায় মামলার পর বেশিরভাগ আসামি গ্রেপ্তার হলেও অনেকেই ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছে।

নারী ও শিশু সংগঠনগুলো বলছেন, শিশুদের যৌন নিপীড়নের ঘটনা যেভাবে বাড়ছে, তা ভয়াবহ সামাজিক অবক্ষয়ের ইঙ্গিত দিচ্ছে। সামাজিক সচেতনতা আর শিশুদের দিকে বার্তি নজরদারি বাড়ানো জরুরি। তাদের দাবি, কার্যকর প্রতিরোধ, দ্রুত বিচার ও সচেতনতা ছাড়া এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা কঠিন।

‎মামলার তথ্য বলছে, শিশুদের বাড়ির আঙিনা বা আশপাশ থেকে ডেকে চকলেট, ফল কিংবা টাকার প্রলোভন দেখিয়ে নির্জন স্থানে নেওয়া হয়। আর শিশুরা যখন খেলাধুলা করে সেই সময়কে বেছে নেন তারা। দুপুর-বিকেল বেলার সময় গুলোতে এসব ঘটনা ঘটছে। এরপর সেখানে নিপীড়নের ঘটনা ঘটে। কিছুক্ষেত্রে শিশুদের চিৎকারে স্থানীয়রা উদ্ধার করে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেন। ভুক্তভোগী পরিবারগুলো একাধিক মামলা করেছে। বেশিরভাগ ঘটনায় অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে, তবে কয়েকজন এখনও পলাতক।

অভিভাবকরা জানান, সাম্প্রতিক সময়ে শিশুদের নিয়ে তারা চরম উদ্বেগের মধ্যে আছেন। অনেক সময় সন্তানদের একটু অসতর্কভাবে বাইরে খেলতে দিলেও ভয় কাজ করে।

আরও পড়ুন

তারা বলেন, বেশিরভাগ ঘটনায় দেখা যাচ্ছে প্রলোভন দেখিয়ে বা পরিচিত মুখের মাধ্যমে শিশুদের ফাঁদে ফেলার চেষ্টা করা হচ্ছে, যা তাদের আরও বেশি চিন্তিত করছে। আগে যেসব জায়গা নিরাপদ মনে হতো, এখন সেখানেও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

‎অভিভাবকরা আরও জানান, সন্তানদের সব সময় ঘরে আটকে রাখা সম্ভব নয়। তাই সামাজিক সচেতনতা বাড়ানো, স্থানীয় পর্যায়ে নজরদারি জোরদার করা এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর আরও সক্রিয় ভূমিকা প্রয়োজন। পাশাপাশি শিশুদের নিরাপত্তা বিষয়ে স্কুল ও পরিবারে নিয়মিত সচেতনতা তৈরি করার ওপরও তারা গুরুত্ব দেন।
‎

ঘটনাগুলোর মধ্যে, ২৭ মার্চ দহবন্দ ইউনিয়নের গোপালচর গ্রামে সাত বছরের এক শিশুকে বলাৎকারের অভিযোগ ওঠে তারই প্রতিবেশীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় থানায় মামলা করে ভুক্তভোগীর পরিবার। ২ এপ্রিল বেলকা ইউনিয়নের পূর্ব বেলকা গ্রামে ৭ বছর বয়সী এক শিশুকে প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণের অভিযোগে ৫২ বছর বয়সী এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা হয়; তিনি এখনও গ্রেপ্তার এড়িয়েছেন। ৬ এপ্রিল বামনডাঙ্গা ইউনিয়নে রামদেব গ্রামে তৃতীয় শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে (৯) টাকার প্রলোভন দেখিয়ে নির্জন স্থানে নিয়ে ধর্ষণচেষ্টা চালানোর অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত ৫৫ বছর বয়সী এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

৯ এপ্রিল বামনডাঙ্গা ইউনিয়নের মনিরাম কাজী এলাকায় ৫ বছরের শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ ওঠে এক কিশোরের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত কিশোরকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এরপর ১৩ এপ্রিল একই গ্রামে ১৬ বছরের এক কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা দায়ের করে ভুক্তভোগী পরিবার। এ ঘটনায় আরেক কিশোরকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। গত ১৪ এপ্রিল ছাপরহাটী ইউনিয়নের পূর্ব ছাপরহাটী গ্রামে ১৬ বছরের আরেক কিশোরীকে নির্জন স্থানে নিয়ে ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় মামলা হলেও অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।

এরপর ২০ এপ্রিল একই ইউনিয়নের খামার মনিরাম গ্রামে চকলেটের লোভ দেখিয়ে ৩ বছরের শিশুকে বাড়িতে নিয়ে ধর্ষণ চেষ্টা করে এক কিশোর। যদিও এই ঘটনাটি পারিবারিক চাপে মীমাংসা করতে বাধ্য করা হয়। গত ২৮ এপ্রিল একই ইউনিয়নের মনিরাম কাজী গ্রামে পাঁচ বছর বয়সী আরেকটি শিশুকে ফলের লোভ দেখিয়ে ধর্ষণচেষ্টা করে তারই প্রতিবেশী। এ ঘটনায় ৪০ বছর বয়সী অভিযুক্ত ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

‎গাইবান্ধা জেলা মহিলা সংস্থার সাধারণ সম্পাদক রিক্তু প্রসাদ জানান, শিশু ও নারী নির্যাতনের ঘটনা এখন আর বিচ্ছিন্ন নয়, এটা ভয়ংকর সামাজিক মহামারিতে রূপ নিয়েছে। প্রতিনিয়ত ঘটছে, কিন্তু কার্যকর প্রতিরোধ নেই। এটা স্পষ্টভাবে প্রশাসনিক ব্যর্থতা ও সামাজিক উদাসীনতার ফল। অপরাধীরা বারবার পার পেয়ে যাওয়ায় তাদের মধ্যে কোনো ভয় কাজ করছে না। তিনি বলেন, দ্রুত বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত না করলে এই নৃশংসতা থামানো যাবে না; এখনই কঠোর পদক্ষেপ না নিলে পরিস্থিতি আরও নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবে।

সুন্দরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীন মোহাম্মদ আমানুল্লাহ জানান, যৌন নিপীড়নের এসব ঘটনায় এক মাসে সাতটি মামলা হয়েছে। এ ঘটনায় আসামিদের বেশিরভাগ জেলহাজতে আছেন। যারা পলাতক তাদের গ্রেপ্তারে চেষ্টা চলছে।

আরটিভি/এমএইচজে

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
একটু সহায়তায় বাঁচতে পারে হৃদযন্ত্রে ফুটো নিয়ে জন্ম নেওয়া ছাকওয়ান
কুড়িগ্রামের রাজারহাটে হৃদযন্ত্রে ফুটো নিয়ে জন্ম নেওয়া দুই মাস বয়সী শিশু ছাকওয়ান শ্বাসকষ্টে ভুগছে। উন্নত চিকিৎসার জন্য দ্রুত তাকে ঢাকায় নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকরা। কিন্তু দরিদ্র পরিবারের পক্ষে চিকিৎসার খরচ জোগাড় করা সম্ভব হচ্ছে না। সন্তানের চিকিৎসার জন্য সমাজের বিত্তবান ও হৃদয়বান মানুষের কাছে সহায়তা চেয়েছেন তার বাবা-মা।
একটু সহায়তায় বাঁচতে পারে হৃদযন্ত্রে ফুটো নিয়ে জন্ম নেওয়া ছাকওয়ান
কুড়িগ্রামে ট্রাকচাপায় ৫ মৃত্যুর ঘটনায় আত্মগোপনে থাকা চালক গ্রেপ্তার
কুড়িগ্রামের রৌমারীতে ধানবোঝাই ট্রাকের চাপায় ব্যাটারিচালিত রিকশার পাঁচজন যাত্রী নিহতের ঘটনায় পলাতক ট্রাকচালক মো. লুৎফর শেখকে (৪৫) পাবনা থেকে গ্রেপ্তার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)।
কুড়িগ্রামে ট্রাকচাপায় ৫ মৃত্যুর ঘটনায় আত্মগোপনে থাকা চালক গ্রেপ্তার
মেয়ের বটির কোপে বৃদ্ধা মায়ের মৃত্যু
ফেনীর দাগনভূঞায় মেয়ের বটির কোপে ছেতার বেগম (৮০) নামে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত মেয়ে রিনা আক্তারকে আটক করেছে পুলিশ।
মেয়ের বটির কোপে বৃদ্ধা মায়ের মৃত্যু
প্রসূতির মৃত্যুর পর অবৈধ ক্লিনিক মালিকের কারাদণ্ড
চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় প্রয়োজনীয় চিকিৎসক-নার্স, বৈধ লাইসেন্স ও পরিবেশগত ছাড়পত্র ছাড়াই ক্লিনিক পরিচালনা এবং নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে সিজারিয়ান অপারেশন করার দায়ে লুৎফর হোসেন নামে এক ক্লিনিক মালিককে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। ওই ক্লিনিকে অস্ত্রোপচারের পর এক প্রসূতির মৃত্যুর অভিযোগও উঠেছে।
প্রসূতির মৃত্যুর পর অবৈধ ক্লিনিক মালিকের কারাদণ্ড
জামালপুরে বিদেশি মদসহ গ্রেপ্তার ৫
জামালপুরের বকশীগঞ্জে অভিযান চালিয়ে ২১৭ বোতল ভারতীয় মদ ও একটি মোটরসাইকেলসহ পাঁচ মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি-১)। গ্রেপ্তার পাঁচজনের মধ্যে একজন উপজেলার ধানুয়া কামালপুর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আমান উল্লাহ আমান উদয়। শনিবার (২৪ অক্টোবর) রাতে উপজেলার বৈষ্ণব পাড়া ও লাউচাপড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে ভারতীয় মদসহ ওই ছাত্রদল নেতাসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তাররা হলেন মো. সুজাত মিয়া (৩৭), মো. সিফাত (২০), মো. রুবেল মিয়া (২৭), মো. ফুরকান হোসেন (১৯) এবং আমান উল্লাহ উদয় (২৭)। ডিবি পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, উদ্ধার করা মাদকের আনুমানিক বাজারমূল্য ৬ লাখ ৭৩ হাজার টাকা। বিভিন্ন ব্র্যান্ডের আমদানি নিষিদ্ধ ভারতীয় মদের চোরাচালানে ব্যবহৃত একটি মোটরসাইকেলও জব্দ করা হয়েছে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ডিবি-১ এর এসআই মো. সোহাগ রানার নেতৃত্বে উপজেলার বৈষ্ণব পাড়ার সুজাত মিয়ার বাড়িতে অভিযান চালানো হয়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পালানোর সময় চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে লাউচাপড়া এলাকা থেকে ছাত্রদল নেতা উদয়কে গ্রেপ্তার করা হয়। এ ঘটনায় ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনে বকশীগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা জানিয়েছেন, সীমান্ত এলাকা থেকে চোরাইপথে মদ এনে দেশের বিভিন্ন জেলায় পাইকারি ও খুচরা বিক্রি করতেন তারা। এ বিষয়ে জামালপুর জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীনুর ইসলাম তালুকদার বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। এ ধরনের অভিযান চলমান থাকবে। রোববার দুপুরে মাদকসহ পাঁচজনকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। আরটিভি/ এসআর
জামালপুরে বিদেশি মদসহ গ্রেপ্তার ৫
আরও পড়ুন
ভিডিওর ভয় দেখিয়ে প্রবাসীর স্ত্রীর কাছ থেকে টাকা আদায়, মাদরাসাশিক্ষক গ্রেপ্তার
নিখোঁজের দু’দিন পর বিলের পানিতে মিলল স্কুলছাত্রীর মরদেহ
শিশু যৌন নিপীড়নের মামলা থেকে অব্যাহতি পেলেন হলিউড অভিনেতা টিমোথি
ভোর হলেই বিয়ে, গায়ে হলুদের রাতে বরের মৃত্যু