দিনাজপুরের বিরামপুরে জমি নিয়ে বিরোধের জের ধরে খামারের ৫০০ মুরগি হত্যা, ১২০০ মুরগী চুরি ও খামার ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলার বেপারিটোলার নারায়নপুর গ্রামের মনিরুল ইসলামের সঙ্গে বসতবাড়ির জায়গা নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল তার চাচা নজরুল ইসলামের সঙ্গে। সম্প্রতি এ বিষয়ে আদালতে মনিরুল ইসলামসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন নজরুল ইসলাম। পরে আদালত থেকে মামলার সমন জারি হলে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন মনিরুল ইসলামরা। সেই বিরোধের জের ধরে রোববার (৯ মে) রাতে নজরুলের ছেলে জিসানের মুরগির খামারে দলবল নিয়ে হামলা চালায় তারা। এ সময় খামার ভাঙচুরসহ ১২০০ মুরগী লুট করে নিয়ে যাওয়া হয়। একই সঙ্গে ৫০০ মুরগী হত্যা করা হয়।
এ বিষয়ে আইনের আশ্রয় নিলে হত্যার হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ জিসান ও তার পরিবারের।
লোন নিয়ে লাভের আশায় মুরগী লালন-পালন করলেও এই ঘটনায় খামারির ৫ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেন ভুক্তভোগী।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে অভিযুক্ত মনিরুলসহ তার স্বজনরা জানান, তাদেরকে ফাঁসানোর জন্যই নিজেরাই এসব কর্মকাণ্ড ঘটিয়ে তাদের নাম বলছে।
এছাড়া মুরগি তো রোগেও মারা যেতে পারে বলেও মন্তব্য তাদের।
এলাকাবাসীর দাবি, মুরগিগুলো এভাবে মেরে ফেলা ঠিক হয়নি। জমি নিয়ে শত্রুতা থাকতে পারে তবে প্রাণীকে হত্যা করা ঠিক না। যারা এমন কাজ করেছে তাদের বিচারের আওতায় আনা উচিত।
বিরামপুর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা বিপুল কুমার চক্রবর্তী বলেন, নিরীহ কোনো প্রাণীকেই হত্যা করা যাবে না। তবে শুধু খাবারের উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা যাবে। লোক মারফত জানতে পারি বিরামপুর উপজেলার দিওড় ইউনিয়নের বেপারিটোলার নারায়নপুর গ্রামের এক মুরগির খামারির ৫ শতাধিক মুরগি মেরে ফেলা হয়েছে। এ বিষয়ে অভিযোগ পেলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিরামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম বলেন, ৯৯৯ নাম্বারে ফোন পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে জানা যায় জমি নিয়ে বিরোধের জেরে মুরগী হত্যা করা হয়েছে। এ বিষয়ে অভিযোগ পেলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সেই সাথে বেপারিটোলার নারায়নপুর গ্রামে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ কাজ করছে।
আরটিভি/এমএইচজে




