টিকটকের মডেল বানানোর প্রলোভনে কিশোরীকে পতিতালয়ে বিক্রি

আরটিভি নিউজ

সোমবার, ১১ মে ২০২৬ , ০৭:৫৯ পিএম


টিকটকের মডেল বানানোর প্রলোভনে কিশোরীকে পতিতালয়ে বিক্রি
ফরিদপুর জেলা ও দায়রা জজ আদালত। ছবি: সংগৃহীত

ফরিদপুরে এক কিশোরীকে (১৬) টিকটক তারকা ও মডেল বানানোর প্রলোভন দেখিয়ে পতিতালয়ে বিক্রির দায়ে আদল কাজী (৫৪) নামের এক ব্যক্তিকে সশ্রম দুটি ধারায় পাঁচ বছর ও সাত বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। দুটি ধারায় তাকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

এই টাকা অনাদায়ে তাকে আরও ছয়মাস বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। দুটি সাজা একসঙ্গে ভোগ কার্যকর হওয়ায় তিনি সাত বছর কারাদণ্ড ভোগ করবেন।

সোমবার (১১ মে) দুপুরে ফরিদপুরের মানব পাচার অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) শামীমা পারভীন এই রায় ঘোষণা করেন।

দণ্ডপ্রাপ্ত আদল কাজী ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার পূর্ব গঙ্গাবর্দী এলাকার মৃত ইমান কাজীর ছেলে। রায় ঘোষণার সময় আসামি পলাতক ছিলেন।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইনের ১০ ধারায় আসামিকে ৫ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে তাকে আরও ৬ মাসের কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। এ ছাড়া একই আইনের ১১ ধারায় তাকে ৭ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং ২০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ৬ মাসের কারাদণ্ডের আদেশ দেন বিচারক। দুটি সাজা একই সঙ্গে চলবে বলে রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে।

মামলার নথিপত্র থেকে জানা গেছে, ২০২১ সালের ২০ জুলাই ১৬ বছর বয়সী এক কিশোরীকে উন্নত জীবনের স্বপ্ন দেখিয়ে এবং টিকটক মডেল বানানোর প্রলোভন দিয়ে বাড়ি থেকে অপহরণ করা হয়। পরে তাকে ফরিদপুর শহরের রথখোলা এলাকায় একটি পতিতালয়ে বিক্রি করে দেওয়া হয়। সেখানে তাকে আটকে রেখে জোরপূর্বক দেহব্যবসায় বাধ্য করা হচ্ছিল।

আরও পড়ুন

ঘটনাটি জানতে পেরে ২০২১ সালের ২৭ জুলাই রাতে র‍্যাব-৮ এর একটি দল রথখোলা এলাকায় অভিযান চালায়। অভিযানে ওই কিশোরীকে উদ্ধার করা হয় এবং হাতেনাতে আদল কাজীকে গ্রেপ্তার করা হয়। ওই রাতেই র‍্যাব-৮ এর ডিএডি মো. আবুল বাশার বাদী হয়ে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানায় একটি মামলা করেন। মামলায় আদল কাজী ছাড়াও সুমন ওরফে রাসেল নামের এক অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছিল।

মামলাটি তদন্ত করেন ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শ্রী প্রসাদ কুমার চাকী। তদন্ত শেষে ২০২১ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর তিনি আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেন। তদন্তকারী কর্মকর্তা তার প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন, আসামি আদল কাজী সংঘবদ্ধ মানব পাচার চক্রের সদস্য এবং তিনি কৌশলে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে নারীদের সংগ্রহ করে দেহব্যবসায় বাধ্য করতেন। তবে, মামলার অন্য আসামি সুমনের সঠিক নাম-ঠিকানা না পাওয়ায় তাকে অব্যাহতি দেওয়ার আবেদন করা হয় এবং কেবল আদল কাজীকে অভিযুক্ত করে বিচার শুরু হয়।

আরটিভি/কেডি  

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps

Loading...

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission